স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতারাও পিছিয়ে নেই অপকর্মে

ছবি : সংগৃহীত

অপরাধ

ক্যাসিনো-চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতারাও পিছিয়ে নেই অপকর্মে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জুয়া, ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন অভিযোগে আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযানে অঙ্গসংগঠন যুবলীগের নেতারা ধরা পড়লেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন আরেক সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুর্নীতিবাজ নেতারা।

সরকারের এ শুদ্ধি অভিযানের শুরুতেই জুয়া-ক্যাসিনো সংশ্লিষ্টতায় আলোচনায় আসে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মো. আবু কাওছারের নাম। কিন্তু যুবলীগের অনেক দুর্নীতিবাজ বা জুয়া-ক্যাসিনোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ধরা পড়লেও মোল্লা মো. আবু কাওছার এখনো রয়েছেন নিরাপদে। সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, মোল্লা কাওছার বিদেশে অবস্থান করছেন।

ওয়ান্ডারার্স ক্লাব থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনোর সামগ্রী, বিপুল অঙ্কের টাকা ও অন্যান্য উপকরণ উদ্ধার করেছে। ওই ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার।

জানা যায়, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনো থেকে মোল্লা মো. আবু কাওছারের পক্ষে টাকা উত্তোলন ও ভাগবাটোয়ারার দায়িত্বে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগরীর দুই শীর্ষ নেতা। তারা হলেন দক্ষিণের সভাপতি দেবাশীষ বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিটু।

ক্যাসিনো ছাড়াও দখল বাণিজ্য, পুরান ঢাকায় চাঁদাবাজি, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ, ইয়াবার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডারবাজিসহ নানা অনিয়মের মধ্যদিয়ে গত ১০ বছরে তারা টাকার কুমির হয়েছেন। পিছিয়ে নেই স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েলও। আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতার ছত্রচ্ছায়ায় তিনিও কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

জানা গেছে, দেবাশীষ বিশ্বাস ঢাকা শহরে চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার, তাঁতীবাজার, ইসলামপুর, সদরঘাট এলাকায় ছোটবেলা থেকেই চাঁদা তুলতেন। মুন মার্কেটের মন্দিরের সম্পত্তি দখল করে তার নেতৃত্বে একটি চক্র কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ঘি পট্টির ১৪ নম্বর বাড়ি দখল, কৈলাশ ঘোষ লেনের ২২ নম্বর, শাঁখারী বাজারের অধিকাংশ বাড়ি, ভিপি প্রপার্টি তার দখলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও ইসলামপুর মার্কেটে অবৈধভাবে ভুয়া সিল মেরে প্রতি মাসে কোটি টাকা কামাচ্ছেন। ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সভাপতি মোল্লা কাওছারের হয়ে ক্লাবের ক্যাসিনোরও নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি।

আরিফুর রহমান টিটু ঢাকা মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। তিনি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি। অভিযোগ রয়েছে, সেগুনবাগিচা ও পল্টন এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটও তার। পাবলিক হেলথ, শিক্ষা ভবনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণেরও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। ক্যাসিনো পরিচালনার পাশাপাশি নানাভাবে টাকা হাতিয়ে কুমির হয়েছেন।

খায়রুল হাসান জুয়েল কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের টেন্ডারের অন্যতম গডফাদার। সাবেক ছাত্রনেতা হওয়ার সুবাদে বিশাল ক্যাডার বাহিনী রয়েছে তার। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির সঙ্গে বেশ সখ্য। তার আধিপত্যে সাধারণ ঠিকাদার কোনো কথা বলে না, কাজ পায় না। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক এক নেতা, বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছেন, তার আশীর্বাদ রয়েছে জুয়েলের ওপর। আওয়ামী লীগের ওই কেন্দ্রীয় নেতা সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৭০ কোটি টাকার টেন্ডার বাগিয়ে নিয়েছেন প্রভাব খাটিয়ে। আবারো ১০০ কোটি টাকার কাজ পেতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন বলে অভিযোগ আছে। ওই কর্মকর্তা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নালিশ করেছেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads