নেত্রকোনায় ধর্ষিতা কলেজছাত্রীর মৃত্যু

নেত্রকোনায় ধর্ষিতা কলেজছাত্রীর মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

সারা দেশ

নেত্রকোনায় ধর্ষিতা কলেজছাত্রীর মৃত্যু

  • নেত্রকোনা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৬ অগাস্ট, ২০১৯

নেত্রকোনা পূর্বধলা থেকে অপহরণের পর একাধিকবার ধর্ষণের শিকার ইয়াছমিন আক্তার (২২) এক কলেজছাত্রী মৃত্যু হয়েছে।

আজ রবিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এ ঘটনায় মামলা ও আলমগীর হোসেন (২৪) নামের এক যুবক গেফতার হয়েছে।

রোববার (২৫ আগষ্ট) রাত ১০ টার দিকে ইয়াসমিনের মা নাছিমা খাতুন বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় এ মামলাটি করার পর রাতেই আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এর আগে বুধবার (২১ আগষ্ট) পূর্বধলার শ্যামগঞ্জ বাজার থেকে ইয়াসমিন অপহণের শিকার হয়ে ময়মনসিংহের তারাকান্দা সদরের একটি বাসায় একাধিকবার ধর্ষিত হয়। পরে সে অসুস্থ হয়ে অসুস্থ হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ভভর্তি হলে রোবববার সকালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যায়।

ইয়াছমিন আক্তার পূর্বধলা উপজেলার খামারহাটি (কোনাপাড়া) গ্রামের খোরশেদ আলমের মেয়ে। সে নেত্রকোনা সদরের আবু আব্বাছ ডিগ্রি কলেজের ¯œাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী।

অভিযুক্ত আলমগীরের বাড়ি সদর উপজেলার শ্রীপুর-বালী গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আবুল হোসেন। আলমগীরও একই কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি সে ময়মনসিংহের তারাকান্দায় একটি বিস্কিট কোম্পানিতে চাকরি করে।

জানা গেছে, ইয়াছমিন আক্তার ও আলমগীর হোসেন পরষ্পরের সহপাঠী এবং পূর্ব পরিচিত। আলমগীর ইয়াছমিনের ফুফাতো ভাইয়ের চাচাত ভাই। গত বুধবার সকাল ন’টার দিকে ইয়াছমিন বই কেনার কথা বলে শ্যামগঞ্জ বাজারে যায়। ছাত্রীর মা নাছিমা খাতুন মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেন, শ্যামগঞ্জ বাজারে যাবার পর আলমগীর কয়েক সহযোগীর সহায়তায় ইয়াছমিনকে অপহরণ করে মোটর সাইকেলযোগে তার কর্মস্থল তারাকান্দায় নিয়ে যায়। পরে সেখানকার ভাড়া বাসায় নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। দফায় দফায় ধর্ষণ এবং ধস্তাধস্তির কারণে ইয়াছমিন গুরুতর অসুস্থ এবং জখমপ্রাপ্ত হয়। পরদিন (বৃহস্পতিবার) আলমগীর তাকে অসুস্থ অবস্থায় শ্যামগঞ্জ বাজারে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে নাছিমা খাতুন (ইয়াছমিনের মা)সহ তার স্বজনরা সেখানে উপস্থিত হলে আলমগীর দৌড়ে পালিয়ে যায়। তখন স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে দু’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার সকালে সে মারা যায়।

রবিবার ময়মনসিংহের কতোয়ালী থানা পুলিশের উদ্যোগে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে কলেজছাত্রীর লাশের সুরতহাল তৈরি এবং ময়মনাতদন্ত হয়েছে। এদিকে কলেজছাত্রীর মা নাছিমা খাতুন বাদী হয়ে রবিবার রাতে পূর্বধলা থানায় আলমগীরসহ অজ্ঞাত আরও দু-তিনজনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার সত্যতা স্বীকার করে পূর্বধলা থানার ওসি তাওহীদুর রহমান জানান, রবিবার রাতেই সদর উপজেলার শ্রীপুর-বালী গ্রামের পৈত্রিক বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads