জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে তিন শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার এবং ভর্তিচ্ছু এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিস্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে প্রেরণ করা হয়।
বহিষ্কৃত তিন জন হলেন, রসায়ন বিভাগের ৪৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মাজেদুল হাসান রবিন, দর্শন বিভাগের আশরাফুল ইসলাম দ্বীপ এবং ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৪৫ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো. রায়হান পাটোয়ারী। সাময়িক বহিস্কার হওয়া নাসিম ঐশ্বর্য আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ৪৫ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।
এদের মধ্যে রবিন শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এবং রায়হান ছাত্রলীগ কর্মী। দ্বীপ একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। পরে হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে হল থেকে বের করে দিলে তিনি রফিক-জব্বার হলে গিয়ে ওঠে। এরপর ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তাকে সক্রিয় দেখা যায়নি।
বহিষ্কারের পাশাপাশি এই তিন জনকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শাস্তি চলাকালীন ক্যাম্পাসে দেখা গেলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করার কথা অফিস আদেশে বলা হলেও রবিন ও রায়হান এখনো হলে অবস্থান করছেন।
শাখা ছাত্রলীগও তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। তবে শাখা ছাত্রলীগের সভাপাতি মো. জুয়েল রানা সংগঠন থেকে ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, কোনো অপরাধীর ছাত্রলীগে স্থান হবে না।
এদিকে চারজনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গত ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০৩তম সিন্ডিকেট সভায়। এর এক মাস পর গত সোমবার অফিস আদেশটি জারি হয়। সিন্ডিকেট সভায় কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর অফিস আদেশ জারি করতে এরকম দীর্ঘসূত্রিতাকে অনাকাঙ্খিত মনে করছেন ছাত্র সংশ্লিষ্টরা।
তবে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) রহিমা কানিজের দাবি, ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রমের ব্যস্ততার কারণে এমনটা হয়েছে।





