আপডেট : ২৯ June ২০১৮
উৎপাদিত পণ্য আহরণে অপর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার, কোল্ড স্টোরেজের অপ্রতুলতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর মোট কৃষিপণ্যের ১২ এবং শাক-সবজি ও ফলমূলের ২০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে। এতে কৃষকের পাশাপাশি দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আর্থিকভাবে। পরিস্থিতি উত্তরণে কৃষিপণ্য সংরক্ষণব্যবস্থা জোরদারের সঙ্গে রফতানি বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ইউএসএইডের অ্যাগ্রিকালচার ভ্যালু চেইনস (এভিসি) প্রকল্পের সহযোগিতায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাক্টিস’ (গ্যাপ) শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিনারে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আবদুর রউফ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আজহার আলী, ডিসিসিআই পরিচালক ইমরান আহমেদ, ডিসিসিআই মহাসচিব এএইচএম রেজাউল কবির বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক কাজী মো. সাইফুল ইসলাম। আবদুর রউফ বলেন, আমাদের প্রচলিত কৃষি খাত ক্রমশ অর্থনৈতিক কৃষির দিকে রূপান্তরিত হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কৃষির উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি কৃষিপণ্য রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এর বহুমুখীকরণের প্রতি আরো গুরুত্ব দেওয়ার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতে গ্যাপের বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। খুব শিগগিরই কৃষি নীতি ২০১৮ ঘোষণা করা হবে, যেখানে গ্যাপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আজহার আলী বলেন, বাংলাদেশে কৃষি খাত উন্নয়নে গ্যাপের ব্যবহার সম্প্রসারণে অপর্যাপ্ত ধারণা ও প্রশিক্ষকের অভাব এবং তা সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা রয়েছে। এসব সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। ইমরান আহমেদ বলেন, জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ খাতের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছর মোট রফতানির মাত্র ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ কৃষিপণ্য রফতানির মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘কৃষিভিত্তিক পণ্য রফতানিতে আমাদের আরো গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের দেশগুলোয় কৃষিপণ্য রফতানি বাড়াতে ‘গ্যাপ’ বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে’। উৎপাদন বৃদ্ধি, শাক-সবজি সংরক্ষণ ও ফলমূল পাকানোর ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক নানা ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার কৃষিপণ্য রফতানিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলেও জানান তিনি। মূল প্রবন্ধে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বারোপ করে কৃষি খাতের উদ্যোক্তাদের ‘গ্যাপ’র ব্যবহার বাড়ানোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১