আপডেট : ১৩ March ২০১৯
ফুলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, কদর ও চর্চা বৃদ্ধি, উৎসাহ এবং বিশেষ করে মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে সুবর্ণ রেখা আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট্ সেন্টার, এশিয়া বুংকা কাইকান দোসোকাই, ফ্লাওয়ার ক্লাব, ইউনেস্কো ক্লাব, ইন্টারন্যাশনাল পেন-পলস্ ক্লাব, ইকেবানা স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশে ইকেবানা প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা আয়োজন করার মাধ্যমে ইকেবানাকে জনপ্রিয় করে তুলতে সক্ষম হয়েছে। পরিবেশকে শোভাময় ও সুন্দর করার জন্য ইকেবানা প্রদর্শনী বা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এর জনপ্রিয়তা যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। সৌন্দর্য এবং শুদ্ধতার প্রতীক হিসেবে প্রতিটি মানুষই ফুলকে ভালোবাসে। জাপানি ভাষায় ‘ইকো’ অর্থ বাঁচিয়ে রাখা, আর ‘বানা’ অর্থ ফুল। সাজসজ্জার উপযোগী করে বিশেষ পদ্ধতিতে ফুলকে বাঁচিয়ে রাখার নামই হচ্ছে ইকেবানা। বাংলাদেশে জাপানি পদ্ধতিতে ফুল সাজানো এবং ইকেবানা চর্চা ও এর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কদর বৃদ্ধির ব্যাপারে ইকেবানা বিশেষজ্ঞ মিসেস মালেকা খানের নাম চলে আসে। ইকেবানা জাপানি শব্দ হলেও প্রাকৃতিক ফুল ও গাছের সমন্বয়ে ঘরে বা বিভিন্ন অফিসে বা অনুষ্ঠানে ফুল সাজানোর পদ্ধতিই হলো ইকেবানা। মিসেস মালেকা খানের মতে, ইকেবানা হচ্ছে তাজা ফুলের শিল্পকর্ম। এ শিল্পকর্মে লুকিয়ে থাকে বিশেষ কোনো বার্তা— শান্তি অথবা কল্যাণের সুর। ফুলকে শুধু বাগানে ফুটে থাকলে চলবে না। তাই তো পরম মমতায় গৃহের ছোট্ট পরিসরে ফুলদানি বা পিন হোল্ডারের মাধ্যমে ফুল সাজিয়ে রেখে মানুষ ফুলের বন্দনা করছে। এই ফুল বন্দনার কত যে অভিনব কলাকৌশল আছে, তার অনেক কিছুই আমাদের অজানা। কীভাবে ফুলকে আরো মোহনীয়ভাবে সাজানো যায় তা নিয়ে মানুষের চিন্তার অন্ত নেই। ফুল-ডালের আকৃতি কেমন হলে আরো সুন্দর হবে, কী পাত্রে রাখা হলে আরো সুন্দর দেখাবে, কেমন করে রাখা হবে, তার ধরন-ধারণাই অথবা কতগুলো ফুল নেওয়া হলে মানানসই হবে কিংবা ফুলের অপচয় না করে কীভাবে সাজানো যায়- এমনি হাজারো প্রশ্ন রয়েছে মানুষ ও ফুলপ্রেমিকদের মনে। এর উত্তর খুঁজতেই অনন্য শিল্প ইকেবানার সৃষ্টি। বিশ্বে জাপান আজ ইকেবানাকে তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। চীন দেশে ইকেবানার যাত্রা শুরু হলেও শত শত বছর ধরে ধারাবাহিক বিকাশ লালন আর রূপান্তর হয়েছে জাপানে। জাপান দেশে ইকেবানা ঐতিহ্যবাহী-সংস্কৃতি। এটা একটা সুকুমার শিল্পকলা। ইকেবানাকে সংক্ষেপে বোঝানো খুবই কঠিন। তবে এর বন্দনা করতে করতে ধীরে ধীরে এর সঙ্গে মিশে যাওয়া খুবই সহজ পন্থা। ইকেবানাকে জানতে হলে প্রকৃতিকে জানতে হয়। কেননা প্রকৃতি যে মানুষের সবচাইতে বড় বস্তু। ইকেবানা সে-কথা কখনো ভুলতে দেয় না। ইকেবানা মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়। ইকেবানা মানুষের মনে ভালোবাসার ব্যাপ্তি ঘটায়। নান্দনিক সৌন্দর্যের প্রতীক ফুলকে গৃহের সৌন্দর্য বর্ধনে বিশেষভাবে সাজানো এবং সংরক্ষণ করার ওপর এদেশের মহিলারা এখন অনেক পারদর্শী। ফুলের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি, ঘর সাজানোর জন্য একে শিল্পকলার আঙ্গিকে উপস্থাপন এবং বিশেষ করে মহিলাদের গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে দেশে আজ ইকেবানার চাহিদা বহু গুণে বেড়েছে। সৌন্দর্য ও শুদ্ধতার প্রতীক হিসেবে প্রতিটি মানুষই ফুলকে ভালোবাসে। এই ফুল সাজানোর বিশে ষ কৌশল জানা থাকলে এতে যেমন নান্দনিকতার পরিচয় মেলে, তেমনি অনেক দিন ইকেবানার মাধ্যমে ফুলকে সংরক্ষণ করা সহজ। দেশে ইকেবানা বিশেষজ্ঞ মালেকা খানের মতে, এটি মূলত এক ধরনের চিত্রকলা। সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার জন্য বিভিন্ন ফুলের কম্বিনেশনে পাত্রে সাজানো ফুলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন নাম দিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া হয়। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশে দিন দিন ইকেবানার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তরুণীদের মধ্যে ইকেবানার প্রতি ভীষণ আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এখন শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য ইকেবানার মাধ্যমে ফুলকে বাঁচিয়ে রাখার কাজটি আমাদের করে যেতে হবে। লেখক : নিবন্ধকার
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১