প্রত্যাশার চাইতেও দ্রুতগতিতে কমছে করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউ কমতে যেখানে লেগেছিল ১১ মাস, দ্বিতীয় ঢেউ ৬ মাস, সেখানে তৃতীয় ঢেউ কমতে লাগছে এক মাসেরও কম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে থাকায় ইতিমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে টিকা গ্রহণসহ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, করোনার প্রথম দুই ঢেউ যেভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, সে রকম হয়নি তৃতীয় ঢেউ। তুলনামূলক কম প্রাণঘাতী বলে এ নিয়ে ভীতিও ছিল বেশ কম। ধরনটি ব্যাপক সংক্রমক হলেও আক্রান্তদের মধ্যে শারীরিক জটিলতা কম থাকায় মৃত্যুও কম। একইভাবে এটি তুলনামূলক দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসার ইঙ্গিতও মিলছে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি ধারাবাহিকভাবে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। গত একদিনে দেশে সংক্রমণের হার ১০ এর নিচে নেমেছে। শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও কমেছে। তবে মৃত্যু কিছুটা বেড়েছে। এসময়ে শনাক্ত কমে ২ হাজার ৫৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গতকাল শুক্রবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৭ হাজার ৭৬৫টি। পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ। ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণের পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে শুরুর কয়েক মাসে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে ছিল। মে-জুনে তা এই হার ছাড়ায়। এ ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগে প্রায় ১১ মাস।
মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে গত ৪ অক্টোবর। অর্থাৎ দেশে দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগে ৬ মাস। তৃতীয় ঢেউ যে আরো আগেই নিয়ন্ত্রণে আসছে, সেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গত ২০ জানুয়ারি তৃতীয় ঢেউ নিশ্চিত হওয়ার পর আরো আট দিন সংক্রমণ ঊর্ধ্বগামী থাকার পর তা কমতে থাকে। গত তিন সপ্তাহে শনাক্তের হার কমে এক-তৃতীয়াংশ হয়ে গেছে, যেটি আগে দেখা যায়নি। প্রতিদিনই শনাক্তের হার দেড় থেকে ২ শতাংশ কমছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শনাক্তের হার সর্বোচ্চ বা পিকে ওঠার পর দুই সপ্তাহ সেখানে অবস্থান করে ধীরে ধীরে তা নিম্নগামী হয়, কিন্তু এবার তা আরো আগেই নিম্নগামী হচ্ছে, যা আশা দেখাচ্ছে। তবে সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে নামলেও তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসা নিশ্চিত হতে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ লেগে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর কারণ পরপর ১৪ দিন শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে নামলেই কেবল এই ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার কথা বলা যাবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি থেকে এর নিচে নেমে এলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ধরা হয়। উল্টো পথে যাত্রা অর্থাৎ সংক্রমণের হার পাঁচের নিচে থেকে ৫ ছাড়ালে পরবর্তী ঢেউ আঘাত হেনেছে ধরা হয়। দুই-এক দিনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। পরপর দুই সপ্তাহ যদি সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি বা কম থাকে, তাহলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বা পরবর্তী ঢেউ আঘাত হেনেছে বলে ধরা হয়।
গত ২৮ জানুয়ারি ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল রেকর্ড ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। সেটি কমে ১৭ ফেব্রুয়ারি দাঁড়ায় ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ১২ দশমিক ২০ শতাংশ।
