আপডেট : ২৩ November ২০১৮
লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম অভিযোগ করে বলেছেন, সরকারি ও আধা সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দলীয় আনুগত্য স্বীকার করার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে ফিউশন হান্ট হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদ বলেন, দেশে সুশাসন নেই, আইনের শাসন সম্পূর্ণ অনুপস্থিত, দুর্নীতিবাজ এবং ক্ষমতালোভী রাজনীতিবিদদের কারণে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান আজ প্রশ্নবিদ্ধ। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দলমত নির্বিশেষ সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে ২০-দলীয় জোটের প্রধান এই সমন্বয়ক বলেন, সৎ, যোগ্য ও জনগণের মনের মানুষকেই ফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। বিতর্কিত ব্যক্তিরা জোটের মনোনয়ন পাবেন না। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অলি আহমদ ১২ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রস্তাবনাগুলো হলো— ১. বিগত ১০ বছর যে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দলীয় আনুগত্যের মাধ্যমে সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছেন তাদেরকে নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। সকলের প্রতি সমান আচরণ করা হবে। ২. যে সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন তাদেরকে ভবিষ্যতে বেতনের পাশাপাশি বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। ৩. পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিভাগীয় শহরে পৃথক হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করা হবে। তাদের ছেলেমেয়েদের স্বল্প বেতনে ডাক্তারি পড়ারও সুযোগ দেওয়া হবে। ৪. সকল গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে সর্বদা নিরপেক্ষ রাখার বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করা হবে। দলীয়করণ চিরতরে বন্ধ করা হবে। ৫. একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। মামলাও চলছে। অথচ নির্বাচন কমিশন (ইসি) নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। ৬. নির্বাচন পরিচালনায় যেসব কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন পুলিশ তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের নামে হয়রানি করছে। বিষয়টি তাদের এখতিয়ারের বাইরে। নির্বাচনী দায়িত্বে যারা নিয়োজিত থাকবেন ইসিকে তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। ইসিকে পুলিশের এমন বাড়াবাড়ি বন্ধ করতে হবে। ৭. সকল ক্ষেত্রে নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ৮. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন করা হবে ৯. বিচার, শিক্ষা, প্রশাসন, দুদক এবং ইসিসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। ১০. যে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সভাপতি রয়েছেন তাদের সরাতে হবে। ১১. যেসব প্রকল্পে সরকার সাবেক সচিবদের নিয়োগ দিয়েছে তাদের প্রকল্প থেকে সরিয়ে দিতে হবে। ১২. প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১