বাউফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে রাস্তার নির্মাণসামগ্রী রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। দ্বীপ এন্টারপ্রাইজ নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উপজেলার কনকদিয়া স্যার সলিমুল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে দিয়ে স্কুল লাগোয়া বাজার এলাকার চলমান সিসি রাস্তার কাজে ব্যবহূত মিক্সার মেশিনসহ ওই নির্মাণসামগ্রী রাখে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, কনকদিয়া বাজার এলাকায় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২০১৯-২০ অর্থবছরের ১১৯ মিটার দৈর্ঘ্য ও পাঁচ মিটার প্রস্থের সিসি রাস্তার চলমান নির্মাণকাজ করছে দ্বীপ এন্টারপ্রাইজ নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর রাস্তা লাগোয়া স্কুলের বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে ভেতরে রাখা হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মিস্কার মেশিনসহ ওই রাস্তার কাজের যাবতীয় নির্মাণসামগ্রী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেন, লকডাউনে স্কুল বন্ধ। এই সুযোগে স্কুলের বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে দিয়ে রাস্তার নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে। ক্লাস খোলা থাকলে ছাত্রছাত্রীরাই এভাবে তাদের প্রিয় স্কুলের ওয়াল ভাঙতে দিত না।
আরেক অভিভাবক বলেন, এর সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকায় রাস্তাটিতে লোহার বাইনডিং, প্রস্থ, ছাদ বেইজ ও ডব্লিউবিএম নির্ধারিত ব্যবধানে না থাকলেও স্থানীয় কেউ কোনো কথা বলতে পারছেন না। ঠিক একইভাবে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে নির্মাণসামগ্রী রাখলেও কোনো কথা বলতে সাহস করছেন না কেউ। এখন শুকনো মৌসুমে মালামাল রাখার জায়গার কোনো অভাব নেই। স্কুল প্রতিষ্ঠানের বাউন্ডারি ভেঙে দিয়ে সেখানে মালামাল রাখতে হবে এটা কেমন কথা। কোনো বিবেকবান লোক এটা কি ভাবে মেনে নেবেন। এ ব্যাপারে স্কুল অ্যান্ড কলেজটির প্রধান শিক্ষক নার্গিস আক্তার বলেন, আমার কি করার আছে। স্কুলের কমিটি মিটিংয়ে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নিরুপায় হয়ে মেনে নিতে হয়েছে। তবে কাজের শেষে বাউন্ডারি ঠিক করে দেবেন মর্মে সভাপতির উপস্থিতিতে ঠিকাদারের লোকজন লিখিত দিয়েছেন।
এ ব্যাপের স্কুলের সভাপতি আখিনুর বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারো সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তবে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী শহীদুর রহমান জানান, কাজ শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্কুলের বাউন্ডারি ওয়াল করে দেওয়ার লিখিত দিয়েছে।





