ভাঙাগড়ার দৌড়ে এগিয়ে জাতীয় পার্টি। পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিদায়ে ঢেউ লেগেছিল ভাঙনের। রাজনৈতিক ঝড়ের কবলে পড়েছিল দলটি। সাংগঠনিক অবস্থা আগে থেকেই ছিল এলোমেলো। এমন পরিস্থিতিতে পর্দার অন্তরাল থেকে বিশেষ নির্দেশনায় আপাতত পঞ্চম দফায় ভাঙন রোধ হয়েছে, থেমেছে ঝড়। ক্ষমতার চেয়ার আর সাংগঠনিক পদ ভাগাভাগির পর দলটি এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এরশাদের সম্পদ নিয়ে ভেতরে ভেতরে কিছু উষ্মা আছে পরিবারের মধ্যে।
জাপার চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বাংলাদেশের খবরকে বলেন, জাতীয় পার্টিতে নেতায় নেতায় দূরত্ব বা দ্বন্দ্ব নেই, তবে প্রতিযোগিতা আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন রংপুরের উপনির্বাচনের পর দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। জাতীয় কাউন্সিলের পর সংগঠন আরো শক্তিশালী হবে। আগামী ২১ ডিসেম্বর পার্টির জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আমরা পার্টিকে আরো শক্তিশালী করতে কাজ করছি। পার্টির কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে কাজ করছি। বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হোমওয়ার্ক করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবর্তমানে দলে যে শূন্যতা ছিল তা কাটিয়ে উঠে পার্টিকে সাধারণ মানুষের আরো কাছাকাছি নিয়ে যেতে চাই। সে চেষ্টাই চলছে।
গত ১৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর আগে থেকেই দলটিতে নেতৃত্বের লড়াই চলছিল। তাতে প্রতিযোগী হয়েছিলেন এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ এবং ছোট ভাই জি এম কাদের। নেতারা বিভক্ত হয়েছিল দুই শিবিরে। এরশাদের মৃত্যুর পরে দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। পার্টির চেয়ারম্যানের চেয়ার, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা, রংপুরে দলীয় প্রার্থী এবং এরশাদ গঠিত ফাউন্ডেশন নিয়ে দ্বন্দ্ব জোরালো হয়। জিএম কাদের ও এরশাদের অনুসারীরা নিজ নিজ শীর্ষ নেতাকে চেয়ারম্যান ঘোষণা দেয়। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার পদ চেয়েও ঘটে একই ঘটনা। দেশের রাজনীতি শীতল থাকলেও উত্তপ্ত হয় জাতীয় পার্টির আঙিনা। ভাঙে ভাঙে ভাবের মধ্যে দলের দুই গ্রুপই বিশেষ নেতার শরণাপন্ন হয়। তারই পরামর্শে আপাতত মিটে যায় বিরোধ, বণ্টন হয় দলীয় পদ আর সংসদের চেয়ার। জোটের তরফ থেকে ছাড় মিলে রংপুরের উপনির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার।
এদিকে সারা দেশের জেলা, মহানগর ও উপজেলা কমিটির হযবরল অবস্থা বিরাজ করছে দলটির। কোথাও কমিটির মেয়াদ শেষ, কোথাও আহ্বায়ক কমিটি আবার কোথাও রয়েছে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি। এই অবস্থার ইতি টানতে এবং সাংগঠনিক ভীত শক্তিশালী করতে গত ২০ আগস্ট ১০টি কমিটি গঠন করেন পার্টির চেয়ারম্যান। ঢাকা, সিলেট, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, রাজশাহীসহ ৮ বিভাগ, আন্তর্জাতিক নিয়ে গঠিত ৯ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করতে আরেকটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। এই ১০ কমিটির কার্যক্রমের জন্য এক মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়। বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হয়েছে ২০ সেপ্টেম্বর। এর মধ্যে কয়েকটি কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে। রংপুরের কমিটি এখন ব্যস্ত নির্বাচন নিয়ে।
দলের যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক এম এ রাজ্জাক বাংলাদেশের খবরকে জানান, ১০ কমিটির কাজ সম্পন্ন করতে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। গতকাল বুধবার সারা দেশে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্মেলন বা কাউন্সিল করে কমিটি পুনর্গঠন করতে।





