শ্রমিক সংকটে দিশেহারা কৃষক

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

শ্রমিক সংকটে দিশেহারা কৃষক

  • ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২০ মে, ২০২১

ধামরাইয়ে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। লকডাউনের মধ্যে শ্রমিক সংকটে ধান কাটা ও মাড়াইসহ ঘরে তুলতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সময়মতো কেটে ঘরে তুলতে না পারলে ঝড়বৃষ্টিতে ক্ষতির শঙ্কায় তারা। চাহিদার তুলনায় শ্রমিক কম হওয়ায় স্থানীয় প্রমিকদের মজুরিও বেশি পড়ছে বলে চাষিদের ভাষ্য।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি বছর ১৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় রাতাশাইলসহ চার প্রকারের হাইব্রিড ও ১৪ প্রকারের উফশী ধানের আবাদ করা হয়েছে।

উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের মারাপাড়া গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, এবার গত বছরের তুলনায় প্রতি শতাংশে ধানের ফলন ৪/৫ মণ বেশি হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় শ্রমিক না থাকায় পাকা ধান কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটা ও মাড়াই করতে না পারলে আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছে বলে জানান এই কৃষক।

উপজেলার জালসা গ্রামের কৃষক আ. হালিম বলেন, এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। কিন্ত ধান পেকে যাওয়ার পরও জেলার বাইরের শ্রমিক না আসায় ও ঝড়-বৃষ্টিতে ধানের ক্ষতির আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত মজুরি দিয়ে প্রতি বিঘা চার হাজার টাকায় ধান কেটে ঘরে তুলেছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হাসান বলেন, প্রতিবারের চেয়ে এবার ধামরাইয়ে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকরা খুবই খুশি ফলন বেশি হওয়ায়। আর শ্রমিক সংকট রয়েছে করোনার কারণে। কিন্তু সেটা ধামরাইয়ে বেশি একটা প্রভাব ফেলতে পারবে না। কারণ কৃষকের কথা চিন্তা করে সরকার ভর্তুকি দিয়ে ধামরাইয়ে কয়েকটি ধান কাটার হারভেস্টার মেশিন দিয়েছে। যে মেশিন দিয়ে কৃষকরা কম টাকায় ও কম সময়ে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছে। যারা শ্রমিক সংকটের জন্য ধান কাটতে পারছে না তাদেরকে আমি অনুরোধ করবো, তারা যেন তার নিজ এলাকা বা আশপাশে একটু খুঁজ নেয় হারভেস্টার মেশিন কে কিনেছে। খুঁজ নিয়ে সেই মেশিনের মালিকের সঙ্গে কথা বলে মেশিন দিয়ে ধান কাটবেন। এতে আপনাদের টাকা ও সময় দুটোই কম লাগবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads