জাতীয়

প্রশাসনিক মামলা তদন্তে নয়ছয়

  • এম এ বাবর
  • প্রকাশিত ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১

সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা বজায় রেখে জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম চলছে যেনতেনভাবে। মাঠ প্রশাসনে কর্মরত প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের অপরাধের অভিযোগ স্তূপ হয়ে আছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু হাতেগোনা কিছু ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিচ্ছে মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগ। আর এগুলোর তদন্ত চলে বছরের পর বছর ধরে। তবে বিভাগীয় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে গত সোমবার একটি নির্দেশিকা জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে বিভাগীয় মামলা সঠিক তদন্ত ও দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার আশা করছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা।

জনপ্রশাসনে দায়ের করা অভিযুক্তদের দাবি, এসব অভিযোগ তদন্তও করছেন নিজ ক্যাডারের সিনিয়র কর্মকর্তারাই। ফলে তদন্তের নামে নয়ছয় করে অভিযুক্ত জুনিয়র কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া তদন্তের দীর্ঘ সূত্রিতার সুযোগে, বিভাগীয় মামলায় গুরুদণ্ডের মতো অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তাকে দেওয়া হচ্ছে লঘুদণ্ড। আবার কিছু অভিযোগের ঘটনা গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে লোক দেখানো ওএসডি করা হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ অভিযুক্তকে মামলার দণ্ড হিসেবে শুধু ‘তিরস্কার’ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা যথাযথ মানা হয় না বলে অভিযোগ করেন তারা।

মাঠ প্রশাসনে কাজের গতি আনতে প্রতি বছরই সরকার নতুন করে জনবল নিয়োগ দিচ্ছে। বিসিএস মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডরে নতুন নিয়োগসহ যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মকর্তাদের পদিন্নতি দিয়ে বিভিন্ন পদে পদায়ন করা হয়। এ বছর প্রশাসনে সচিব থেকে উপসচিব পর্যন্ত সাড়ে ৬০০’র বেশি কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর প্রশাসনে ৩০ জন অতিরিক্ত সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব করা হয়েছে। এছাড়া গত ৭ মার্চ ৩৩৭ কর্মকর্তাকে সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর ৯২ জন যুগ্মসচিবকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর ২১৩ কর্মকর্তা উপসচিব থেকে যুগ্মসচিব হন। কিন্তু মাঠ প্রশাসনে কাজ করতে গিয়ে সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ এদের অনেকেই নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর অধীনেই এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ বছরে প্রশাসনের ২ হাজার ৭৪৮ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারীঘটিতসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগ তদন্ত করে ৩৬৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরপর প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে ৩৬৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। এর আগে সহ এ নিয়ে মোট ৪৪০টি বিভাগীয় মামলার মধ্যে গত ১০ বছরে ৬৭ জন কর্মকর্তাকে গুরুদণ্ড, ১২৬ কর্মকর্তাকে লঘুদণ্ড, ২০৩ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আলোচিত কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে ‘লঘুদণ্ড’ দিয়ে গত ১০ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এতে তার দুই বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগের এক কর্মকর্তা মন্তব্য করে বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ এর বিধি ৩ (খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলার সুষ্ঠ তদন্ত না হওয়ায় সুলতানা পারভীনের ‘লঘুদণ্ড’ হয়েছে।  

কুড়িগ্রামে ডিসি হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে সুলতানা পারভীন একটি পুকুর সংস্কার করে নিজের নামে নামকরণ করতে চেয়েছিলেন। স্থানীয় সাংবাদিক আরিফ এ বিষয়ে রিপোর্ট করার পর থেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ডিসি। এছাড়া সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ নিয়ে ডিসি সুলতানা পারভীনের অনিয়ম নিয়েও প্রতিবেদন তৈরি করেন আরিফুল। এ সময় একাধিকবার তাকে ডিসি অফিসে ডেকে নিয়ে হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনার জেরে গত ১৩ মার্চ মধ্যরাতে সাংবাদিক আরিফের বাসায় হানা দিয়ে তাকে তুলে ডিসি অফিসে এনে নির্যাতন করা হয়। এরপর আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে ওই রাতেই তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়। এরপর থেকেই ডিসি সুলতানা পারভীন আলোচনায় ছিলেন। এ ঘটনা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নজরে এলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রংপুর বিভাগীয় কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার অফিসের কর্মকর্তারা তদন্ত করে প্রতিবেদনের খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠায়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ডিসির কাজে অনিয়ম পাওয়ায় তাকে প্রত্যাহারের আদেশ দেয়।

যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (শিক্ষানবিশ) নাদির হোসেন শামীমের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। একাধিক নারীর অভিযোগ তদন্ত শেষে তা প্রমাণিত হলে শুধুমাত্র ‘তিরস্কার’ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রতারণার শিকার একজন নারী বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা শামীমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে মৌখিক বক্তব্য শোনেন। এরপর ওই বক্তব্য লিখিত আকারে গ্রহণ করেন।

