আপডেট : ২৮ August ২০১৮
হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের জন্য বিনামূল্যের চেয়ার সরবরাহ করা হলেও তাতে নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এবার তো সেগুলো রীতিমতো ‘উধাও’ হয়ে গেছে। কিটকট ব্যবসায়ীদের দাবি, নীল রঙের ওই চেয়ারগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শিগগিরই বিনামূল্যের চেয়ার না নামালে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রায় ১ হাজার ২০০ চেয়ার বসানোর অনুমতি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০০ চেয়ার বসানো হয়। মূল চেয়ারের অর্ধেক উন্মুক্ত অর্থাৎ বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য রাখতে ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারিসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করেন। আদেশ বাস্তবায়নের জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। হাইকোর্টের আদেশের পর ‘নীল রঙ’ দিয়ে বিনামূল্যের চেয়ারগুলো চিহ্নিত করা হয়। ওই চেয়ারে সৈকতে আগত দর্শনার্থীরা ভাড়া ছাড়াই বসতে পারবেন। কিন্তু এই চেয়ারে বসতে গিয়ে বিভিন্ন সময় নানা হয়রানির শিকার হতে হয় পর্যটকদের। এমনকি আগের মতোই টাকা আদায় করে অসাধু কিটকট ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে পর্যটকদের সঙ্গে ঝগড়া, জেলা প্রশাসনের অভিযানসহ নানা ঘটনা ঘটে। এরপরও মাঝেমধ্যে দেখা মিলত ওই চেয়ারের। কিন্তু গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে সৈকতের কোথাও ‘নীল রঙ’ চেয়ারের দেখা মিলছে না। সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটক অধ্যাপক আজমল হুদা ও স্থানীয়রা জানান, বিনামূল্যের চেয়ার কোথায় রাখা হয়েছে তা জানতে চাওয়া হলে নানা হয়রানি ও লাঞ্ছিত করছে চেয়ার ভাড়া দেওয়ার দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা। তাই বাধ্য হয়ে ভাড়া দিয়েই চেয়ারে বসছেন তারা। জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের অবহেলার কারণে কিটকট ব্যবসায়ীরা এই নৈরাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির নিয়োগ করা বিচকর্মীদের ইনচার্জ মাহবুব আলম বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে বিনামূল্যের চেয়ার দেখা যাচ্ছে না। অনেক পর্যটক ও স্থানীয়রা বিনামূল্যের চেয়ার না পেয়ে তাদের (বিচকর্মী) কাছে অভিযোগ করেন। বিষয়টি বেশ কয়েকবার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। সমুদ্র সৈকত কিটকট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সোহেল বলেন, ‘বিনামূল্যে হওয়ার কারণে চেয়ারগুলো ইচ্ছামতো ব্যবহার করেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। এ কারণে সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। চেয়ারগুলো মেরামত করা হচ্ছে, শিগগিরই তা আবারো দেখতে পাবেন।’ কক্সবাজার চেম্বার অ্যান্ড কমার্স সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘কিটকট ব্যবসায়ীরা হাইকোর্টের আদেশ তোয়াক্কা করছে না।’ কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (পর্যটন ও প্রটোকল) সরওয়ার আলম বলেন, ‘নীল রঙের চেয়ার উধাও হওয়ার বিষয়টি জানার পর কিটকট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা নষ্ট হয়ে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়েছে। এরপরও ওই চেয়ার না নামালে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১