প্রকৃতপক্ষে হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। অন্তত তারা সেটাই প্রচার করে থাকে। বলা হয়ে থাকে, সংগঠনটির কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। ইসলামী মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখা এবং যে কোনো ধরনের ইসলামবিরোধী কার্যকলাপের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধই তাদের উদ্দেশ্য। যদিও হেফাজতে ইসলাম নামের সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামী আন্দোলন ইত্যাদি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতারা সম্পৃক্ত রয়েছেন। ফলে এটা আর এখন বিশ্বাসযোগ্য কথা নয় যে, হেফাজতে ইসলামের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য নেই। অন্যদিকে সরকারি মহল থেকে প্রায়ই অভিযোগ করা হয়ে থাকে, হেফাজতের পেছনে বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধন আছে। আর বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায়ই হেফাজতের উত্থান ঘটেছে। এসব অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, আসলেই কি হেফাজতে ইসলাম রাজনীতি করছে, নাকি তাদেরকে নিয়েই রাজনীতি হচ্ছে। এ প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে হেফাজতে ইসলামের অভ্যুদয় এবং এ যাবৎ সংগঠনটির কর্মতৎপরতাকে অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে।
হেফাজতে ইসলাম গঠিত হয় ২০১০ সালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসার প্রিন্সিপাল আল্লামা আহমদ শফীর নেতৃত্বে। সে সময় এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মুফতি ইজহারুল ইসলামসহ আরো কয়েকজন মাদরাসা শিক্ষক। প্রথমদিকে এ সংগঠনটি দেশে অনৈসলামিক কার্যকলাপ প্রতিরোধের কথা বললেও পরবর্তী সময়ে এরা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের মতামত দিতে থাকে এবং দাবি-দাওয়া পেশ করতে থাকে। ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে প্রথম জনসভা করে হেফাজত। পরে ২০১৩ সালে তারা ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা, নারীশিক্ষা সীমিতকরণ, স্কুল-কলেজের পাঠ্যবই থেকে তাদের ভাষায় ইসলামবিরোধী বিষয়সমূহ বাদ দেওয়া, কওমি সনদকে স্বীকৃতি দান ইত্যাদিসহ ১৩ দফা দাবি পেশ করে সরকারের কাছে। এসব দাবির পক্ষে জনমত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে হেফাজত চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহী থেকে লংমার্চ শুরু করে এবং ৬ এপ্রিল রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে। এসব দাবি আদায়ের লক্ষ্যে হেফাজত ওই বছর ৫ মে রাজধানী ঢাকার শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশের ডাক দেয়। এর আগের দিন হেফাজত নেতাকর্মীরা ঢাকার ছয়টি প্রবেশমুখে এসে জড়ো হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুমতি নিয়ে তারা ৫ মে সকালে শাপলা চত্বরে জড়ো হতে থাকে। হেফাজতের মিছিলের সঙ্গে ঢাকা ও আশপাশে আওয়ামী লীগের কর্মীদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ক্ষুব্ধ হেফাজত কর্মীরা ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। দিনব্যাপী কেথাও কোথাও তা পুলিশ, আওয়ামী লীগ কর্মী ও হেফাজতে ইসলামের ত্রিমুখী সংঘর্ষে রূপ নেয়। ওই সংঘর্ষে কতজন প্রাণ হারিয়েছে, তার সঠিক হিসাব আজ অবধি পাওয়া যায়নি।
একটি বিষয় স্বীকার করতেই হবে যে, হেফাজতের আজকের যে বাড়বাড়ন্ত তার পেছনে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। সরকারের আচরণে প্রথম থেকেই হেফাজতকে প্রশ্রয় দেওয়ার একটি প্রচ্ছন্ন ভাব দৃশ্যমান ছিল। কারো কারো মতে, জামায়াতে ইসলামীকে পর্যুদস্ত করার জন্য সরকার ভিন্ন আরেকটি ইসলামী শক্তি গড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে চেয়েছিল। তারই সুবাদে হেফাজতের ব্যানারে কয়েকটি ইসলামী রাজনৈতিক দল অন্তর্ভুক্ত হয়ে নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টায় নিয়োজিত হয়। ২০১৩ সালের ৫ মে যে রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঢাকায় ঘটেছিল, তার পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন ছিল না-এ কথা হলফ করে বলা যাবে না। সেদিন দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের নেতাকর্মীদের ওপর সরকারি দলের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলার নিন্দা জানিয়ে সংগঠনটির কর্মসূচির প্রতি তাদের সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেন। ওইদিন রাতেই বিএনপি চেয়ারপারসন হেফাজত নেতাকর্মীদের ঢাকায় মুসাফির আখ্যায়িত করে তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতার জন্য দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। শোনা যায়, দিনভর সংঘর্ষ চললেও সন্ধ্যার পর হেফাজতের সঙ্গে সরকারের একটি সমঝোতা হয়ে গিয়েছিল। তদানুযায়ী সিদ্ধান্ত হয়েছিল রাত দশটায় আহমদ শফী আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করবেন। ওদিকে বাবুনগরীসহ হেফাজত নেতারা তাদের বক্তৃতায় বলছিলেন যে, তাদের নেতা আহমদ শফীর নির্দেশ ছাড়া তারা অবস্থান ছেড়ে যাবেন না। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসনের বিবৃতির পর দৃশ্যপট পাল্টে যায়। সরকার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে কঠোরতার দিকে অগ্রসর হয়। ফলে আহমদ শফীর আর সে রাতে শাপলা চত্বরে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। তারপর সে রাতে শাপলা চত্বরে কী ঘটেছিল তা সবারই জানা।
এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, শুরু থেকে সরকার হেফাজত প্রশ্নে নমনীয় ভূমিকা পালন করেছে। পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি সরকার হেফাজতের সঙ্গে সন্ধি করেছে, তাদের বেশকিছু দাবি মেনে নিয়েছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত ঘটনায় হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৬০টি মামলা দীর্ঘ আট বছরেও তদন্তের মুখ দেখেনি। সাম্প্রতিক সহিংসতার পর সেসব মামলা সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার হেফাজতকে আস্কারা দিয়ে এতটাই মাথায় তুলেছে যে, এখন তারা সরকারের জন্য অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে। স্মরণযোগ্য যে, গত ডিসেম্বর মাসে এরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরুদ্ধে এক প্রশ্নবোধক আন্দোলন শুরু করেছিল। প্রশ্নবোধক বলছি এজন্য যে, হঠাৎ করে কেন তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপর হামলে পড়ল, তা ছিল অস্পষ্ট। দেশের নানা জায়গায় হাজারো ভাস্কর্য থাকলেও সেগুলো সম্পর্কে কোনো কথা না বলে শুধু বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণাকে কেউ স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। তাছাড়া ওই সময় হেফাজত নেতা মামুনুল হকের ‘ওই ভাস্কর্য স্থাপন করা হলে তা ভেঙে টুকরা টুকরা করে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলা দেওয়া হবে’- এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যও সবাইকে হতবাক করেছে। এই চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের পরেও মামুনুল হকের গায়ে তেমন কোনো আঁচড় লাগেনি। একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা অবশ্য হয়েছিল, তবে তা এখনো হিমঘরেই আছে। কেউ কেউ বলেন, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বিএনপির কোনো নেতা এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করলে মামলা তো সাধারণ ব্যাপার, পরদিনই তাকে আর খোলা আকাশের নিচে থাকতে হতো না। কিন্তু মামুনুলের কিছু হয়নি। তিনি ছিলেন বহাল তবিয়তেই। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেউ কেউ সন্দেহ করেন, সরকারের অভ্যন্তরেও হয়তো হেফাজতের শুভাকাঙ্ক্ষীরা আছে; যারা সরকারপ্রধানকে ‘আমগাছের তাল আর জাম গাছের নারিকেল’ বুঝিয়ে কখনো কখনো এসব বিষয় উপেক্ষা করতে ভূমিকা রাখে।
এবার আসা যাক অতিসম্প্রতি হেফাজত সারা দেশে যে তাণ্ডব ঘটালো সে প্রসঙ্গে। এ বিষয়ে গত ৪ এপ্রিলের বাংলাদেশের খবরের এ কলামে বিস্তারিত আলোকপাত করেছি। এখানে শুধু একটি কথাই উল্লেখ করতে চাই, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে আসার বিরুদ্ধে হেফাজতের অমন সহিংসতা একেবারে অকারণ নয়। প্রথমত লক্ষ করার বিষয় হলো, হেফাজত নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিলেও এর অধিকাংশ শীর্ষনেতা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। শুধু তা-ই নয়, কয়েকজন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। ফলে মাঝে মধ্যেই তাদের রাজনৈতিক চরিত্র বিভিন্নভাবে প্রকাশ হয়ে পড়ছে।
