বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সরকার ঘোষিত সারাদেশ লকডাউন অবস্থায় দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে মফিজুুল ইসলাম নামে এক কৃষকের একটি গোয়ালঘর পুড়ে ছাই ও চারটি গরু মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল রোববার গভীর রাতে উপজেলার মৌকরা ইউপির মাঝিপাড়া গ্রামের মেম্বার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আজ সোমবার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মত রোববার সন্ধ্যায় গরুগুলো তার গোয়াল ঘরে তুলে তালা লাগিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন মফিজুল ইসলাম ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুনের লেলিহার শিখা দেখে গরুগুলো ছুটোছুটি ও চিৎকার করতে থাকে। এ সময় প্রতিবেশীদের ঘুম ভেঙ্গে গেলে তারা ছুটে এসে প্রায় ঘণ্টাখানেকর মধ্যে গোয়ালঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ সময় গোয়ালঘরে থাকা চারটি গরু আগুনে পুড়ে মারা যায় এবং ঘরের ভিতরে থাকা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মফিজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বাড়ির সীমানা নিয়ে গত ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারী তার ছোট ছেলে নজরুল ইসলাম (২২) কে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে গুরতর আহত করে একই বাড়ির আবু তাহের, তার স্ত্রী লায়লা বেগম, ছেলে মহি উদ্দিন রাকিব ও শাকিব। পরে নজরুল ১০ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৭ জানুয়ারী ২০১৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনার তিনি বাদি হয়ে ৪ জনকে আসামি করে নাঙ্গলকোট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ে করেন। ওই মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছেন শাকিব ও রাকিব সহ তার পরিবারের সদস্যরা। এর জের ধরে গত রাতে শাকিব, রাকিব, তিলিপ গ্রামের আব্দুল মান্নান, নারুয়া গ্রামের নশাদ ও কালেম গ্রামের আব্দুল মতিন মুখোশ পরে ঘরে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। যা তিনি আগুনের লেলিহার শিখা শব্দ শুনে ঘরের দরজা খুলে তাদেরকে পালিয়ে যেতে দেখে। এতে তার প্রায় ৬-৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে বলে জানায় তিনি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মহিউদ্দিন রাকিবের মুঠো ফোনে কয়েক বার কল দিও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে নাঙ্গলকোট থানার অফিসার ইনচার্জ বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





