হেফাজতের হরতাল ঘিরে উত্তেজনা

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

হেফাজতের হরতাল ঘিরে উত্তেজনা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৮ মার্চ, ২০২১

হেফাজত ইসলামের ডাকা আজকের হরতাল ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। হরতাল করতে দেওয়া হবে না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নাশকতা প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে হরতালের পক্ষে সমাবেশ করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হেফাজতের নেতারা। হরতালে বাধা দিলে লাগাতার কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা। গত শুক্রবার বায়তুল মোকাররমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরবিরোধিতাকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার জের ধরে চট্রগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্ররা থানায় হামলা করে। পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালালে ৪ জন নিহত হয়। অপরদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও মাদরাসার ছাত্ররা স্টেশনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি করলে সেখানেও একজন মারা যায়। ঘটনার প্রতিবাদে আজ রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় হেফাজত ইসলাম। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার বেলা ১২টার পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে হেফাজত ইসলাম বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন। এসময় তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। বিক্ষোভ ঘিরে বায়তুল মোকাররমসহ পল্টন এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হকসহ সংগঠনটির সিনিয়র নেতারা।

এ সময় তারা বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খুশি করতেই হেফাজত কর্মীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। বায়তুল মোকাররমে এবং হাটহাজারিতে আমাদের ৬ জন কর্মীকে শহীদ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আমাদের এই কর্মসূচি (হরতাল)।

হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরের সহ-সভাপতি ও খেলাফত মজলিশের শায়খুল হাদিস মামুনুল হক বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচিতে যদি সন্ত্রাসী পেটোয়া বাহিনী হামলা করে বা বাধা দেয়; যদি সন্ত্রাসের ভয়াল রাজত্ব কায়েম রাখার চেষ্টা করে তবে গোটা বাংলাদেশে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে, তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। আর এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।’

মামুনুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রামে গতকাল আমাদের চারজন ভাই শহীদ হয়েছেন। তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহতদের পথে পথে হামলা করা হয়েছে। আমাদের আহত সন্তানরা চিকিৎসা পর্যন্ত পায়নি। যে কারণে আজ বিক্ষোভ হচ্ছে। আগামীকাল রোববার টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সারা বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হবে।’

আজ বিক্ষোভ-সমাবেশ এবং আগামীকাল (আজ) সারা দেশে দিনব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। হেফাজত নেতারা শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনের আহ্বান জানান। এছাড়া সকাল থেকে কর্মী-সমর্থকদের মাঠে থাকারও আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে হরতালে বাধা দেওয়া হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন হেফাজতের নেতারা।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডবের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো হরতাল করতে দেওয়া হবে না। গত শুক্রবার রাতে হেফাজতে ইসলাম হরতালের ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যে অরাজকতা হয়েছে তার তদন্ত হচ্ছে। আর হরতালের নামে কোনো ধরনের সহিংসতা মানা হবে না। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, আজকের হরতালকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে। কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা কঠোর হাতে দমন করবে। বিশেষ করে রাজধানীতে হরতালে যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে সতর্ক থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, বায়তুল মোকাররম কেন্দ্রিক কোনো ধরনের অপতৎপরতা মেনে নেওয়া হবেনা। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বায়তুল মোকাররম, দৈনিক বাংলা মোড়, নয়াপল্টন, মতিঝিলসহ পুরো এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস। অফিস আদালত সব খোলা থাকবে। এই সময় কেউ যদি নাশকতা করার চেষ্টা করে তবে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব।

তিনি বলেন, ইসলামী দলগুলোর প্রোগ্রামে পুলিশ অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। শুক্রবার পুলিশকে তারা আক্রমণ করেছে। এ ঘটনায় মামলাও হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। দুর্বৃত্তদের দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।

মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ

হেফাজতের হরতাল প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। গুলিস্তান আওয়ামী লীগ অফিস ও পল্টনে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।

পল্টনে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। বেলা ১১ টায় তারা পল্টনে সমাবেশ করবে। অপরদিকে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেও বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।

গণপরিবহন চালানোর ঘোষণা

হেফাজতে ইসলামের ডাকা রোববারের হরতালে ঢাকা শহর ও শহরতলী এবং আন্তঃজেলা রুটে বাস মিনিবাস চলাচল করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ।

গতকাল শনিবার সংগঠনের কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান। বেলা ১২টা থেকে অনুষ্ঠিত সভায় ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল মালিক সমিতি, সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা ও নগর বাস টার্মিনাল মালিক সমিতি এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

খন্দকার এনায়েত উল্যাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নেতারা বলেন, আমরা পরিবহন ব্যবসায়ী। হরতালে গাড়ির চাকা বন্ধ রেখে আমরা আমাদের লোকসান করতে চাই না।

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads