বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ৩০ January ২০২১

শরণখোলায় অননুমোদিত ইট ভাটার রমরমা ব্যবসা


বাগেরহাটের শরণখোলায় অননুমোদিত ইট ভাটার রমরমা ব্যবসা শুরু করেছেন স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। প্রশাসনের নাকের ডগায় কিছু অসাধু কর্মকর্তা, কর্মচারীদের ম্যানেজ করে সরকার দলীয় ছত্র-ছায়ায় ওই অবৈধ কারবার চালাচ্ছেন। বনভূমি উজাড় করে উপজেলা জুড়ে প্রায় শতাধিক জায়গায় বসানো এসব ভাটা আগুন দিয়ে জ্বালানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো আবাসিক জনবসতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে, সড়কের পাশে, এমনকি কৃষি জমিও রেহাই পায়নি এই কারবারীদের হাত থেকে। ভাটায় দেধারছে পুড়বে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ। অগ্নিশিখায় শুকিয়ে যাবে আশেপাশের গাছপালা। কালো ধোয়ায় আকাশ বাতাস দূষিত হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে। ফলে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে আর মানুষের জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন কমবে। ভাটার বিষাক্ত ধুলা বালি, কালো ধোঁয়া ও আগুনের তাপে ধ্বংস হয়ে যাবে এলাকার সবুজ বনজ সম্পদ এবং মাতৃত্ব হারাবে ফলজ গাছ। অবস্থা এমন হলে ভাটার আগুনের তাপে উর্বরতা হারিয়ে দিন দিন অভিশপ্ত মরুভুমিতে পরিনত হবে ফসলি জমি। অন্যদিকে বিশ্বে মহামারি করোনার মধ্যে শ্বাস কষ্টজনিত রোগে ভুগবে ভাটা এলাকার শিশু সহ সব বয়সের মানুষ। বির্পযয়ের মুখে পড়ছে এলাকার জনস্বাস্থ্য। ভাটাগুলো লোকালয়ের একেবারে কাছে হওয়ায় চরম মূল্য দিতে হবে স্থানীয় বাসিন্দাদের। পরিবেশ সংরক্ষন আইন অমান্য করে এক শ্রেনীর প্রভাবশালীরা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ভাটা নির্মাণ করেছে।

সচেতন মহলের দাবি পাঁজার নির্গত ধোঁয়ায় বায়ু দূষিত হয়ে নানা রোগ ব্যাধিসহ কৃষিতে বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়বে। একের পর এক প্রাকৃতিক দূর্যোগে বিপর্যস্থ শরণখোলায় পরিবেশ ধ্বংশকারী এসব অবৈধ কর্মকান্ড চলতে থাকলে অচিরেই এক মহা বিপর্যয় শুরু হতে পারে এমন আশঙ্কায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত। সরকারি আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ওই প্রভাবশালী চক্রটি বছরের বছর ধরে প্রকাশ্যে পরিবেশের এমন অবৈধ ধংসযজ্ঞ চালালেও রহস্যজনক কারনে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ঠ কোন দপ্তর কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

অন্যদিকে ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮৯ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও আবাসিক এলাকার ৩ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কোন ধরনের ইটের ভাটা বা পাঁজা স্থাপন করা যাবেনা এই নিয়ম এখন কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ।

সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে, দেখা যায় এমন অবৈধ কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে এলাকার অতি মুনাফালোভী, বৃত্ববান ও প্রভাবশালী হোগলপাতি এলাকার বাসিন্দা মজিবর ফরাজী, কালীবাড়ি এলাকার লিটু হাওলাদার, বকুলতলা এলাকার শামীম ফরাজী, ধানসাগর এলাকার লোকমান, জামাল হওলাদার সহ আরো অনেকে। এছাড়াও তাফালবাড়ী, রাজাপুর, বাংলা বাজার ধানসাগর সহ উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন এলাকায় ভাটা পোড়ানোর প্রস্তুতি দেখা গেছে। তারা ফসলি জমির মাটি কেটে ইট তৈরি করছে আর ভাটার পাশে হাজার হাজার মন গাছের বিশাল স্তুুপ রেখে দিয়েছে।

ভাটা মালিক মজিবর রহমান হাওলাদার বলেন, ইট পোড়ানোর জন্য আমাদের কোন অনুমতি নাই। তবে, ২/৩টি অফিসে কিছু চা-পানির খরচ দিয়ে এই ব্যবসা করছি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে,উপজেলার কয়েক জন সমাজ সেবক বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন অনৈতিক কর্মকান্ড কোন ভাবেই চলতে দেওয়া ঠিক হবেনা। এছাড়া আমাদের এ অঞ্চলে ইট-ভাটার দেদার প্রচলন করে গেছেন সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুজ্জামান স্যার । তিনি একটি বে-সরকারী স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তৎকালীন সময় উপজেলার বিভিন্ন ভাটা হতে হাজার হাজার ইট উপঢৌকন হিসেবে গ্রহন করতেন।

এ ব্যপারে বাংলাদেশ পরিবেশবাদী আইনজীবি এসোসিয়েশন (বেলা) এর সিনিয়র আইনজীবি এ্যাডভোকেট সাইদ আহম্মেদ কবির জানান, ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৩ অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রসাশক এর কার্যালয়ের অনুমতি ছাড়া কোন ইট-ভাটা, পাঁজা প্রস্তুত করা যাবেনা এবং কাঠ বা গাছ জ্বালানি হবেনা। অবৈধ এই কর্মকান্ডের কারনে মানুষ রোগাক্রান্ত হবে। মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিবে। এই অঞ্চলের উদ্ভিদ, ফলজ ও বনজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা আশা করবো সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর পরই পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ঠ জেলা প্রসাশক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

জানতে চাইলে শরণখোলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসীম উদ্দিন জানান, ভাটার কারনে আমাদের ফসলি জমি নস্ট হচ্ছে পাসাপাসি ঐ জমিতে ফসল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে তাই আমরা এই কাজের বিরোধী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন জানান, ইট পোড়ানোর কোন অনুমতি দেইনি, তবে কোথায় পোড়ানো হচ্ছে আমাকে বলেন ব্যবস্থা নিচ্ছি।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১