আপডেট : ২৩ November ২০১৯
ইলিয়াস কাঞ্চনের হাত ধরেই নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশজুড়ে সচেতনতা এসেছে, আন্দোলনটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হয়েছে। আর এই নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারের দাবিতে পরিবহন শ্রমিকরা কর্মবিরতিও পালন করেছে। এদিকে কয়েক দিন আগে দেখা গেছে সবাই যেন এই আইন মেনে চলেন, পথে ঘুরে ঘুরে গাড়িচালকদের বোঝাচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। যার ফলাফল হয়েছে উল্টো। পরিবহন শ্রমিক আর মালিকদের কাছে ইলিয়াস কাঞ্চন বরাবরের মতোই চক্ষুশূল হয়েছেন। রাজপথে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে, তার ছবি পোড়ানো হয়েছে। তাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করা করেছে। দেশের মানুষ ইলিয়াস কাঞ্চনকে সমর্থন দিয়েছে। তারাও কাঞ্চনের মতো মনে করে এসব আইন বাস্তবায়ন হলে দুর্ঘটনা কমবে। চলচ্চিত্র শিল্পীও তার সঙ্গে আছে বলে জানান শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। এ ছাড়া অনেক সাধারণ মানুষও সোশ্যাল মিডিয়ায় ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে আছেন বলে সমর্থন জানাচ্ছেন। এক ব্যক্তি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চনের ‘অপরাধ’ একটাই, তিনি পরিবহন শ্রমিক আইনের সংশোধন চেয়েছেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন, চালক-যাত্রী-পথচারী সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করেছেন।’ সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনের মৃত্যুর পর থেকেই নিরাপদ সড়কের আন্দোলন গড়ে তুলেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন, আর কেউ যায়ে চালকের অসাবধানতায় মৃত্যুর কোলে ঢলে না পড়ে, কোনো মানুষকে যেন তার মতো সীমাহীন কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে না হয়, সেজন্যই নিজের ক্যারিয়ারকে একপাশে ফেলে রেখে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা। এদিকে যারা ইলিয়াস কাঞ্চনের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে, তার কুশপুত্তলিকা দাহ করছে, তাদের উদ্দেশে এই নায়ক বলেছেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, সড়ক পরিবহন আইনটি করা হয়েছে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য, সড়কে দুর্ঘটনা কমানোর জন্য। জেল বা জরিমানা আদায়ের জন্য নয়। কাউকে শাস্তি দেবার উদ্দেশ্যে নয়। যদি আপনারা এই আইন সঠিকভাবে মেনে চলেন তাহলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। আর যদি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরেই আসে তাহলে আইনে জরিমানার ভয় কীসের? আপনি অপরাধ করলে আপনার জেল জরিমানা হবে। আপনি যদি অপরাধ না করেন তাহলে কেন আপনার জেল জরিমানা হবে?’ ইলিয়াস কাঞ্চন আরো বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না নিজেদের সংশোধন না করে, সঠিক লাইসেন্স না নিয়ে, দক্ষতা অর্জন না করে, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস না নিয়ে উল্টো জেল-জরিমানার কথা বলে জনগণকে জিম্মি করে কেন অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে? অথচ একটু ধৈর্য ধরে আইনের ভেতরে গিয়ে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে এই আইনটিতে কাউকে এককভাবে দায়ী বা টার্গেট করা হয়নি। বিশেষ করে চালকশ্রেণিকে নয়। বরং তাদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, নিয়োগপত্রসহ গাড়ি চালনায় সঠিক পরিবেশ তৈরির কথাও রয়েছে। তবুও কেন এই বিরোধিতা, কেন এই আইনকে মেনে না নিতে পারার মানসিকতা?’
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১