আইন-আদালত

বাণিজ্যিক মামলায়ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি আইন জরুরি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৭ ডিসেম্বর, ২০২০

বিচার বিভাগের ওপর থেকে মামলার বোঝা কমানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক মামলায় দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’ আইনের প্রয়োগ জরুরি। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গতিশীলতা আসবে। গত শনিবার ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) বিচারপ্রাপ্তি ত্বরান্বিত করতে পারে’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এমন মতামত তুলে ধরেন। বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টার (বিয়াক) এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ যৌথভাবে এ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বক্তারা বলেন, দেশে প্রায় ৩৮ লাখ বিচারাধীন মামলা রয়েছে। ফলে বিচার বিভাগের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে তা কমাতে এডিআরের আওতা বাড়াতে হবে। মাত্র একজন বিচারককে প্রায় দুই হাজার বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম সালিশ আইন ২০০১-এর বেশ কিছু দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন। বলেন, সময় ও অর্থ অপচয় রোধের যে উদ্দেশ্য নিয়ে আইনটি প্রণীত হয়েছিল, সে লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। এ জন্য তিনি দেওয়ানি আদালতের পরিবর্তে আরবিট্রাল অ্যাওয়ার্ড বাস্তবায়নের জন্য পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠনের পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবির স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বিভিন্ন আইনে এডিআরের ধারা সংযোজনের মাধ্যমে সরকার সবার বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করেছে। ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’ বা এডিআর সব ধরনের কার্যবিধিগত জটিলতা এড়িয়ে দ্রুততম সময়ে বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সমাপনী বক্তব্যে বিয়াকের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর আওতায় সবার জন্য বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রচলিত আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রাপ্তির জন্য বিচারপ্রার্থীদের আর্থিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। ফলে সালিশি ও মধ্যস্থতাসহ এডিআর পদ্ধতির ব্যাপক প্রচলন এ সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

বিয়াকের পরিচালক এম এ আকমল হোসেন আজাদের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন আইন কমিশন বাংলাদেশের মুখ্য গবেষণা কর্মকর্তা ফওজুল আজিম, মাহবুব অ্যান্ড কোম্পানির পার্টনার ব্যারিস্টার সাকেব মাহবুব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব কাজী আরিফুজ্জামান এবং উপসচিব মোসা. জান্নাতুল ফেরদৌস, মো. আসাদুজ্জামান নূর, জিএম আতিকুর রহমান জামালী ও মোহাম্মদ আবদুল হালিম প্রমুখ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads