ধর্ম

সমাগত শাবান : আমাদের করণীয়

  • প্রকাশিত ১২ মার্চ, ২০২১

মুফতি উবায়দুল হক খান

 

 

 

রজব মাস বিদায়ের পথে। শাবান মাস একেবারেই সন্নিকটে। শাবান মাস পার হওয়ার পর পরই পবিত্র রমজানুল মোবারক মাসের শুভাগমন হবে। রমজানুল মোবারকের সম্মানে গত হতে যাওয়া রজব মাসটি যেমন অতীব গুরুত্বপূর্ণ মাস, তেমনি অচিরেই সমাগত শাবান মাসও অত্যধিক মর্যাদাপূর্ণ এবং তাৎপর্যমণ্ডিত একটি মাস। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তোমরা রমজান মাসের জন্য শাবান মাসের চাঁদের [গুরুত্বের সাথে] গণনা কর। (তিরমিযি শরিফ : ১৪৮, হাদিস : ৬৮৭)

যখন শাবান মাস আগমন করত তখন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের প্রস্তুতিস্বরূপ ইবাদত-বন্দেগি অনেক বাড়িয়ে দিতেন। যেমনটি আবু দাউদ শরিফের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাসে ইবাদতের প্রতি এতো পরিমাণ লক্ষ্য করতেন, যা অন্য কোন মাসে করতেন না। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসে অধিক পরিমাণে রোজা রাখতেন। হজরত উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) বলেন, একদা আমি প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি তো আপনাকে শাবান মাসের ন্যায় অন্য কোনো মাসে এতো অধিক রোজা রাখতে দিখিনি। [এর হেতু কী?] জবাবে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, রমজান ও রজবের মধ্যবর্তী এ মাসটির ফজিলত সম্পর্কে লোকেরা গাফেল থাকে। অথচ এ মাসটি এমন, এ মাসেই বান্দাদের আমলসমূহ আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। আমি কামনা করি, আমার আমল আল্লাহর দরবারে এমতাবস্থায় পেশ করা হোক যখন আমি রোজাদার থাকি। (নাসায়ি শরিফ : ২৫১, হাদিস : ২৩৫৬) শাবান মাসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামুল লাইল বাড়িয়ে দিতেন। অন্য মাসের চাইতে বেশি পরিমাণে নফল রোজা রাখতেন। এভাবে সর্বপ্রকার ইবাদত বেশি বেশি করতে থাকতেন।

আমাদের করণীয় : এখন থেকেই আমাদের ইবাদত-বন্দেগির পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া চাই। অত্যাবশ্যক ইবাদতগুলোর মধ্যে যত রকমের গাফলত তৈরি হয়ে আছে সেগুলো শুধরে নিতে হবে। যেমন ধরুন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কখনো জামাতে আদায় হয় আবার কখনো একাকী, কোনোটা ওয়াক্ত মতো আদায় হয়, কোনোটা হয়ে যায় কাজা। রমজান মাস সামনে রেখে আমাদের এখন থেকেই দৃঢ়তার সাথে এ-জাতীয় গাফলত বা অবহেলা থেকে নিজেদের মুক্ত করতে হবে।

কোরআন তিলাওয়াত এ পর্যন্ত বেশ-কম যাই হয়েছে, কোরআন নাজিলের মাস রমজানুল মোবারকে যেন আমরা অনেক বেশি তিলাওয়াত করতে পারি, তার প্রস্তুতিস্বরূপ এখন থেকেই নিয়মিত প্রতিদিন আগের তুলনায় অধিক হারে তিলাওয়াত করতে হবে। এছাড়া অন্য নফল ইবাদতসমূহও আগের তুলনায় অল্প অল্প করে বাড়িয়ে দেওয়া চাই। যেন রমজান মাসে হঠাৎ ইবাদত বাড়িয়ে দেওয়ায় অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন না হতে হয়। পাশাপাশি এতদিনের কৃত পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে এখন থেকেই অধিক পরিমাণ তাওবা-ইস্তিগফারের অভ্যাস গড়ে নিতে হবে। ছোট-বড় যে কোনো গুনাহের কাজ বর্জন করে চলার মানসিকতা সুদৃঢ় করতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজানুল মোবারক হাসিল করার, বন্দেগির মাধ্যমে অতিবাহিত করার এবং এর জন্য আগে থেকেই পরিপূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

লেখক : মুহাদ্দিস ও সহকারী শিক্ষাসচিব, জামিআতুস সুফফাহ আল ইসলামিয়া গাজীপুর

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads