২০১৪ সালের ১৯ এপ্রিল প্রয়াত হন দেশের অন্যতম প্রথিতযশা সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক বশির আহমেদ। গুণী এই শিল্পীর চলে যাওয়ার পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবার প্রদান করা হলো ‘বশির আহমেদ সম্মাননা’।
আজ বশির আহমেদের ৮০তম জন্মদিন। তার জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় আয়োজন করা হয় ‘বশির আহমেদ সম্মাননা ২০১৯’।
এবার ছয়জন গুণী সম্মাননা পাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সংগীতশিল্পী হিসেবে ফেরদৌসি রহমান, সুরস্রষ্টা হিসেবে শেখ সাদী খান, গীতিকবি হিসেবে শহীদুল্লাহ্ ফরায়জী, যন্ত্রসংগীতশিল্পী হিসেবে চন্দন দাস, সাংবাদিকতায় নাসির আহমেদ এবং বিশেষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে সম্মাননা পাচ্ছেন মুস্তফা কামাল সৈয়দ।
সম্মাননা অনুষ্ঠানে বশির আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা পর্বে অংশ নেন- গুণী সংগীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী, গীতিকবি-চলচ্চিত্র নির্মাতা গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও সংগীতশিল্পী খুরশীদ আলম।
বশির আহমেদ সম্মাননা প্রদানের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীসহ শিল্প-সংস্কৃতি জগতের আরো অনেকেই। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক আজাদ রহমান। উপস্থিত ছিলেন বশির আহমেদের দুই সন্তান হোমায়রা বশির এবং রাজা বশির। অনুষ্ঠানের আয়োজক সারগাম সাউন্ড স্টেশন। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
১৯৩৯ সালের ১৮ নভেম্বর কলকাতার খিদিরপুরে জন্মগ্রহণ করেন বশির আহমেদ। তিনি দিল্লির সওদাগর পরিবারের সন্তান। তার বাবার নাম নাসির আহমেদ। ১৯৬৪ সালে তিনি সপরিবারের ঢাকায় আসেন।
ঢাকায় আসার আগেই উর্দু সিনেমায় গান গাওয়া শুরু করেন বশীর আহমেদ। রাগ সংগীতে তার দখল ছিল অচিন্তনীয়। ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁর কাছে তালিম নেন তিনি। ‘তালাশ’ সিনেমায় বিখ্যাত শিল্পী তালাত মাহমুদের সঙ্গে কাজ করেন তিনি। তার অনেক জনপ্রিয় গানের মধ্যে ‘অনেক সাধের ময়না আমার’, ‘আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো’ ‘খুঁজে খুঁজে জনম গেল’ প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।





