শোবিজ

পাঁচ বছর পর বড়পর্দায় আগুন

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৩০ অগাস্ট, ২০১৯

পুরো নাম খান আসিফুর রহমান আগুন। ১৯৯৩ সালে ‘বাবা বলে ছেলে নাম করবে’ এবং ‘ও আমার বন্ধু গো...’ গান দিয়ে তিনি ছড়িয়ে পড়েছিলেন বাংলাদেশের পথে-প্রান্তরে, সব শ্রেণির মানুষের কণ্ঠে। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা খান আতাউর রহমান ও কণ্ঠশিল্পী নিলুফার ইয়াসমীনের সন্তান তিনি। আশির দশক থেকে বর্তমান পর্যন্ত দেশের সংগীতাঙ্গনে যে ক’জন শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী আছেন, আগুন তাদের মধ্যে অন্যতম। সংগীত, চলচ্চিত্র, নাটক, উপস্থাপনা অর্থাৎ সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে রয়েছে তার অবাধ পদচারণা। আগুন গানের জগতে শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছেন প্রায় ২৫ বছরের বেশি সময় হলো। মাঝে বিশেষ কাজ হলে নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয়েও তাকে পাওয়া গেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার অরুণ চৌধুরীর ‘মায়াবতী’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেন তিনি।

এ ছবিতে সংগীতজগতের একজন হিসেবেই একটি বিশেষ চরিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত দৃশ্যগুলো অভিনেত্রী আফরোজা বানু ও তিশার সঙ্গে।

পরিচালক বলেন, আমার ছবিতে গল্পের প্রয়োজনে যখন যাকে দরকার তাকেই নিয়েছি। কাহিনীর একপর্যায়ে তিশার মায়া বেগমের চরিত্রটিকে সংগীতের মানুষ আগুন আবিষ্কার করেন। তার গুণের পরখ করতে চান। কিন্তু চাইলেই কি সব হয়? জীবন তো আর সরল রেখার মতো বহমান নয়। কাহিনীতে শেষ পর্যন্ত জন্ম নেয় নতুন টুইস্ট।

আগুন সর্বপ্রথম ১৯৯৭ সালে বাবা প্রয়াত খান আতাউর রহমানের পরিচালনায় ‘এখনো অনেক রাত’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০০২ সালে প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের ‘ঘেঁটুপুত্র কমলা’ চলচ্চিত্রে তাকে পাওয়া যায়। সবশেষ ২০১৪ সালে আনিসুল হকের উপন্যাস অবলম্বনে শাহ আলম কিরণের ‘একাত্তরের মা জননী’ চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেন।

আগুন বলেন, ‘আমার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর তালিকা দেখলেই বুঝবেন বিশেষ কিছু না হলে আমি বড়পর্দায় কখনো অভিনয় করিনি। অরুণদার এ কাজটি ভালো হবে এই বিশ্বাস থেকেই করেছি। আশা করছি দর্শকরা নিরাশ হবেন না।

অরুণ চৌধুরীর কাহিনী, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় এ চলচ্চিত্রে তিশার নায়ক ইয়াশ রোহান। আসছে ১৩ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী মুক্তির সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘মায়াবতী’ টিম।

গায়ক আগুনের বড় অনুপ্রেরণা হলো তার পরিবার। আগুন বলেন, ‘আসলে আমাদের পাঁচ ভাই-বোনের কাউকেই আব্বা-আম্মা জোর করে কিছুই করাননি। আমি ছোটবেলা থেকে সারাদিনই বাসায় দেখতাম আম্মা সংগীতচর্চা করছেন এবং বিকেলে আব্বা চলচ্চিত্রবিষয়ক মিটিং করছেন। সবসময় সাংস্কৃতিক আবহে বেড়ে ওঠাটাই আমার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। এমন একটি পরিবেশে বেড়ে উঠেছি বলেই হয়তো শিল্পী না হয়ে কিংবা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে না এসে কোনো উপায় ছিল না।

আগুন একাধারে গায়ক, অভিনেতা, উপস্থাপক, সুরকার ও গীতিকার। এসব পরিচয়ের মধ্যে গায়ক হিসেবে নিজের প্রথম পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুনদের নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী এ বহুমাত্রিক তারকা। বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম সম্পর্কে আমি ভীষণ আশাবাদী। কিন্তু নৈরাশ্য আমার মধ্যে কাজ করে যে, একটি মানুষের জ্ঞানভান্ডার পূর্ণ হওয়ার আগেই সে যদি অতিরিক্ত লাফালাফি করে এবং সোসাইটি তাকে নিয়ে যদি অতিরিক্ত লাফালাফি করে, তাহলে সে ছিটকে পড়তে বাধ্য। মানুষের ধারণক্ষমতাটা বুঝতে হবে। একজন যদি গান গাইতেই থাকে গাইতেই থাকে, তাহলে তার নতুন কী দেওয়ার থাকে? ফলে শ্রোতারা মুখ ফিরিয়ে নেন। তার পরও কিছু কিছু মানুষ আছে সুপারম্যানের মতো। তবে আধুনিকতাকে ধারণ করে তারা কেন শেকড়ে ফিরে যাচ্ছে, সেটা আমার কাছে বড় বিস্ময়। গান নিয়ে আমার চিন্তা হলো আধুনিকতাও থাকবে, শেকড়টাও থাকবে। আমরা বড় বড় রেস্টুরেন্টে গেলে দেখি মাটির বাসনে করে খাবার দেওয়া হচ্ছে। সবাই শেকড়ে ফিরে যাচ্ছে। তাহলে সংগীতে কেন নয়? এখন আমি যে ঘর থেকে এসেছি, আমি তো যা ইচ্ছা করতে পারি না। রাজপুত্র হওয়াটাও বিরাট দোষের। রাজপুত্র মানে রাজ্যটাকে দেখভালের দায়িত্ব তার। দশজনকে বোঝানোর দায়িত্ব তার। আমি চাই সংগীত তার সঠিকপথে থাকুক। নতুনদের বলব, তারা সততা নিয়ে কাজ করুক। গানটা ভালোভাবে শিখে তারপর এই জগতে আসুক।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads