প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে ইভিএম ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। এত সক্ষমতা আমাদের নেই। এখনো জানি না। প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর কত লোক এবং কত মেশিন রেডি করতে পারব, তার ওপর নির্ভর করে বলা যাবে। খুব বেশি হবে না। ইভিএমের ব্যবহার একেবারে সীমিত আকারে করা হবে। তিনি সব রাজনৈতিক দলকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে দেখতে অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, কাছাকাছি গিয়ে দেখলে ইভিএম নিয়ে সবার ধারণা বদলে যাবে। গতকাল শুক্রবার বিকালে সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে উন্নয়ন মেলার আয়োজন করা হয়। এই মেলা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এসব কথা বলেন।
কে এম নুরুল হুদা বলেন, যারা রাজনীতিবিদ তাদেরকে আমরা অনুরোধ করব, তারা যেন এই ইভিএম দেখেন, নিজেরা ভোট দিয়ে দেখেন। নিজেরা ব্যবহার করে দেখেন। ভালো-মন্দ বিচার-বিশ্লেষণ করেন। এটা আমার অনুরোধ। আমি আশা করি, আজকে যেমন আমরা দেখলাম, এটা যদি উনারা কাছাকাছি গিয়ে দেখেন, তাহলে আমার মনে হয় তাদের সে ধারণাটা বদলে যাবে। কারণ আমরা আসলেই তো সেরকমভাবে এতদিন দেখাতেই পারিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ ইভিএম যেখানে দেখানো হয়েছে, ব্যবহার করা হয়েছে, আমরা সেখানে কোনোরকমের অভিযোগ পাইনি।
দেশের সব ক’টি জেলায় ইভিএমের প্রদর্শনী করা হবে জানিয়ে সিইসি বলেন, কোথাও কোনো অভিযোগ ছিল না। রাজনৈতিক দলের মধ্যে কোথাও কোথাও এটা নিয়ে একটু বিরূপ মন্তব্য আছে, তো সেটার ব্যাপারে আমাদের মন্তব্য হলো যে, আমরা এখন পর্যন্ত ইভিএম দেখাতে পারিনি তাদেরকে। এখন শুরু করলাম, এই সুযোগে। এখন যেমন আমরা ৬৪ জেলায় ইভিএম প্রদর্শনী শুরু করেছি। সিইসি বলেন, আমরা এখনো প্রস্তুতি পর্যায়ে আছি। সিদ্ধান্তের একটা পর্যায় বাকি আছে, সেটা হলো আরপিও পরিবর্তন করতে হবে। সংশোধন করতে হবে। সংশোধন এখনো হয়নি। সংশোধনের জন্য আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি সরকারের কাছে, আর অন্যান্য যে প্রস্তুতি সেগুলো আমরা গ্রহণ করেছি।
কে এম নুরুল হুদা বলেন, রাজনৈতিক দলে যারা আছেন, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাদাভাবে মিটিং করে সংলাপ করে না হলেও তাদের যে সেন্টিমেন্ট সেটা আমরা জানার চেষ্টা করব। তারপর আমরা ব্যবহার করব। এ সময় সিইসির সঙ্গে সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান ও পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।