পুলিশের অভিযানে এবার যুক্ত হচ্ছে লাইভ ক্যামেরা। কোনো গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে এই ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি পুলিশ সদর দপ্তরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যুক্ত হয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। অভিযানের স্বচ্ছতা আনতে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, বলছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।
ট্যাকটিক্যাল বেল্টের পর লাইভ ক্যামেরা যুক্ত হয়ে অভিযানে যাওয়া পুলিশের আধুনিকায়নে আরো একটি নতুন উদ্যোগ। শুধু অভিযানে নয়, চেকপোস্ট ডিউটিগুলোও লাইভ ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। লাইভ ক্যামেরা নিয়ে অভিযানে যাওয়া পুলিশের উদ্যোগটি শুরু হচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ দিয়ে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশেই এটি চালু করা হবে।
এই নতুন ক্যামেরার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তর লজিস্টিক শাখার অতিরিক্ত এসপি ফয়জুল ইসলাম বলেন, বডি অন ক্যামেরা আমদানি করার কথা চলছে। এটা আরো তিন মাসের মতো সময় লাগবে। আশা করছি আগামী মার্চে বডি অন ক্যামেরা কেনা শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ডিএমপি দিয়ে শুরু হবে। পরবর্তীতে সারা দেশে এটি চালু করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, পুলিশের যে-কোনো অপারেশন, চেকপোস্ট ও গুরুত্বপূর্ণ ডিউটিতে পুলিশ সদস্যদের পোশাকের সঙ্গে লাইভ ক্যামেরা রাখার প্রস্তুতি চলছে। অপারেশন বা ডিউটিরত অবস্থায় ওয়্যারলেসের মাধ্যমে যে-কোনো সময়, সেই ক্যামেরার অ্যাক্সেস নিতে পারবে পুলিশ সদর দপ্তর। দিতে পারবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও।
পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সবক’টি ক্যামেরা কন্ট্রোলের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে থাকবে একটি মনিটরিং সেল। সারা দেশে যে-কোনো জায়গায় ডিউটিরত অবস্থায় পুলিশ সদস্য থাকবে অন ক্যামেরায়। পুলিশ সদর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট জেলা মনে করলে, সুনির্দিষ্ট ওই পুলিশ কর্মকর্তা বা ইউনিটের কর্মকাণ্ড দেখতে পারবেন। তা ছাড়া ক্যামেরার সঙ্গে ইয়ারফোন যুক্ত থাকায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও।
এর ফলে, পুলিশের যে-কোনো অভিযান, অপারেশন, বিশেষ করে চেকপোস্টে পুলিশ সদস্য বা কর্মকর্তাদের নির্দেশনার প্রয়োজন পড়লে সরাসরি পুলিশ সদর দপ্তর তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারবে। ইতোমধ্যে আধুনিক ও স্মার্ট পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশে অত্যাধুনিক অপারেশনাল গিয়ার ট্যাকটিক্যাল বেল্ট সংযোজিত হয়েছে। আর এই ট্যাকটিক্যাল বেল্টেই যুক্ত হচ্ছে লাইভ ক্যামেরাও।
পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখা বলছে, এই ট্যাকটিক্যাল বেল্টের সঙ্গেই ওই ক্যামেরাটি সংযুক্ত হবে। আর তার সঙ্গে এই ইয়ারফোনও থাকবে। সেগুলো অ্যাকটিভ করেই ডিউটি শুরু করবে পুলিশ সদস্য।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আধুনিক পুলিশ হিসেবে পুলিশের সব ধরনের কাজেই এ ক্যামেরা কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। ক্যামেরায় কোনো ঘটনার লাইভ মনিটরিং করার পাশাপাশি বিভিন্ন কোণ থেকে ছবিও নিতে পারবে। সেক্ষেত্রে কাজের স্বচ্ছতা আসবে ও গতি বাড়বে।
বাংলাদেশ পুলিশে নতুন সংযোজিত সর্বাধুনিক অপারেশনাল গিয়ার ‘টেকটিক্যাল বেল্ট’ উদ্বোধনের দিনে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, উন্নত দেশে দায়িত্ব পালনকালে সাধারণত যেসব সরঞ্জামাদি ব্যবহার করতে হয় তা এ বেল্টে এমনভাবে সংযোজন করা হয়েছে, যাতে তারা ‘হ্যান্ডস ফ্রি’ রেখে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এর ফলে উন্নত দেশের পুলিশের মতো বাংলাদেশ পুলিশের গেটআপে পরিবর্তন আসবে, পুলিশের দক্ষতা বাড়বে এবং জনগণকে আরো সহজে তাৎক্ষণিক সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
পুলিশ সদস্যদের এই লাইভ ক্যামেরা সম্পর্কে আইজিপি বলেন, বডি অন ক্যামেরাটি ডিএমপি পুলিশে পাঁচ বছর আগেই যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সেটা সেভাবে বিস্তার করা সম্ভব হয়নি। এটা এখন করা হবে। তবে এটা অনেক ব্যয়বহুল, আমরা চাইলেও এক বছরের মধ্যে সব পুলিশকে দিতে পারব না। তারপরও আমরা পর্যায়ক্রমে এই বডি অন ক্যামেরাটি নিয়ে আসছি। এতে আমরা সর্বপ্রথম ট্রাফিক পুলিশদের প্রাধান্য দেব। তারপর চেকপোস্টগুলোতে দেব। পর্যায়ক্রমে এটা অন্য সদস্যদের দেওয়া হবে।
পুলিশের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা বলেন, বডি অন ক্যামেরা এ বছর থেকেই শুরু করছি। ইতোমধ্যে টেন্ডার লঞ্চিংয়ের প্রসেসে আছি। ইকুইপমেন্টগুলো সংগ্রহ করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা প্রথমে ট্রাফিক পুলিশ ও চেকপোস্টে ব্যবহার করা শুরু করব। আগামীতেও পুলিশে আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজনের ধারা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, বডি অন ক্যামেরা নিয়ে অভিযান কিংবা চেকপোস্টে ডিউটি পালন এটি পুলিশকে আধুনিকায়নে বর্তমান আইজিপির যে চেষ্টা তারই অংশ। এটি পুলিশ বাহিনীর জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
কর্মকর্তারা বলছেন, এতে করে পুলিশের স্বচ্ছতা আরো বেড়ে যাবে। কোনো অবস্থায় অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বরত অফিসারকে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দিকনির্দেশনা দেবেন। এতে করে দায়িত্বরত অফিসার ভুলভ্রান্তি হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন। পাশাপাশি বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ সদর দপ্তর এমনকি কর্মকর্তারা জেনে থাকবেন।





