নিশ্চিহ্ন হয়নি নব্য জেএমবি

প্রতীকী ছবি

অপরাধ

নিশ্চিহ্ন হয়নি নব্য জেএমবি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৫ মার্চ, ২০২০

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অনুসারী নব্য জেএমবি এখন অনেকটা কোণঠাসা। তবে এই জঙ্গি সংগঠনটি একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। ছোট ছোট সেলের মাধ্যমে তারা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি তাদের সঙ্গে সিরিয়ায় অবস্থানকারী কারো কারো সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। বাংলাদেশে এই সেলগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে আবু মোহাম্মদ আল বাঙালি। সে বর্তমানে নব্য জেএমবির আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।  পুলিশের জঙ্গিবিরোধী বিশেষায়িত ইউনিট কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গিরা এখন সদস্য সংগ্রহে অনলাইনে ব্যাপক কার্যক্রম চালাচ্ছে। সিরিয়া থেকে আইএসের পতনের পর এই ধারা কমে এসেছিল। কিন্তু আইএস আবারো ফেরার সঙ্গে সঙ্গে সাময়িক বিরতির পর  দেশেও আবারো সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে নব্য জেএমবি। এজন্যই মাঝেমধ্যে বোমা হামলা বা বিস্ফোরণের মাধ্যমে তাদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। আবারো টার্গেট করা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।

গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের দুই নম্বর গেট এলাকার একটি পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নব্য জেএমবির সদস্যরা এই বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। বিস্ফোরণে এক শিশু ও পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। ইতোমধ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এই ঘটনার নেপথ্যে কারা তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক আলামত উদ্ধার করে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। নব্য জেএমবি সদস্যরাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নই। তবে বিস্ফোরণের ধরন দেখে আগের ঘটনার সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে।

ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামে পুলিশ বক্সে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাটি আমরা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি। প্রাথমিকভাবে এটি জঙ্গিদের কাজ বলে মনে হলেও এখনো আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের বিভিন্ন সময় ঢাকার পাঁচটি জায়গায় পুলিশ ভ্যান ও পুলিশ বক্সে বোমা বিস্ফোরণ ও খুলনার একটি থানা প্রাঙ্গণে বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে চট্টগ্রামের বোমা বিস্ফোরণের মিল রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামতেরও মিল রয়েছে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে হামলার সঙ্গে নব্য জেএমবির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। বিস্ফোরণের ঘটনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পাশাপাশি ঢাকার জঙ্গিবিরোধী বিশেষায়িত ইউনিট কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) ও এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) কাজ করছে।

গত বছরের ২৯ এপ্রিল ঢাকার গুলিস্তানের একটি ট্রাফিক বক্সের পাশে হাতে তৈরি বোমা বা আইইডি’র বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ট্রাফিক পুলিশের দুই সদস্য ও একজন কমিউনিটি পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনার ঠিক ২৮ দিন পর ২৬ মে রাত পৌনে ৯টার দিকে মালিবাগের পলওয়েল ফিলিং স্টেশনের বিপরীতে ফ্লাইওভারের নিচে রাখা পুলিশের বিশেষ শাখার একটি পিক-আপ ভ্যানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এতেও ট্রাফিক পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শকসহ ৩ জন আহত হন। এছাড়া ২৩ জুলাই রাতে রাজধানীর পল্টন ও খামারবাড়ি পুলিশ বক্সের কাছে প্রায় একই সময়ে ফেলে রাখা বোমা উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি ঘটনার পরপরই দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছিল আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকায় পাঁচটি ঘটনায় পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ত মূল হোতাসহ কয়েকজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অভিযান চালিয়ে একাধিক সহযোগীসহ ফরিদ উদ্দিন রুমি নামে নব্য জেএমবির মধ্যম সারির এক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় রুমির ভাই জামাল উদ্দিন রফিক পালিয়ে যায়। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি রাজধানীর শনির আখড়া থেকে এক সহযোগীসহ জামালকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাস করা জামাল উদ্দিন রফিকের মাধ্যমে নব্য জেএমবির নতুন একটি সেল সংগঠিত হয়েছিল। জামাল নিজেই ফতুল্লার আস্তানায় বোমা তৈরি করে পুলিশকে টার্গেট করে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এমনকি সে নিজের অভিজ্ঞতা ও নানা জায়গা থেকে উপাদান নিয়ে বোমা তৈরির একটি ম্যানুয়ালও তৈরি করেছিল। এটিই অন্যান্য জঙ্গির কাছে সে ছড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads