কেউ পড়েছে স্কুলের নতুন পোশাক, কেউবা পড়েছে পরিস্কার পোশাক। সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। টানা ১৮ মাস বা ৫৪৩ দিন বন্ধের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেই চিরচেনা ঘণ্টার শব্দটিও কানে ভেসে আসে। শুধু তাই নয়, শ্রেণিকক্ষে ঢুকে রোলকল করতেই কানে ভেসে এলো সেই চিরচেনা শব্দ ‘উপস্থিত স্যার’। যা শিক্ষকরা শুনলেন ৫৪৩ দিন পর। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উচ্ছ্বসিত শিক্ষকরাও। রোববার সকালে এমনই চিত্র দেখা গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের নাছরিন নবী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি (রোল কল) করার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ বলছে ‘উপস্থিত স্যার’ আবার কেউ বলছে জি স্যার। এর আগে বিদ্যালয়ে প্রবেশের পূর্ব যাবতীয় স্বাস্থ্য বিধি মেনে ভেতরে প্রবেশ করানো হয় শিক্ষার্থীদেরকে।
এদিকে পৌর শহরেরর নাছরীন নবী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়, দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মোগড়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সামাজিক দূরত্ব মানাতে বিদ্যালয়গুলোর প্রবেশপথে করা হয়েছে মার্কিং। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ, বাথরুম, শিক্ষকদের অফিস ও কমনরুম করা হয়েছে স্যানিটাইজ। সাবান দিয়ে হাত ধোওয়ার করার ব্যবস্থা করা হয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, পৌরশহরসহ উপজেলায় ৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮টি মাদরাসা ও ২টি কলেজ রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে অর্ধশতাধিক কিন্ডারগার্টেন স্কুল। সম্প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা পেয়েই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র মো. পারভেজ ভূইয়া বলেন, স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর থেকে এক টানা এতো দিন স্কুল বন্ধ হয়নি। ফলে আমাদের পড়াশুনা যেন সব এলোমেলো হয়ে যায়। অবশেষে টানা দেড় বছর পর সবাই একসঙ্গে মিলিত হতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।
নাছরিন নবী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, টানা দেড় বছর পর আজকে স্কুলে পা রাখা। কি যে আনন্দ লাগছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। স্কুল খুলায় বান্ধবীদের সঙ্গেও দেখা হয়েছে। আবার সবাই মিলে ক্লাস করতে পাড়ায় খুবই ভালো লাগছে।
তারাগন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাজী জান্নাতুল মাওয়া ও কাজী আমরিন হাসান বলেন অনেকদিন পর স্কুলে আসতে পেরে তাদের খুবই আনন্দ লাগছে। এখন থেকে প্রতিদিন আগের মতো আমরা আবার স্কুলে আসবো, পড়ার টেবিলে বসবো, সবার সাথে দেখা হবে, খেলাধুলা করতে পারবো এযে কী আনন্দ।
তারাগন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌসুমী আক্তার বলেন, সকাল সাড়ে ৮টায় বিদ্যালয়ের গেটে টেবিলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্কসহ বিভিন্ন উপকরণ রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়ের গেটে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বিদ্যালয়ে ব্যানার টানানো হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের চকলেট দিয়ে কুশলাদি বিনিময় করছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। তিনি আরও বলেন রোলকলে অনেকটাই মুখরিত শ্রেণিকক্ষ। শিক্ষকদের মনেও ফিরেছে আমেজ। শিক্ষার্থিরাও আপ্লুত হয়ে উঠেন।
দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মাহফুজুর রহমান বলেন, সরকারি সব নির্দেশনা মেনেই স্কুল খোলা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। সবাইকে মাস্ক পরে স্কুলে আসতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পাঠদান করা হচ্ছে বলে জানায়।





