গৌরনদীতে সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে মৃত ব্যক্তি, পাকা ভবনের মালিক, প্রবাসী, বিত্তবান, একঘরে একাধিক কার্ড ও পক্ষের ভোটার এবং অন্য এলাকার বাসিন্দার নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (১০ টাকা কেজি দরে) চালের কার্ড ইস্যু করে বিতরণ ও চাল গ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল প্রায় এক হাজার বিত্তবান ও স্বচ্ছল সুবিধাভোগী গ্রহণ করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় জনপ্রতিনিধিদের তালিকা অনুযায়ী ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে ১৯০৫টি, বার্থী ইউনিয়নে ১৮৩৮টি, চাঁদশী ইউনিয়নে ৭৯৯টি, মাহিলাড়া ইউনিয়নে ১০৮৭টি, বাটাজোর ইউনিয়নে ১৬৫২টি, নলচিড়া ইউনিয়নে ১৫৫০টি ও শরিকল ইউনিয়নে ১৬৬০টি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় বার্থী ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছে পার্শ্ববর্তী কালকিনি উপজেলার কালকিনি গ্রামের মৃত গনি ফকিরের ছেলে সাহেব আলী ফকির (কার্ড নং ১১৭), একই গ্রামের মোকছেদ সরদারের ছেলে ইমামুল ইসলামের নাম (কার্ড নং ১১৮), একই ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছেন একই পরিবারের দুজন দেলোয়ার হোসেন (কার্ড নং ১৫০০) ও তার স্ত্রী নাছিমা বেগম (কার্ড নং ১৩৯৬), তাছাড়া বার্থী গ্রামের খলিল প্যাদার ছেলে মো. আবুল কালাম আজাদ (কার্ড নং ১৭১৫) ও তার ভাই সৌদি প্রবাসী মো. আলামিন প্যাদা (কার্ড নং ১৫১৯), মৃত সিরাজুল হক প্যাদার ছেলে ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানে ছোট ভাই মো. জাফর প্যাদা (কার্ড নং ১৩২৮) ও সৎ ভাই সুজন প্যাদা (কার্ড নং ১৪৯৩)। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা গত ১৯ নভেম্বর ইউএনও’র বরাবরে লিখিত অভিযোগ করলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন ইউএনও।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল বাসার বলেন, তদন্তে জব্দকৃত ৬৬টি কার্ডের মধ্যে দুজন মৃত ব্যক্তি, তিনজন প্রবাসী, ২২ জন বিত্তবান ও ৩৯ জন বিভিন্ন ভাতাভোগীর নামে ইস্যু রয়েছে। স্বচ্ছভাবেই তদন্ত করে জব্দকৃত কার্ডগুলে ইউএনওর কাছে জমা দিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছি।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আশোক কুমার জানান, শরিকল ইউপির ২নং ওয়ার্ডে তিনি তদন্ত করে আটটি কার্ড বাতিলের জন্য ইউএনওর কাছে সুপারিশ করেন। ইউপি চেয়ারম্যানদের দেওয়া নামের তালিকা অনুযায়ী কার্ড ইস্যু করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ইস্যুকৃত কার্ডের তালিকা সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী যাচাই বাছাইয়ের জন্য সাত ইউপি চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কেউ অনিয়মের অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে ইস্যুকৃত কার্ড বাতিল করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী শরিকল ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।





