মুক্তমত

সাধারণ মানুষের গলার কাঁটা গণপরিবহনে দ্বিগুণ ভাড়া

  • প্রকাশিত ২৭ জুন, ২০২১

আজহার মাহমুদ

 

আমাদের বর্তমান জীবন করোনার ভয়াল থাবায় এলোমেলো হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ যেন এখন প্রকৃতির কাছে এক ধরনের জিম্মি। একদিকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে কাজ করতে যেতে গণপরিবহনের দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

সবচেয়ে বড় বিষয়, এই করোনার কারণে কিন্তু কেউ বাড়তি বেতন পায় না। মাস শেষে নিজের বেতন-বোনাসের পরিমাণ সেই আগের অবস্থায় রয়েছে সকলের। উল্টো বেতন কমে যাওয়া, চাকরি চলে যাওয়া, বোনাস না দেওয়ার খবর আমরা শুনি। কিন্তু এতকিছুর মধ্যেও দ্বিগুণ ভাড়া ঠিকই আছে গণপরিবহনে। আর এই দ্বিগুণ ভাড়া দিতে দিতেই সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকেছে। এসব ভাড়ার পরিমাণ দ্বিগুণ থেকে তিনগুণও হয়ে যায় মাঝে মাঝে। ৫ টাকার ভাড়া ১০ টাকা, আবার ৬/৭ টাকার ভাড়াগুলো হয়ে যায় ১৫ টাকা। কিছু বয়স্ক মানুষ শারীরিক কারণে সামান্য পথ গাড়িতে করে গেলেই পড়ে যায় বিপাকে। ৫ টাকা দিলেই ড্রাইভারের সাথে লেগে যায় বাক-বিতর্ক। এখন গাড়িতে উঠলে এবং নামলেই গুনতে হচ্ছে ১০ টাকা। অথচ এই ১০ টাকা দিয়ে আগে দু-তিন কিলো পথ পাড়ি দেওয়া যেত সহজেই।

সাধারণ মানুষের এখন এই একটাই দাবি, গণপরিবহনের দ্বিগুণ ভাড়া প্রত্যাহার করতে হবে। কেন এই দ্বিগুণ ভাড়া প্রত্যাহার করার দাবি সাধারণ মানুষের, তারও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। বর্তমানে সময়ে গণপরিবহনে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না। সেইসাথে যাত্রী ওঠানামা করছে আগের মতোই। ছোট গাড়িতে প্রতিটি সিটেই এখন যাত্রী বসছেন। আগে টমটম, ম্যাক্সিমা কিংবা লেগুনা, যাই হোক না কেন—এসব গাড়িতে যতজন যাত্রী উঠত এখনো ঠিক একই পরিমাণের যাত্রী উঠছে। আগে একেকটা গাড়ির দৈনিক আয় ১০০০ থেকে ১৪০০ হলেও, এখন সে আয় দুই হাজার ছাড়িয়ে যায়। বাসেও চলছে একই টালবাহানা। সিট একটা করে খালি রাখছে, কিন্তু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার যাত্রী রয়েছে অসংখ্য। যতটা না সিট খালি রাখে তার বেশি মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে। এভাবেই বাস চালকরাও তাদের আগের আয়ের তুলনায় বেশি আয় করছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, এটা প্রকৃতপক্ষে সাধারণ মানুষের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

করোনার কারণে সরকার ৬০% ভাড়া বর্ধিত করার কথা বললেও বাস্তবে নেওয়া হচ্ছে ১০০% অর্থাৎ দ্বিগুণ ভাড়া। এই দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসন নিশ্চই অবগত রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নেই কোনো ভূমিকা। সাধারণ মানুষ এই বিষয়ে জানিয়েছেন ক্ষোভ। যেখানে ১০ টাকার ভাড়া ১৬ টাকা দেওয়ার কথা সেখানে দিতে হচ্ছে ২০ টাকা। অথচ প্রশাসন এসব যেন নজরদারির বাইরে রেখেছে।

একজন সাধারণ মানুষের গাড়ি ভাড়ার পেছনে যদি মাসে পাঁচ হাজার টাকা খরচ করতে হয়, তাহলে সে পরিবারকে কি দিবে, ঘরভাড়া কোথা থেকে দেবে? এসব কি কেউ ভাবছেন না? আপনার টাকা আছে, তাই হয়তো পারছেন। যিনি মাসে ১০-১৫ হাজার টাকা আয় করছেন, তিনি কীভাবে দিন পার করছেন, ভেবেছেন কখনো? অথচ এ বিষয়ে বিআরটিএ, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী কারও কোনো মাথাব্যাথা নেই। এভাবে দিন চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ ধৈর্য হারিয়ে ফেলবে। প্রশাসনের টনক না নড়লে এই সেক্টরের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনাও দিন দিন বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষের এখন একটাই কথা, যেখানে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই, সেখানে কেন দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে চলাচল করতে হবে? কেন সাধারণ মানুষ পরিবহন শ্রমিকদের নিকট জিম্মি হয়ে থাকবে? এটা কি এক প্রকার সাধারণ মানুষের ওপর ডাকাতি নয়?

পরিশেষে বলতে চাই, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের একটাই চাওয়া গণপরিবহনের ভাড়া আগের মতো করা হোক। তাদের পক্ষে দ্বিগুণ ভাড়ার ভার আর বহন করা সম্ভব নয়। এই দ্বিগুণ ভাড়া প্রত্যাহার করে জনমনে একটু স্বস্তি এনে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। করোনার এই কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষের এই চাওয়াটুকু যেন অতি দ্রুত সরকার পূরণ করে, সেই কামনা করছি।

 

লেখক : প্রাবন্ধিক

azharmahmud705@gmail.com

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads