আপডেট : ২২ October ২০১৯
ছেলে খুবই মেধাবী। লেখাপড়ায় মনযোগী। সব পাবলিক পরীক্ষায় রেজাল্ট ভাল। তাই শত কষ্টেও ছেলের চাহিদা মতো ব্যয়বহুল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিলে ভর্তি করা হয় তাকে। পরিবারের স্বপ্ন ছেলে বাবার মতো আদর্শ শিক্ষক হবে। দাদাও শিক্ষক ছিল। তাই শিক্ষকতার প্রতি আলাদা দরদ সবার। মেধাবীরা শিক্ষক হলে এ দেশে মেধাবী ছাত্র তৈরি হবে এমন ভাবনাতেই ছেলের প্রতি আলাদা নজরদারি। শারীরিক অক্ষম বাবা শিক্ষকতার পাশাপাশি বাড়ির পাশে ওষুধের ব্যবসাও করতেন আরেকটু টাকার চাহিদা পুরনে। অনেক কষ্ট তবুও ছেলে শিক্ষক হবে এমন স্বপ্নের কারিগর বাবা ছেলের হাতেই নৃসংশ ভাবে খুন হলো। গাজীপুরের শ্রীপুরে কলেজের টাকা চাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির সময় ক্ষিপ্ত হয়ে বাবাকে পিটিয়ে খুন করে ইমরান হাসমি রাতুল (২৪)। রাতুল ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। সে জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসিতে ভাল রেজাল্ট করেছে। আজ মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। পরে ছেলে রাতুল নিজেই খুনের কথা বলে ৯৯৯ ফোন দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। নিহত ওই শিক্ষকের নাম আবদুল ওয়াদুদ ওরফে বাবুল মাস্টার (৫৫)। তিনি একই গ্রামের মৃত আবদুল রশিদ মাস্টারের ছেলে। নিহত শিক্ষক পাশের কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও কোহিনুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। স্বজনরা জানান, ছেলের পড়াশুনার চাহিদার চেয়ে বেশি টাকা দেওয়া হতনা । নষ্ট হয়ে যাবে বেশি টাকা পেয়ে এ ভয়ে সীমিত টাকা দেওয়া হতো। রাতুল খুবই নম্রভদ্র ছিল। রাতুলের বাবার একটি পা নষ্ট। কৃত্রিম পা লাগিয়ে চলাফেরা করেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে কি থেকে যে কি হয়ে গেল। বাপ ছেলে মধ্যে টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি। এর আগে কখনো এমন চিত্র আমাদের চোখে ধরা পড়েনি। শিক্ষক হওয়ার সব স্বপ্ন ভঙ্গ করে মেধাবী রাতুল এখন বাবার খুনি। শ্রীপুর থানার এসআই হাবিবুর রহমান জানান, কলেজের জন্য টাকা চাওয়া নিয়ে বাবা ছেলের মধ্যে গতরাতে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা লোহার রট দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করে রাতুল। এতে বাবা গুরুতর আহত হয়। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জয়নব জানান, নিহতের মাথায় আঘাতের কারনে বেশি রক্তক্ষরন হয়ে তার মৃত্যু ঘটে। শ্রীপুর থানার ওসি লিয়াকত আলী জানান, বাবা নিহত ঘটনায় ছেলে রাতুলকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এ ঘটনায়।
স্থানীয়রা জানান, রাতুল খুব ভাল ছেলে। সে পড়াশুনায় খুবই মেধাবী। পরিবারসহ আশাপাশে সে অতিভদ্র বলে সমাদৃত। তবে রাতুল সামান্য মানসিক সমস্যায় ভুগত। কথা বলত কম। নীরব থাকতেই পছন্দ করত। এমন ঘটনা সে সুস্থ জ্ঞানে করতে পারে তা আমরা বিশ্বাস করিনা।
পরে রাতুল নিজেই ৯৯৯ কল দিয়ে এ সংবাদ পুলিশকে দেয়। তাঁকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে পুলিশ।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১