গত ৯ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২৪ ঘণ্টায় ৪২ হাজার ৮৬৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি বাদে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার। ১১ ফেব্রুয়ারি শনাক্তের হার দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ১২ ফেব্রুয়ারি কিছুটা বেড়ে ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ হয়।
এক দিন পর ২ শতাংশ শনাক্তের হার কমে ১৩ ফেব্রুয়ারি হার ছিল ১৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ১৪ ফেব্রুয়ারি এই হার কমে ১৩ দশমিক ৫৩ শতাংশে নেমে আসে।
গত বুধবার পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার কমে ১২ দশমিক ২০ শতাংশে আসে। বৃহস্পতিবার এসে রোগী শনাক্তের হার ১০ শতাংশের ঘরে নামে। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৭ হাজার ৭৬৫টি। পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ। এই হার তৃতীয় ঢেউ নিশ্চিত হওয়ার পর সর্বনিম্ন।
গত ৭ জানুয়ারি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। পরে তৃতীয় ঢেউ ছড়ানোর যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, সেটি ২০ জানুয়ারি বাস্তবে রূপ নেয়। এরপর আরো আট দিন শনাক্তের হার থাকে ঊর্ধ্বমুখী। একপর্যায়ে তা ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে রেকর্ড গড়ে ২৮ জানুয়ারি। তখন ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ কোথায় গিয়ে থামবে, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। রেকর্ড গড়ার পরদিন থেকেই সংক্রমণের গতি কমতে থাকে। এরই মধ্যে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১০-এর ঘরে নেমে এসেছে এবং তা আরো নিম্নমুখী।
২৪ ঘণ্টায় রোগীর সংখ্যা সাড়ে ১৬ হাজার থেকে নেমে এসেছে তিন হাজারের ঘরে। মৃত্যুর সংখ্যা চল্লিশের ঘর থেকে নেমে এসেছে দশের ঘরে। এটি প্রতিদিনই যেভাবে কমছে, তাতে দ্রুতই তা ৫ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে করোনার গত দুটি ভ্যারিয়েন্টে রোগীদের যেভাবে হাসপাতালে ছুটে যেতে দেখা গিয়েছিল তৃতীয় ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রমনের ক্ষেত্রে তা হয়নি। শুরু থেকেই বলা হচ্ছিল, ওমিক্রনের তীব্রতা, লক্ষণ ও মৃত্যুও ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হবে।
দেশে অবস্থানরত দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী আলমগীর জানান, কোনো ধরনের অসুস্থতা অনুভব না করলেও বিদেশ যেতে নমুনা পরীক্ষা করার পর দেখা যায়, তিনি করোনাভাইরাস সংক্রমিত। আলমগীর বলেন, এমনিতে কোনো সমস্যা নেই। যেহেতু কোভিড পজিটিভ, তাই ডাক্তার দেখাতে এলাম। আলমগীরের মতো অনেকেই আছেন, যাদের দেহে করোনাভাইরাস বাসা গাড়লেও অসুস্থ তারা হননি বা কোভিড রোগের আক্রান্ত হওয়ার কোনো উপসর্গ নেই। ঢাকায় এখন ৯৮ শতাংশ কোভিড রোগীই ওমিক্রনের বলে আইসিডিডিআর, বি-র গবেষণায় বলা হয়েছে।
ওমিক্রমের আগে গত বছর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপট দেখেছে বাংলাদেশ। মহামারির দ্বিতীয় বছরে দেশে তখন গুরুতর অসুস্থ রোগী বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে শয্যার জন্য হাহাকার চলছিল। গত বছরের শেষ ভাগে দ্রুত সংক্রমণশীল ওমিক্রনের বিস্তারের পর আগের ভয় থেকে হাসপাতাল প্রস্তু করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, কিন্তু আগের চিত্র দেখা যায়নি।
গত ২৫ জানুয়ারি যেদিন সারা দেশে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৩৩ জন শনাক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল, তার চারদিন পর ২৯ জানুয়ারি ৩ হাজার ১৬১ জন কোভিড রোগী ভর্তি ছিল সারা দেশের হাসপাতালে। ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের দাপট চলার সময় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা সেদিনই ছিল সর্বাধিক। সেদিন হাসপাতালের ২৩ দশমিক ১৯ শতাংশ বেডে রোগী ছিল।
দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপটের সময় গত বছরের ২৮ জুলাই দিনে সর্বাধিক রোগী শনাক্তের যে সংখ্যা ১৬ হাজার ২৩০, তা ওমিক্রনকালের কাছাকাছিই। কিন্তু তখন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল এখনকার তিন গুণ বেশি। গত বছরের ২ অগাস্ট হাসপাতালে ভর্তি ছিল ১৩ হাজার ৫২২ জন কোভিড রোগী, যা দেশে কোভিড হাসপাতালের মোট শয্যার ৮২ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
গত বছরের ১৫ জুলাই কোভিড ডেডিকেটেড নরসিংদী জেলা হাসপাতালের ৮০টি শয্যার মধ্যে ৬৫টিতে অর্থাৎ ৮১ দশমিক ২৫ শয্যায় রোগী ভর্তি ছিল। ছয় মাস পর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ওই হাসপাতালের ১২০টি শয্যার মধ্যে রোগী ছিল মোটে ২১টিতে। শয্যার ৮২ দশমিক ৫ শতাংশই ছিল খালি।
নরসিংদী হাসপাতালের ফোকাল পার্সন ডা. এ এন এম মিজানুর রহমান বলেন, এবার হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে কম। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সময়ের পিকের সঙ্গে যদি এখনকার পিকের তুলনা করি, তাহলে দেখা যাচ্ছে আগে ১০০ জন হাসপাতালে ভর্তি হলে এখন ১৫ থেকে ২০ জন হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ইউনিটের সামনে গিয়ে দেখা গেল, ভিড় গতবারের চেয়ে অনেক কম। ডেল্টা সংক্রমণে শ্বাসকষ্ট নিয়ে অনেককে কোভিড রোগীকে আইসিইউ খুঁজতে হলেও এবার তেমনও দেখা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া বৃহস্পতিবারের বুলেটিনে বলা হয়, ঢাকা মহানগরের হাসপাতালগুলোতে কোভিড রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট ৭৭৩টি আইসিইউর মধ্যে ৬২৫টিই এখন খালি।
করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের ফুসফুসে সংক্রমণের ক্ষমতা ও গুরুতর অসুস্থতা কমে যাওয়া একটি কারণ মনে করছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস অনেক মিউটেন্ট হওয়ার কারণে কিছুটা দুর্বল হয়েছে। ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট আক্রান্ত ব্যক্তির ফুসফুস পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে না।
এই চিকিৎসক বলেন, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ভাইরাস রোগীকে আক্রান্ত করেই ফুসফুসে চলে যেত। আর যেহেতু ভাইরাসটা ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটাত, সে কারণে অক্সিজেন ডিমান্ড বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন বেশি হতো। এবার যেটা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ওমিক্রনে ওপরের শ্বাসনালীর সংক্রমণের কারণে হাঁচি, কাশি, নাক দিয়ে পানিপড়ার মতো লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে। শ্বাসতন্ত্রের ওপরের অংশে যতই সংক্রমণ হোক, তাতে তো অক্সিজেনের চাহিদা তৈরি হচ্ছে না।
তবে ওমিক্রনের প্রভাব কমতে থাকলেও সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠানটির সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন বলেন, এই মাসের মধ্যেই করোনা সংক্রমণের হার হয়তো ৫ শতাংশের নিচে চলে আসবে, তবে আমাদের সাবধান থাকতে হবে; স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। টিকা নিয়ে নিতে হবে। রোগী ব্যবস্থাপনাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শনাক্ত হওয়া রোগীকে সঠিক চিকিৎসায় নিয়ে আসতে হবে।
জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল বলেন, জানুয়ারির মাঝামাঝিতে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে সর্বোচ্চ শনাক্তের হার ছিল। সেটি আস্তে আস্তে নিম্নগামী হচ্ছে, তবে প্রকোপটা এখনো শেষ হয়নি। এখনো মৃত্যু অনেক বেশি হচ্ছে। এই মৃত্যু আরো নামবে, তবে আমাদের এই বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, স্বাস্থ্যবিধির পাশাপাশি টিকায় জোর দিচ্ছি। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ১ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, সারা দেশে ১০ কোটির বেশি মানুষ কোভিড টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। তাদের ৭ কোটির বেশি দ্বিতীয় ডোজও পেয়ে গেছেন। বুস্টার ডোজ পেয়েছেন প্রায় ৩০ লাখ।





