বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৯ September ২০১৯

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে জাবিতে বিক্ষোভ মিছিল


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।  

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। পরে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা প্রদক্ষিণ করে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। 

সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের রাকিবুল রনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব ছাত্রলীগ নেতা চাঁদাবাজি করেছেন যারা টাকা পেয়েছেন তারা স্বীকার করেছেন যে উপাচার্য টাকা নাকি ছাত্রলীগ নেতাদের হলে পৌঁছে দিয়েছেন। এই লজ্জা আমরা আর রাখতে পারি না। জনগণের রক্ত পানি করা টাকা থেকে আপনি লুটপাট করবেন আর হাসি তামাশা করবেন তা হতে পারে না। আপনার পদত্যাগের মাধ্যমে রেহাই হবে না, আপনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নেন।’

বিএনপিপন্থী দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পের শিডিউল ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়ার পরেও আপনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি । একদিন আগে জানালেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে টাকা নিয়ে কোন কথা হয়নি, তারা কোনো চাঁদা দাবি করেনি। পরদিন আবার আপনি বললেন চাঁদা দাবি করেছে। সুতরাং আপনার কোন কথা সত্য কোনটি মিথ্যা? আপনি কেন এতো দেরিতে চাঁদা দাবির বিষয়টি প্রকাশ করলেন? এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আপনি প্রমাণ করেছেন আপনি দূর্নীতিবাজ। মিথ্যাচার এবং দূর্নীতির কারণে আপনি উপাচার্য পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।’

এদিকে আন্দোলনকারীরা জানান, আসন্ন ভর্তি পরীক্ষায় প্রত্যেকটি পরীক্ষার কেন্দ্রের সামনে তারা মুখে কালো কাপড় বেধেঁ অবস্থান করবেন। এসময় পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে যাতে উপাচার্য প্রবেশ করতে না পারেন সে বিষয়ে তারা সর্তক অবস্থানে থাকবেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেছেন, আল্টিমেটামে পদত্যাগ করবেন না। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করব না। আমাকে যারা এই পদে বসিয়েছেন, তারা চাইলে পদ ছেড়ে দেব। তাছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয় তো শুধু আন্দোলনকারীদের নয় আরও অনেকে তো আছে। তারা তো আর পদত্যাগ চাইছেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি যদি নির্দেশ দেন তবে পদ থেকে সরে যাব। যদি আমাকে নির্দেশ না দেন তবে আন্দোলনকারীদের গালমন্দ খেয়েও থেকে যাব। হয়তো তাদের আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হবে কিন্তু নির্দেশ আসা না পর্যন্ত আমি আমার দায়িত্ব পালন করব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির ও অপরিকল্পনার অভিযোগ এনে তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন চলা অবস্থায় চাপের মুখে গত ১২ সেপ্টেম্বর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আলোচনায় তোপের মুখে দুটি দাবি মেনে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিটি অমীমাংসিত রেখেই শেষ হয় সেদিনের আলোচনা সভা। এছাড়া দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার পর্যন্ত (তিন কার্য দিবস) সময় নেয় প্রশাসন। তবে গত বুধবার এ দাবির বিষয়ে আলোচনা হলেও সে আলোচনা কোন ধরনের সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দৃকত টাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে এক কোটি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে এক কোটিসহ মোট ‘দুই কোটি টাকা দেওয়ার’ অভিযোগ উঠে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ অধিকতর উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা পূনর্বিন্যাস ও আবাসিক হল নির্মাণের স্থান পূনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়ে ‘দূর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১