আপডেট : ১৭ June ২০২০
আষাঢ়ের শুরতেই ভারী বর্ষণে লন্ডভন্ড কক্সবাজারের বেশির ভাগ এলাকা আষাঢ় মাসের শুরুতে ভারি বর্ষণে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে কক্সবাজার। মঙ্গলবার বিকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি বুধবার সারা দিন ঝড়েছে অঝোর ধারায়। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রেড জোন হিসাবে করোনা পরিস্থিতির কারনে সাধারণ মানুষঘর বন্দি থাকলে দিনের বেলায় কিছু খেটে খাওয়া মানুষ বের হতো কাজের সন্ধানে কিন্তু অবিরাম বর্ষণে তারাও এখন ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজার পৌর এলাকা সহ জেলা শহরের বেশিরভাগ এলাকা এবং উপজেলা পর্যায়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। এ সময় অনেকে বর্ষা মৌসুমে প্রতিনিয়ম পানি প্রবাহের নালা পরিষ্কার রাখা সহ স্লুইস গেটগুলো চালু রাখার দাবি জানান। শহরের বাজারঘাটার ব্যবসায়ী আশীষ দে বলেন, কাল রাত থেকে যখন ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। তখন আমাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে কারন আমরা বুঝতে পেরেছিলাম দোকানে পানি ঢুকতে হয়েছেও তাই সকালে এসে দেখি দোকানে প্রচুর পানি। হঠাৎ করে ভারী বৃষ্টি হবে এটা চিন্তা করিনি তাই কিছু জিনিস উপরে উঠাতে ভুলে গেছি। তবে শুধু পানি নয় সাথে বেশ কিছু ময়লা আবর্জনাও ঢুকেছে সেগুলে পরিষ্কার করতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। বড় বাজার এলাকার ব্যবসায়ি নাছির উদ্দিন বলেন, ভারী বৃষ্টির পানিতে আমাদের দোকানে হাটু পানি ঢুকেছে। এতে দোকানে মসলা, লবণ, চিনিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ভিজে গেছে। এতে অন্তত ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, আমরা প্রায় সময় বলে থাকি বড় বাজার এলাকায় আসার নালাটি সব সময় পরিষ্কার রাখার জন্য তবে কে শুনে কার কথা। আগে বার্মিজ মার্কেট এলাকায় কিছু নালা দখলমুক্ত করা হয়েছিল কিন্তু সেটা এখন আবার ভরাট হয়ে গেছে অথবা দখল হয়ে গেছে বলে আমরা জেনেছি তাই এখন আবারো বাজারঘাটা এবং বড় বাজারে পানি হচ্ছে। এদিকে ঘোনারপাড়া এলাকায় দিন মজুর রওশন আলী বলেন, লকডাউনে কারণে আমরা চরম খাদ্য সংকটে আছি সে কেউ বুঝতে চায় না। তার উপর এখন প্রচুর বৃষ্টি আমাদের জীবন বেঁচে থাকা মুশকিল করে দিয়েছে। আর সামান্য বৃষ্টিতে মনে হচ্ছে কোন ভুতুড়ে নগরীতে এসে গেছি। রাস্তায় এখন ময়লা আবর্জনা ভরপুর। অনেক পাহাড় দখলকারীরা বৃষ্টির সময় পাহাড়ের মাটি কেটে দিয়ে পানির সাথে ভাসিয়ে দিচ্ছে এতে রাস্তায় এবং নালায় পাহাড়ের মাটিতে ভরে গেছে। এদিকে টেকনাফ,উখিয়ায় অন্তত ১ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে দাবী করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। আলাপ কালে টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবদুল্লাহ মনির বলেন,আষাঢ়ের শুরুতে এমন ভারী বর্ষণ হবে সম্ভবত কেউ আগে ধারনা করেনি। তাই অনেকে প্রস্তুতি নিতেও পারেনি। এছাড়া রোহিঙ্গাদের কারণে টেকনাফ উখিয়ায় এখন কোনো পাহাড় নেই তাই এখানে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নেই। তাই পাহাড় ধ্বসের ঘটনা যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে। এদিকে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে মহেশখালী বদরখালী সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছি। কুতুবজোম সহ আশপাশের এলাকা গুলোতে কোন গাড়ী যাওয়া আসা করতে পারছেনা। দ্বীপের বেশির ভাগ মানুষ অনেকটা গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। এ ব্যপারে কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন কবির বলেন, হঠাৎ করে প্রচুর বৃষ্টি হওয়াতে সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। তবে নালা নর্দমা ভরাট হওয়ার প্রধান কারণ পাহাড় কাটা।
(পৌরসভায় নালা ও স্লুইসগেইট পরিষ্কার রাখার দাবী )
মাহাবুবুর রহমান.কক্সবাজার
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১