আবু হাসান শেখ, কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)প্রতিনিধি:
ফ্রি ফায়ার গেমে আসক্ত হয়ে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে আত্মগোপনে ছিল এক মেধাবী এসএসসি পরীক্ষার্থী। পুলিশ ওই পরীক্ষার্থীকে উদ্ধার করে মঙ্গলবার (২ মে) রাতে পরিবারের কাছে ফিরেয়ে দেয়। ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা উপজেলায়।
ওই শিক্ষার্থী কিশোরীগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ হতে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতো। সে কিশোরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ পুষনার মোতাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিমের পুত্র মুহিত হাসান বিপ্লব (১৬)।
পুলিশ সূত্র জানায়— মুহিত হাসান বিপ্লব চলতি এসএসসি পরীক্ষার্থী। সে কিশোরীগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ হতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতো। সে কৃষক আব্দুল হাকিমের একমাত্র ছেলে। ছেলের মানসম্মত পড়াশুনা, ভাল ফলাফল ও জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য তার বাবা একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন তার ছেলেকে কিনে দেন। ওই পরীক্ষার্থী অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ইতিবাচক দিক গ্রহণ না করে নেতিবাচকে ঝুকে পড়েন। ইতোমধ্যে সে ফ্রি ফায়ার গেমে আসক্ত হয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি ঠিকভাবে নিতে পারেনি। ফলে সে গত ২৩ এপ্রিল তার খালার বাড়ি গংগাচড়ায় যায়। ২৬ এপ্রিল খালার বাড়ি হতে বাড়ির উদ্দে্যাশে রহনা দিলও সে বাড়িতে না ফিরে আত্মগোপনে থাকে। অন্যদিকে সে বাড়িতে না ফেরায় তার পরিবারের লোকজন ২৭ এপ্রিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় আজ মঙ্গলবার তাকে মাহিগঞ্জ এলাকা থেকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে। গেমে আসক্ত হয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি ও ফলাফল খারাপ হওয়ার আশংকায় ওই পরীক্ষার্থী নিজেই আত্মগোপনে যায় বলে স্বীকার করে। সে ভুল করেছে এবং তার ভুল সে বুঝতে পেড়েছে বলেও স্বীকার করেন। পরে মঙ্গলবার রাতে ওই পরীক্ষার্থী মুহিত হাসান বিপ্লবকে (১৬) তার বাবার হাতে তুলে দেয় পুলিশ ।
এসএসসি পরীক্ষার্থী মুহিত হাসান বিপ্লব থানায় এসে তার ভুল স্বীকার করে বলেন— আমি গত চার মাস ধরে ফ্রি ফায়ার গেমে আসক্ত হয়ে পড়ি। ফলে পরীক্ষার প্রস্তুতি ঠিকভাবে নিতে পারেনি। আবার পরিবার থেকে বলা হয়েছে জিপিএ ৫ পেতে হবে। মানসিক এ চাপে আমি নিজেকে আত্মগোপন করি। ওই পরীক্ষার্থী এ প্রতিবেদককে বলেন— আমি আপনার মাধ্যমে সকল শিক্ষার্থী ভাই—বোনদের ম্যাসেজ দিতে চাই, জীবন গড়তে হলে মোবাইলের ইতিবাচক দিক গ্রহণ করতে হবে। নেতিবাচক দিক থেকে দূরে থাকতে হবে। আমার মত গেমে আসক্ত না হয়ে আপনারা বইয়ে আসক্ত হন। সুন্দর জীবন গঠনে বই পড়ার বিকল্প নেই। পিতা—মাতাদেরও ম্যাসেজ দিতে বলেন যে— প্রতিটি বাবা—মায়ের উচিত ছেলে মেয়ের খোঁজ খবর রাখা। তারা কোথায় কি করছে। ছেলে মেয়েরা মোবাইলে কি করছে তা নজর রাখার আহ্বানও জানান নিজের ভুল বোঝা ওই এসএসসি পরীক্ষার্থী।
কিশোরীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম আজম বলেন— সে বিজ্ঞান বিভাগের একজন মেধাবী ছাত্র। এ শিক্ষার্থীর থেকে তিনি সকল অভিভাবককে ছেলে মেয়ের ব্যাপারে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি অভিভাবকদের উদ্যোশে বলেন—আপনারা ছেলে মেয়েকে মোবাইল ব্যবহারে সচেতন করুন। মোবাইলের ভাল কিছু গ্রহণ আর খারাপ দিকগুলো পরিহারে ছেলে মেয়েদের সচেতন করার আহ্বানও জানান।
কিশোরগঞ্জ থানার এসআই নুর ইসলাম বলেন— তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় ওই শিক্ষার্থীকে মাহিগঞ্জ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সে তার ভুল বুঝতে পেরেছে এবং নিজিকে সুধরে নিবে বলে অঙ্গীকার করে।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজীব কুমার রায় জানান— ফ্রি ফায়ার গেমে আসক্ত হয়ে ওই শিক্ষার্থী ফলাফল খারাপের আশংকায় আত্তগোপনে ছিল। তাকে উদ্ধার করে তার বাবার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।





