মুক্তমত

টিকা বণ্টন নিয়মতান্ত্রিক হতে হবে

  • প্রকাশিত ১৬ জানুয়ারি, ২০২১

মীর ইমরান আলী

 

 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বিশ্ব ভয়ানক এবং বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি, আর এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমন অবস্থায় করোনার টিকার বিষয়টি সামনে আসে এবং নতুন করে আশার সঞ্চার করে। এখন বিভিন্ন দেশেই টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। আর সঙ্গত কারণেই টিকার সুষ্ঠু বণ্টনের বিষয়টি সামনে এসেছে। যখন এমন বিষয় সামনে আসছে, মহামারী করোনার লাগাম টানতে টিকা আশাব্যঞ্জক, তখন বিশ্বে নেতৃত্ব, সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি আমলে নিয়ে টিকার সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেদ্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভ্যাক্স প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দরিদ্র ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে করোনা ভ্যাকসিন সরবরাহের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছেন সেটিও আমলে নেওয়া জরুরি। কোভ্যাক্স অর্থাৎ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনস গ্লোবাল আ্যাাকসেস  ফ্যাসিলিটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছাড়াও উদ্যোগটির সঙ্গে রয়েছে কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশন এবং দাতব্য সংস্থা গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন আ্য্যন্ড ইনিউনাইজেশন (জিএভিআ ই)। আর উদ্যেগটির লক্ষ্য হলো, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন মজুত করে না রেখে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সর্বোচ্চ ঝুঁকির দেশগুলো তা বণ্টন করার জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারকে উৎসাহিত করা। এর আওতায় ২০২১ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ২০০ কোটি ডোজ নিরাপদ ও কার্যকর টিকা সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যেগের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন হোক এবং বিশ্ব নেতৃত্ব এগিয়ে আসুক যেন ভ্যাকসিন মজুত করে না রেখো ধনী - গরিব নির্বিশেষে সবার মধ্যে সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত হোক। বাংলাদেশও করোনার সংক্রমণ ও করোনার মৃত্যুও থেমে নেই। কোনোমতেই একে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি বা মাস্ক পরিধানের ক্ষেত্রে কোনো হুঁশিয়ারি কাজে আসছে না। এক স্কুল-কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করা ছাড়া কোথাও কোনো নিয়মনীতি নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তথ্য, বিভিন্ন পত্রিকান্তরে প্রকাশ, প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে ৬ মাসের মধ্যে সেরাম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশকে দেবে ৩ কোটি ডোজ টিকা। যা দিয়ে প্রতি মাসে ২৫ লাখ মানুষকে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। প্রতি জনের জন্য দুটি করে ডোজ দরকার হবে। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে প্রথম ডোজের ২৮ দিন পর। চার ধাপে এই ভ্যাকসিন দেয়া হবে বাংলাদেশের মানুষকে। এর মধ্যে একেবারে প্রথম পর্যায়ে রয়েছেন ৫২ লাখ মানুষ, যেটা মোট জনসংখ্যার তিন শতাংশ। তার মধ্যে সবার আগে রয়েছেন দেশের সব সরকারি হাসপাতালের কমর্রত করোনার রোগীদের চিকিৎসাসহ সরকারি সম্পৃক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। বর্তমানে দেশে স্ব্যস্থ্যকর্মী রয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ।এরপর রয়েছেন সব বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে (এনজিও) কর্মকর্তারা। যার সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ। তার পরের ধাপে আছেন সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নন-কোভিড সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মীরা। তাদের মধ্যে আছেন পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, আনসার, ভিডিপির প্রায় পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার ৫১৯ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। আমরা মনে করি, যে তালিকা প্রণয়ন করেছে তার যেন সামান্য হেরফের না হয়, মাস্ক কেলেঙ্কারি রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণা সব দেখে ভরসার জায়গাটা এমনিতেই নড়বড়ে। তারপর টিকা যাতে নকল না হয়, তাপমাত্রা অনুযায়ী যাতে সংরক্ষণ করা হয়। সব মিলিয়ে সুব্যস্থপনার মাধ্যমে টিকা না দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে তখন করার কিছু থাকবে না। তাই আগে থেকেই সাবধানতা জরুরি। করোনা প্রতিরোধ টিকার কার্যকারিতার বিষয় যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বা করোনা প্রতিরোধ সচেতনার বিষয় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। টিকার বিষয়টি  আমলে  নেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

 

লেখক : শিক্ষার্থী, আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads