আপডেট : ০২ March ২০২১
নতুন সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম। অনলাইন প্ল্যাটফরমকে ব্যবহার করে প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ এই জঙ্গি সংগঠনটি। তবে জঙ্গি সংগঠনগুলোর যে-কোনো অপতৎপরতা কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে। সম্প্রতি নিষিদ্ধ এই জঙ্গি সংগঠনটির বেশ কিছু সদস্যকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটকদের অধিকাংশই পারিবারকি কারণে হতাশ ছিল। আর জঙ্গি সংগঠনগুলো এ ধরনের ব্যক্তিদেরই বেশি টার্গেট করছে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। গত কয়েকদিনে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী টঙ্গী, কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া থেকে আনসার আল ইসলামের বেশ কিছু সংখ্যক জঙ্গিকে আটক করে র্যাব। আটকদের মধ্যে নারী সদস্যও রয়েছে। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানায়, আত্মগাপনে থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা গোপন বৈঠক করছে। অনলাইনসহ বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে দলে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করছে। গত রোববার টঙ্গী থেকে মো. আশিক ইকবাল জনি নামে আনসার আল ইসলামের এক সদস্যকে পিস্তল-গুলিসহ আটক করে র্যাব-২। এর আগের দিন রফিকুল ইসলাম রুবেল নামে আনসার আল ইসলামের আরেক সদস্যকে আটক করে তারা। গত রোবাবর র্যাব-৪-এর আরেকটি টিম সাভার, ভাসানটেক, তেজগাঁও ও যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে আনসার আল ইসলামের ৪ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলো-মো. কলিম উল্লাহ, মো. তাসকিন হাসান আকন্দ, মো. জাহাঙ্গীর মিয়া ও মো. আলী রাসেল। এ ছাড়া রাজধানীর পল্টন, ভাটার ও শেরপুর জেলা থেকে গত ১ ফ্রেব্রুয়ারি এক নারীসহ আনসার আল ইসলামের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি একই সংগঠনের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে সংগঠনটির ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বছরের মে মাসে পাবনা থেকে আনসার আল ইসলামের সদস্য আব্দুল্লাহ আকাশ নামে এক জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের পর তিনি র্যাবকে জানান, তারা ‘মুসলিম ভিলেজ’ প্রতিষ্ঠা করে কাজ করছিল, যেখানে মানুষের তৈরি কোনো আইন থাকবে না। সরকারকে কেউ খাজনাও দেবে না। তাদের এই গ্রামকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে রক্ষার জন্য তারা অস্ত্র-গোলাবারুদও মজুত করছিল বলে স্বীকার করেন আকাশ। বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার আনসার আল ইসলামের সদস্যদের কাছ থেকে উগ্রবাদী বই, লিফলেট, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তাররা র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা বিভিন্ন ধরনের পেশার আড়ালে আনসার আল ইসলামের হয়ে সাধারণ মানুষকে দলে ভেড়াতে অনলাইনের মাধ্যমে উগ্রবাদী লেখা, ভিডিও এবং লিফলেট প্রচার করে। এভাবে অনলাইনে তাদের প্রচারণায় কেউ সাড়া দিলে কিংবা কৌতূহল দেখালে পরে তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে তাকে দলে ভেড়াতে বিভিন্ন ধরনের মোটিভেশন করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হতাশাগ্রস্ত কিংবা পারিবারিকভাবে সমস্যাগ্রস্ত মানুষকেই তারা বেশি টার্গেট করে। এ ধরনের ব্যক্তিদের ধর্মের অপব্যাখা দিয়ে সহজেই যে-কোনো ধরনের কাজ করিয়ে নেওয়া যায়। সম্প্রতি র্যাবে হাতে গ্রেপ্তারদের সাথে কথা বলে এমনটাই জানতে পেরেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, ২০১৭ সালের মার্চ মাসে আনসার আল ইসলামকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। এর আগে এই জঙ্গি সংগঠনটির সদস্যরা অনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য ছিল। তাদের ফেসবুককেন্দ্রিক একটি গ্রুপও ছিল। তখনো তারা প্রচার-প্রচারণার জন্য অনলাইন প্ল্যাটফরমকেই বেছে নিয়েছিল। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে নিষিদ্ধ করা হয় ২০১৫ সালের মে মাসে। এরপর এই দলের সদস্যরা নাম পরিবর্তন করে আনসার আল ইসলাম নাম ধারণ করে। ব্লগার, লেখক, প্রকাশক, সমকামীসহ ভিন্ন মতাদর্শের মানুষের ওপর বেশ কিছু আক্রমণে অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে। র্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে তারা এখন আর সংগঠিত অবস্থায় নেই। তারপরও জঙ্গিদের যে-কোনো ধরনের অপতৎপরতার বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে। তিনি আরো জানান, সম্প্রতি গ্রেপ্তার আনসার আল ইসলামের বেশ কিছু সদস্যের বিষয়ে জানা যায়, জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত হওয়ার আগে পারিবারিকভাবে তারা হতাশাগ্রস্ত ছিল।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১