তিনি আরো বলেন, শামীমের সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছবি এবং মেসেঞ্জারে দুজনের কথোপকথনের প্রিন্টকপিসহ বিভিন্ন আলামত সংযুক্ত করে দেই। শামীম অভিযোগকারী শিক্ষিকার সঙ্গে ‘প্রেম’ ও শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। তারপরও এমন লঘুদণ্ডে তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন। এর পরেও ওই কর্মকর্তা বর্তমানে তার দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সরিয়ে নিতে খুলনার বিভাগীয় কমিশনারকে চিঠি দেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। বিভাগীয় কমিশনার খুলনাকে দেওয়া চিঠিতে তিনি বলেন, নাদির হোসেন শামীম (১৮৪৩৬), সহকারী কমিশনার (শিক্ষানবিশ), জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, যশোরে কর্মরত আছেন। এর পূর্বে তিনি আরো দুইটি জেলায় কর্মরত ছিলেন। একাধিক নারী অভিযোগ করায় শিক্ষানবিশ এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু হয় এবং তিনি ‘তিরস্কার’ সূচক লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হন। বর্তমানে এ জেলায় কর্মকালে তিনি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা প্রদর্শনে ব্যর্থ হচ্ছেন। এজন্য তাকে অন্যত্র বদল করা প্রয়োজন। এমতাবস্থায় তাকে অন্যত্র বদলি করার অনুরোধ করা হয়।

নাটোরের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় উপ-সচিব (ওএসডি) নাজমুন নাহার মান্নু অনিয়মের মাধ্যমে অর্ধবঙ্গেশ্বরী রানী ভবানী দীঘির দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত দেন। এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরেও তাকে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। এতে নাজমুন নাহার মান্নুর দুই বছর বেতন বাড়বে না। ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮’ অনুযায়ী নাজমুন নাহারকে লঘুদণ্ড দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

নাজমুন নাহার মান্নু ২০০৪ সালের ৩ এপ্রিল থেকে ২০০৭ সালের ৫ জুন পর্যন্ত নাটোরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে কর্মরত থাকাকালে বৈজ্ঞানিক উপায়ে মাছ চাষের জন্য নাটোর আধুনিক মৎস্য চাষ প্রকল্প লিমিটেডের অনুকূলে ১০ বছরের জন্য বন্দোবস্তকৃত নাটোর সদর উপজেলাধীন ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৬০০৪, ৬৯৪৩ ও ৮৫১৭ নং দাগে অবস্থিত ২৭ দশমিক ১৬৯৬ একর আয়তনবিশিষ্ট অর্ধবঙ্গেশ্বরী রানী ভবানী দীঘির দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত প্রস্তাব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে অগ্রগায়ন করায় এবং পরবর্তীকালে জেলা প্রশাসক তা অনুমোদন দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ এর বিধি ৩ (খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ এনে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

বিভাগীয় মামলায় শুধু তদন্ত প্রতিবেদনেই অনিয়ম নয়, রয়েছে কয়েক হাজার মামলা দীর্ঘ বছর ঝুলিয়ে রাখারও অভিযোগ। তবে বিভাগীয় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে গত ২৭ ডিসেম্বর ‘বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি নির্দেশিকা’ প্রকাশ করেছে সরকার। এটির উপদেষ্টা হিসাবে রয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, উপদেষ্টা সম্পাদক হিসাবে রয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সদ্য বিদায়ী সিনিয়র সচিব শেখ ইউসুফ হারুন এবং এটি সম্পাদনা করেছেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগ) এ এফ এম হায়াতুল্লাহ।

‘বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি নির্দেশিকা’ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, সরকারি কর্মচারীদের তাদের কর্মকালে দায়িত্ব পালনের পরিসরে কিংবা তার ব্যক্তিগত জীবনের জন্য অশোভন আচরণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এটি প্রণীত। এই বিধিমালার অধীনে বিচার্য পাঁচটি অপরাধের অভিযোগ বিবরণী প্রস্তুত থেকে শুরু করে অভিযোগ গঠন তথা অভিযোগনামা প্রণয়ন, তদন্ত অনুষ্ঠান এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ‘কর্তৃপক্ষ’ (নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ) কর্তৃক বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রদান তথা অব্যাহতি কিংবা দণ্ডদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সীমিত আকারে নির্দেশনা সন্নিবেশিত আছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম বলেন, জনগণের সেবার মান ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে এগোচ্ছে। সে নীতি মাথায় রেখে বিধি মেনে প্রশাসনের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে তা দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি করতে শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগ মিলে টিম গঠন করে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের ই-ফাইলিং কার্যক্রমে যাবতীয় তথ্য উপাত্ত যুক্ত করা হচ্ছে। অনলাইনে এসব যুক্ত হলে এক রুম থেকে অন্য রুমে ফাইল টানাটানির ঝামেলা কমবে। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি।

  জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, সরকারি কর্মচারীগণ কর্তৃক শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধি-বিধানসমূহের যথাযথ প্রয়োগ ব্যতীত সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব নয়। তাই সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র বিভিন্ন আইন, বিধি ও আদেশ নির্দেশ জারি করে। পূর্ববর্তী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা হালনাগাদ করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ প্রণয়ন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ নির্দেশিকা বিভাগীয় মামলা সংক্রান্ত পদ্ধতিসমূহের সহায়তা করবে একই সঙ্গে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া আরো বেগবান হবে। এর মাধ্যমে মাঠ প্রশাসন পরিচালনে ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ কমে আসবে বলে আমি আশা করি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads