গ্যাসের দাম ৩২.৮ শতাংশ বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দিতে পারে বাম রাজনৈতিক দলগুলো। গতকাল রোববার গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পরই দলগুলো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে এ সপ্তাহেই হরতাল দিতে পারে, এমন কথা জানিয়েছেন একাধিক বাম নেতা।
বাম নেতারা জানান, আজ সোমবার রাজধানীতে বিক্ষোভ করবে কয়েকটি দল। এর মধ্যে গণসংহতি আন্দোলন বিকাল সাড়ে ৪টায় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করবে। বিস্তারিত কর্মসূচি ঠিক করতে আজ বেলা ১১টায় বৈঠকে বসবে বাম গণতান্ত্রিক জোট। এ জোটে সিপিবি-বাসদ, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ আটটি দল রয়েছে। এ বৈঠক থেকেই কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন জোটের দুই অন্যতম নেতা।
জোটের শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যে গণশুনানি হয়, সেটিও তামাশায় পরিণত করা হয়েছে। বিতরণ সংস্থা এবং গ্যাসের সরবরাহ যারা করে, তারা কোনো যুক্তি দেখাতে পারেনি কেন গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে আমরা হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছি। সোমবার (আজ) আমাদের জোটের বৈঠক রয়েছে। সেখানেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সাইফুল হক জোর দিয়েই বলেন, সরকারকে এ ব্যাপারে ব্যাক করতে হবে।
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ইতোমধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে বিক্ষোভ করেছে বাসদ। আজ সাড়ে ৪টায় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ ডেকেছে গণসংহতি আন্দোলন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, গ্যাসের এমন দাম বাড়ানো অযৌক্তিক ও সরকারের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত। দেশের মাটি ও সাগরের নিচের গ্যাস উত্তোলন ও অনুসন্ধান না করে, দুর্নীতি ও সিস্টেম লস বন্ধ না করে, বেশি দামি ও আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো হচ্ছে এবং এলএনজি ব্যবসায়ীদের সুবিধা করার জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ১০২ ভাগ মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বিতরণ কোম্পানিগুলো। এরপরই মার্চ মাসে বিইআরসি গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর জন্য গণশুনানির আয়োজন করে। সেখানে মূল্য বাড়ানোর পক্ষে যৌক্তিক কারণ তারা উত্থাপন করতে পারেনি। সব যুক্তি-তর্ক-মতামত-বিশ্লেষণকে ঠেলে ফেলে দিয়ে অত্যন্ত স্বেচ্ছাচারী কায়দায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।





