আপডেট : ০৪ May ২০২০
কক্সবাজার জেলার টেকনাফে শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিম বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার দুই বাংলাদেশী স্থানীয় কৃষক অপহরণের পাঁচদিন অতিবাহিত হলে ও জীবিত অথবা মৃত উদ্ধার হয়নি। এ নিয়ে স্হানীয় এলাকাবাসির মাঝে ক্ষোভ, আতংক ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসি গত শুক্রবার কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করে বিশাল জমায়েত এবং বিক্ষোভ ও করেছে। রোহিঙ্গা ডাকাত আবদুল হাকিমের নেতৃত্ব সশস্ত্র রোহিঙ্গারা গত ২৯শে এপ্রিল বুধবার রাতে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মীনাবাজার এলাকার ধানক্ষেত থেকে স্হানীয় ৬ জন কৃষককে অপহরণ করে পার্শ্ববর্তী গহীন পাহাড়ে নিয়ে যায়। অপহরণের কয়েক ঘন্টা পর চালসহ খাদ্যসামগ্রী মুক্তিপণের বিনিময়ে অপহরণের শিকার ৬ জনের মধ্যে কৃষক আবুল হাশেম এবং তার দুই পুত্র জামাল উদ্দীন ও রিয়াজ উদ্দীনকে মুক্তি দেয় হাকিম বাহিনী। বাকি তিনজনকে নিয়ে গহীন পাহাড়ে ঢুকে কখনও তিন লাখ আবার কখনও ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসছে ডাকাতরা। ডাকাতদের হাতে জিম্মি তিনজনের মধ্যে আক্তার উল্লাহ নামে একজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ গত ১ মে শুক্রবার ভোরে হোয়াইক্যংয়ে অবস্হিত রোহিংগা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড় থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। আক্তার উল্লাহকে হত্যার পর ডাকাতেরা তার স্বজনদের মোবাইল করে খবর পাঠায়। সে সূত্রে স্হানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির একদল পুলিশ। এখন ও বিশাল অংকের টাকা মুক্তিপণ দাবী করে ডাকাতেরা আটক করে রেখেছে কৃষক মোহাম্মদ শাহেদ (২৫) ও মোহাম্মদ ইদ্রিসকে (২৭)। অপহৃত শাহেদের মোবাইল ফোন থেকে তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় দুইদিন আগে। অন্যথায় তাদের ও আক্তার উল্লাহর মতো মেরে ফেলার হুমকি দেয় ডাকাতেরা। স্থানীয় এলাকাবাসির ভাষ্য মতে, অপহরণকারীদের নেতৃত্বে রয়েছে কুখ্যাত রোহিঙ্গা আবদুল হাকিম ডাকাত। তিনি শুধু এই অপহরণ নয়, তার আগেও স্কুল শিক্ষার্থী সহ নানা শ্রেণীর লোকজনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ নিয়েছে। অনেককেই নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তাকে ধরতে ইতিমধ্যে হেলিকপ্টারযোগেও অভিযান পরিচালনা করেছিল র্যাব। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি হারুনুর রশিদ সিকদার ও আজ পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য অভিযানে পুলিশের সাথে পাহাড়ে অবস্হান করছেন। তিনি বলেন, পুলিশ গোটা পাহাড় ঘিরে সাড়াঁশি অভিযান চালাচ্ছে। আশা করছি সুখবরের।
পুলিশ অপহরণের ঘটনার পর থেকেই একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে বিরামহীনভাবে গভীর পাহাড়ে অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু রোহিঙ্গা ডাকাত বাহিনীর হাতে আটক স্থানীয় দুই কৃষকের কোনো হদিস এখনও পায়নি।
পুলিশ, র্যাব সহ সরকারি বিভিন্ন সংস্হা অতীতে বিভিন্ন সময়ে কুখ্যাত হাকিম ডাকাতকে ধরার জন্য নানা কৌশলে অভিযান পরিচালনা করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে এই ডাকাত সর্দার।
টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ আজ দুপুরে অভিযানস্হল থেকে বলেন, হোয়াইক্যং এলাকার বিশাল পাহাড়ের চার পাশ পুলিশের আটটি টিম ঘেরাও করে সাড়াঁশি অভিযান চালাচ্ছে। ডাকাতদের কিছু আলামত ও পাওয়া গেছে। তিনি সকলকে ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়ে উদ্ধারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি অপহৃতরা উদ্ধার না হওয়া এবং সশস্ত্র ডাকাতেরা আটক না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ও জানান।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১