টিভি নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করছেন ফারজানা ছবি। চলতি বছরে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত ‘জয়নগরের জমিদার’ ছবিটি। এর রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু করেছেন একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের শুটিং। চলচ্চিত্রের নাম ‘জনকের মুখ’। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় ও মুজিববর্ষ উদযাপন কমিটির আর্থিক অনুদানে নির্মিত এই ছবি পরিচালনা করছেন মান্নান হীরা। কাহিনি ও সংলাপ করেছেন তিনিই। এতে ছবিকে দেখা যাবে একজন মুক্তিযোদ্ধার মায়ের চরিত্রে। গল্পের মুখ্য চরিত্র তাকে ঘিরেই। শহিদ সোলেমান চরিত্রটি করেছেন সাক্ষ্য শহীদ।
১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত একজন শহিদের মায়ের জীবনের ছবি আঁকা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে। সন্তান মারা যাওয়ার পর যার একমাত্র আস্থা, শক্তি আর অবলম্বন ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গল্পে দেখা যাবে, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের একটি বাড়ি। সেই বাড়িতে থাকেন সোলেমানের মা, যে সোলেমান মারা গেছে মুক্তিযুদ্ধে, ১৪ আগস্ট। সেদিন থেকেই এই মা আর আঙিনার ফুলের সুবাস পায় না। পায় না পাকা কাঁঠালের ঘ্রাণ। গত তিন বছরের মতো সেবারও ছেলের মৃত্যুর দিনে মা ফিরনি রাঁধে। কিন্তু পুড়ে যায় সেই ফিরনি। এ কি কোনো অশুভ সংকেত? ১৫ আগস্ট ভোররাতে সেই মা স্বপ্নে দেখে, তার সন্তান মরে পড়ে আছে। কালো কাপড়ে আচ্ছন্ন তার সারা শরীর। ঘুম ভেঙে উঠে বুক ধড়ফড় করে এই মায়ের। তিনি ভাবেন, তার একটাই সন্তান।
দুবার মারা যায় কীভাবে? ছবি বলেন, ‘বেশকিছু দৃশ্যে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার কাল্পনিক কথোপকথন দেখানো হয়েছে। এই চরিত্রের বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব এবং অসীম শক্তির মাঝে আমি ব্যক্তি ছবিকে ভুলে ছিলাম। আমাকে বয়স এবং চিন্তায় অনেকটা সামনে এগোতে হয়েছে। কিন্তু গল্পের সময়টা আবার পেছনের, আমার অদেখা। সেসব অনুভব ধারণ করা আমার জন্য এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা, আর অভিনয় জীবনের একটা বড় প্রাপ্তি।’
৪০ মিনিট ব্যাপ্তির এই ছবির শুটিং শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে। ঢাকা, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জের নন্দীগ্রাম, সোরল, ভাদুন, হারবাইদসহ বেশকিছু গ্রামে ছবিটির শুটিং হয়েছে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের দৃশ্যায়ন। শেষ হবে চলতি সপ্তাহে। চলতি মাসেই দেশের মানুষ দেখতে পারবে ‘জনকের মুখ’। ১৭ মার্চ থেকে আগামী বছরের ১৭ মার্চ পর্যন্ত পুরো এক বছর বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কার্যালয়ে ছবিটি প্রদর্শিত হবে বলে জানান ফারজানা ছবি।