এদিকে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের নারায়ণগঞ্জের একটি রিসোর্টে এক নারীসঙ্গী নিয়ে আটকের ঘটনায় হেফাজত ত্রিশঙ্কু দশায় উপনীত হয়েছে। একদিকে ধর্মপ্রাণ মুসলমান, যারা হেফাজতের সমর্থক, তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে একজন শীর্ষ নেতার এহেন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংগঠনটির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। প্রথমে হেফাজতের পক্ষ থেকে বিষয়টি মামুনুলের ব্যক্তিগত বলে মন্তব্য করা হলেও তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার পরিচয় প্রকাশ হওয়ার পরে অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে জান্নাতুল ফেরদৌস নামে অপর আরেকজন ডিভোর্সি মহিলার সঙ্গে মামুনুলের রহস্যময় সম্পর্কের খবরও গণমাধ্যমে এসেছে। ওই মহিলার ভাই সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, এক বছর আগে মামুনুল তার বোনকে বিয়ে করেছেন। যদিও এই তৃতীয় নারীর পরিচয় সম্পর্কে মামুনুল বা হেফাজত এখন পর্যন্ত কিছুই বলেনি।
মামুনুলের ব্যক্তিগত অনৈতিকতার কারণে হেফাজত এখন সংকটের মুখোমুখি। সংগঠনটির একটি অংশ মান বাঁচাতে তাকে বহিষ্কারের পক্ষে। তবে হেফাজতের আমির মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরীসহ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা মামুনুলের পক্ষ নিয়ে তাকে রক্ষার চেষ্টা করছেন। তারা ঘটনাগুলোকে মামুনুলের ব্যক্তিগত বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সচেতন মহলের অভিমত, কোনো দল বা সংগঠনের একজন নেতার ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় সে সংগঠনের ওপর আপনাআপনি বর্তায়; যদি সংগঠন ওই ব্যক্তির পক্ষ নেয় এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে। আজ যদি মামুনুল হক হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা না হতেন, তাহলে তার ওই কাণ্ড নিয়ে এত হইচই হতো না। সেটা আর দশজন সাধারণ অপরাধীর মতোই গণ্য হতো। একজন বিশিষ্ট আলেম (?), যিনি মানুষকে নৈতিকতা বিষয়ে নসিহত করে থাকেন, দেশে ইসলামের অনুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণকে জেহাদে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়াস পান, তিনি নিজেই যখন ইসলামের আক্বিদাবিরোধী কর্মে লিপ্ত হন, অপরাধটা তখনই দশগুণ বেড়ে যায়। সুতরাং হেফাজত মামুনুলের অপকাণ্ডের দায়ভার এড়ানোর চেষ্টা করলেও তা যে সম্ভব নয়, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এদিকে মামুনুলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য গত ১১ এপ্রিল চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিশেষ বৈঠকে বসেছিলেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা। সেখানে মামুনুলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক হলেও আমির বাবুনগরী ও কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার কারণে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অবশ্য মামুনুলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী ২৯ মে অনুষ্ঠেয় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনে সে তদন্ত রিপোর্ট উপস্থাপন করবে। এ সিদ্ধান্ত দ্বারা হেফাজতের অভ্যন্তরে মামুনুলের বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠা ক্ষোভের আগুন আপাতত ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।
অপরদিকে চারদিক থেকে নানা সমস্যা-সংকট চেপে ধরছে হেফাজতকে। সাবেক আমির আহমদ শফীর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যা বলে উল্লেখ করে বর্তমান আমির জুনাইদ বাবুনগরীসহ সংগঠনটির ৪৩ জন নেতাকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এছাড়া মোদিবিরোধী তাণ্ডব ও মামুনুলের রিসোর্টকাণ্ডের পর সংগঠনটি থেকে অনকেই মুখ ঘুরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। গত ৩০ মার্চ হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আবদুল আউয়াল সংগঠনটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া গত ১২ এপ্রিল জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটির নায়েবে আমির ও বাংলাদেশ ফরায়েজি আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞমহলের মতে, এ ধরনের পদত্যাগ বা সম্পর্ক ছিন্ন করার সংখ্যা আরো বাড়বে। সরকার ও বিরোধী দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে হেফাজত একধরনের জোয়ারে ভাসতে শুরু করেছিল। এবার বোধহয় তাতে ভাটার টান শুরু হলো।
লেখক : সাংবাদিক ও রাজনীতি বিশ্লেষক





