কক্সবাজারের টেকনাফ গত এক বছরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেল ১২৭ জন। তাদের বিরুদ্ধে মাদক, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে পুলিশ, বিজিবির ও র্যাবের সঙ্গে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের সময় গোলাগুলিতে তারা নিহত হয় বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।
সরকার মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্সনীতি ঘোষণার পরেই বিভিন্ন বাহিনী তৎপর হয়ে উঠে। গত ২০১৮ সালের মার্চের শুরুতে সরকার প্রধান শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে কঠোর ভুমিকার নির্দেশ দেন। এরপরেই শুরু হয় সারা দেশে সাড়াঁশি অভিযান। এরপরে টেকনাফে সকল বাহিনী অভিযান পরিচালনাকালে শুধু গত এক বছরে এ উপজেলায় নিহত হয় ১২৭ জন। এর মধ্যে পুলিশের সঙ্গে ৭৮ জন, বিজিবির সঙ্গে ৩৬ জন ও র্যাবের সঙ্গে ১৩ জন।
কক্সবাজার জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৯৬ জন নিহত হয়। মাদক নির্মুলে পুলিশসহ সকল বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।’
টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস বলেন, গত ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টম্বর হতে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছে ৯৪ জন। এ সময় প্রায় ২৩ লাখ পিস ইয়াবা, ৩৫১টি অস্ত্র, ১ হাজার ৭৩ রাউন্ড কার্তুজ ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ৫৩১ টি মামলায় ১হাজার ৪৮৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারগারে পাঠানো হয়েছে।
টেকনাফের ২ বিজিবি ব্যটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়সল হাসান খান (পিএসসি বলেন, গত এক বছরে বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে ৩৬ জন। এর মধ্যে এক নারীসহ ১৭ জন মিয়ানমার নাগরিক (রোহিঙ্গা)। এসময়ে সাড়ে ৭০ লাখ পিস ইয়বা ও ৩০টি অস্ত্র উদ্ধারসহ ৩০৩ জনকে আটক করে বিজিবির সদস্যরা। সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা তৎপর রয়েছে।
র্যাব-১৫ টেকনাফ ক্যাম্প ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট মির্জা শাহেদ মাহতাব বলেন, গত এক বছরে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে ১৩ জন নিহত হয়েছে। তার মধ্যে তিনজন রোহিঙ্গা ছিল। এসব ঘটনায় ১২ লাখ পিস ইয়াবা ও ১৫টি অস্ত্রসহ ১২৩ জনকে আটক করা হয়। মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে কোস্ট গার্ড গত এক বছরে ৩০ লাখ পিস ইয়াবাসহ ১০৫জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক ও ডাকাত দলের সদস্যও ছিল।





