আপডেট : ০৯ December ২০২০
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী রাজধানীতে মাত্র ১৫টি বেসরকারি মানসিক হাসপাতালের অনুমোদন রয়েছে। অথচ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যাক হাসপাতাল চোখে পড়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, নতুন করে বেসরকারি মানসিক হাসপাতাল-ক্লিনিক নিয়ে ভেবে দেখার সময় এসেছে। শর্তপূরণে ব্যর্থ হলে কেবল কার্যক্রম স্থগিত হয়, স্থায়ীভাবে এসব হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করার কথাও ভাবছেন তারা। বেশিরভাগই বেসরকারি হাসপাতাল দেখা যায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের উল্টোদিকে মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোড, রিংরোডসহ শ্যামলী এলাকাতে। এগুলোর অধিকাংশেরই লাইসেন্স নেই। নেই সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত বেড সংখ্যা, সে অনুপাতে চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী। এসব হাসপাতালে একইসঙ্গে চলছে মানসিক রোগ এবং মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র হিসেবে। চিকিৎসকরা বলছেন, মানসিক রোগ এবং মাদকাসক্তকে এক করে এসব বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা চলছে যা কিনা আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত নয়। এসব মানসিক হাসপাতালের বেশিরভাগেরই পরিবেশ উপযুক্ত নয়, তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাও বিজ্ঞানসম্মত নয়। মারধর, বাগান করানো, গান গাওয়ানোসহ সব অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এখানে চিকিৎসা চলে। রোগীদের কাউন্সিল করানোর দরকার হলেও সেখানে কাউন্সিলর নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত শর্ত না মেনেই প্রকাশ্যে তারা চিকিৎসার নামে এসব চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এসব ক্লিনিক-হাসপাতালে তালা ঝুললেও কয়েকদিন পরই সেগুলো খুলে দেওয়া হয়। আর এটা সম্ভব হচ্ছে প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাবে। বিভাগভিত্তিক লাইসেন্স পাওয়া বেসরকারি পর্যায়ে মাদকাসক্তি পরার্মশ কেন্দ্র মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ও মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রের তালিকা থেকে দেখা যায়, তাদের বেশিরভাগেরই বেড সংখ্যা ১০টি করে উল্লেখ রয়েছে। অথচ ভেতরে রয়েছে আরো বেশি। ১০ শয্যা করে লাইসেন্স নেওয়ার কারণ হচ্ছে-যাতে তারা চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য জনবল অনুপাতে কম দেখাতে পারে। একইসঙ্গে এসব ক্লিনিকের নেই সঠিক অবকাঠামো। নিয়ম অনুযায়ী, ১০ শয্যার বেডের মানসিক হাসপাতাল-ক্লিনিকের জন্য তিনজন চিকিৎসক, ছয়জন নার্স ও তিনজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকা বাধ্যতামূলক। আর এ শয্যাসংখ্যা যত বাড়বে সে হারে জনবলও বাড়ার কথা। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা: ফরিদ উদ্দিন মিঞা বলেন, প্রতি মাসে বেসরকারি মানসিক হাসপাতালগুলোতে অধিদপ্তর থেকে অভিযান পরিচালনা করার কথা থাকলেও কেবল লোকবল সংকটের কারণে তারা সেটি পারছেন না। জনবল তাদের প্রধান সমস্যা। আর অধিদপ্তরের এ দুর্বলতার কারণেই বেসরকারি মানসিক হাসপাতালগুলো তাদের ইচ্ছেমতো করে পরিচালনা করছেন। তবে সম্প্রতি মাইন্ড এইড হাসপাতালে পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিমের মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবছেন তারা। ঢাকা মহানগরীর জন্য পৃথকভাবে টিম করে দেওয়া হয়েছে, তারা ইন্সপেকশন করছে। লাইসেন্স যেমন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেয় তেমনি শর্ত ভঙ্গ করলে লাইসেন্স স্থগিত করার কিংবা বাতিল করার ক্ষমতাও রাখে। ইতোমধ্যে দেশের সব সিভিল সার্জন এবং বিভাগীয় পরিচালককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারাই আমাদের শর্ত মানবে না, কিংবা না মেনে এতদিন পরিচালিত হয়েছে সেটা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বন্ধ অথবা জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছি। আমরা বেসরকারি মানসিক হাসপাতাল-ক্লিনিক নিয়ে নতুন করে ভাবছি। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক ডা: শহিদুল্লাহ বলেন, ব্যাঙের ছাতার মতো বিভিন্ন স্থানে বেসরকারি মানসিক হাসপাতাল গড়ে ওঠেছে। আর এসবের বেশিরভাগই জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালের কাছাকাছি। বিভিন্নভাবে এসব হাসপাতালে রোগীরা আসছেন, ভর্তি হচ্ছেন কিন্তু তারা কতটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন সেটা বড় প্রশ্ন। কারণ এখানে বিজ্ঞানসম্মতভাবে কোনো চিকিৎসা হয় বলে মনে হয় না। তাই এখানে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে, কেউ যেন চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা করার সুযোগ না পায়। কোনো নাগরিক যেন অপচিকিৎসার শিকার না হয় সেটি দেখা, তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা: হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের লাইসেন্স নিয়ে মানসিক রোগের চিকিৎসা দেওয়া যাবে না। কারণ মাদকাসক্তি নিজেই একটি রোগ-এটা আন্তর্জাতিকভাবে সংজ্ঞায়িত। মাদকাসক্তি যেহেতু একটি রোগ তাই এর চিকিৎসায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, পরামর্শ কেন্দ্র, পুনর্বাসন কেন্দ্র-এসব কিছুর লাইসেন্স এবং তত্ত্বাবধান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন হতে হবে। তাদের কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে, নয়তো অপচিকিৎসা চলতেই থাকবে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১