রতন বালো :
গণপূর্তের ইএম সার্কেল-৩-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের শ্যালক সাইফুল ইসলাম খান। তার রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড কনস্ট্রাকশন সার্ভিসেস নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। রাজস্ব বাজেটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে অনুমোদনের ক্ষমতা ১২ লাখ টাকা হলেও নিজের শ্যালকের জন্য ২৩ লাখ ২১ হাজার ২৭৬ টাকার কাজ নিজেই অনুমোদন দিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদুক) চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার হাসিনা এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শামসুজ্জামান। এভাবে আবুল কালাম আজাদ অর্ধশতাধিক টেন্ডার অনুমোদন দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দুদুক।
অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, গণপূর্তের সার্কেল-৩ ইএম শাখার কোনো কাজের টেন্ডার হলেই অনুমোদন পায় ‘ইন্টিগ্রেটেড কনস্ট্রাকশন সার্ভিসেস’। এই টেন্ডারগুলোর অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ ছিলেন প্রকৌশলী আবুল কালাম। অতি অল্প সময়ের মধ্যে শ্যালকের এই প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় অর্ধশতাধিক টেন্ডারের অনুমোদন দেওয়ায় তালিকাভুক্ত অন্যান্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা নিজে বা পরিবারের বা আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে তার প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কোনো ঠিকাদারি কাজে নিযুক্ত হওয়ার আইনগত বিধান না থাকলেও প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ নিজের শ্যালক সাইফুল ইসলাম খানের নামে একটি ঠিকাদারি ফার্ম খুলে গণপূর্তের কোটি কোটি টাকার টেন্ডার বাগিয়ে নিয়েছেন। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রকৌশলী আবুল কালাম তার অধীনস্ত কর্মকর্তাদেরকেও এই প্রতিষ্ঠানে নামে কাজের অনুমোদন দিতে বাধ্য করতেন। যদি কোনো নির্বাহী প্রকৌশলী তার কথা না শুনতেন তাহলে তাকে হয়রানিমূলকভাবে অন্যত্র বদলি করে দিতেন। এমনকি তার চাকরিও খেয়ে ফেলার হুমকি দিতেন।
জানা গেছে, গণপূর্ত ইএম বিভাগ-৮-এর অন্তত ২০টি কাজের টেন্ডার দিয়েছেন শ্যালকের প্রতিষ্ঠানকে। আবার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এই কাজগুলো অনুমোদন করেছেন আবুল কালাম নিজেই। পিপিআর-২০০৮ ধারা ১১৯ (২) অনুযায়ী এ ধরনের অনুমোদন সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হয়েছে। আবার রাজস্ব বাজেটে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে আবুল কালামের অনুমোদনের ক্ষমতা ১২ লাখ টাকা হলেও শ্যালকের এই প্রতিষ্ঠানের নামে ২৩ লাখ ২১ হাজার ২৭৬ টাকার কাজ নিজেই অনুমোদন দিয়েছেন। কালাম তার ঊর্ধ্বতন অফিসারের ক্ষমতা নিজেই প্রয়োগ করতেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের রাজস্ব বাজেটের ৬৩ লাখ ২ হাজার টাকার ১টি, ৫৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকার ১টি ও ২২ লাখ ১২ হাজার টাকার কাজও নিয়ম বহির্ভূতভাবে দিয়েছেন শ্যালকের প্রতিষ্ঠানকে।
অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত ই/এম সার্কেল-৩, শেরে-বাংলা নগর, ঢাকায় বর্তমানে নিয়োজিত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ই/এম কারখানা বিভাগের ঢাকায় ‘মেসার্স ইনটিগ্রেটেড কনস্ট্রাকশন সার্ভিসেস’ ছয়টি কাজ দেওয়া হয়েছে উন্নয়ন প্রকল্পে। যার আইডি নং- ২১৪৯২৪, ২১৪৯২৪, ২১৮৩৩১, ৩৩৭৮১১, ১৩৭৯৯২, ১৪০২৬৭, ১৮৩১৪৯। এতে অনুমোদন দিয়েছেন গণপূর্ত ইএম কারখানা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ইসকান্দার আলী। পরবর্তীতে ৫টি আইডি গোপন রেখে একই বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউচুপ গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর এই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নিকট কাজের তালিকা পাঠান। এই বিষয়ে গণপূর্ত ইএম কারখানা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউচুপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কথা বলতে চায়নি।
এই অভিযোগের বিষয়ে গণপূর্ত ইএম সার্কেল-৩-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবুল কালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে চান না বলে তার অফিস সহকারী জানান। সহকারী জানান, স্যার অফিসে নেই। বাড়ি গেছেন। কিন্তু মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেন না। এ বিষয়ে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনিও কিছু বলতে চান না।
তবে দুদুকের উপপরিচালক জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগ তদন্ত চলছে। তিনি এর বাইরে আর কিছুই বলতে চাননি।





