নাটোরের গুরুদাসপুরে লতিফা হেলেন মঞ্জুয়ারা (৩৫) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে গণধর্ষণের পর ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের গোপিনাথ পুর গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। আজ বুধবার সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এঘটনায় নিহত মঞ্জুর সাবেক স্বামী মমিনুলকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মঞ্জু আরা খাতুন উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত নাজিম উদ্দিনের মেয়ে এবং বৃ-কাশো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, নিহত মঞ্জুয়ারা বিয়ের ২ বছরের মাথায় এক সন্তান নিয়ে স্বামীর সাথে ছাড়াছারি হয়। বিবাহ বিচ্ছেদের পর প্রায় ১২ বছর ধরে মা মনোয়ারা বেগমের বাড়ী গোপিনাথপুরেই থাকতো মঞ্জুয়ারা। তার শিশু সন্তান স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে। নিহতের মা মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তার ভাইয়ের বাড়ীতে জমাজমি নিয়ে বৈঠক করতে যায়। মঞ্জুয়ারার মা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পরই প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়। বাড়ীতে কেউ না থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তরা মঞ্জুয়ারাকে একা পেয়ে গণধর্ষনের পর হত্যা করেছে।
দুবৃত্তরা ওই বাসায় ঢুকে তাকে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করে পাশের পুকুরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। বাড়ি ফিরে লতিফার মা গোটা বাড়িতে রক্ত দেখে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এসে খোজাখুজির এক পর্যায়ে বাড়ীর পাশে পুকুরের পানিতে মঞ্জুয়ারার বিবস্ত্র লাশ দেখতে পায়। পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
নিহত মঞ্জুয়ারার মা মনোয়ারা বেগম জানান, তিনি রাতে ভাইয়ের বাড়ী যাওয়ার সময় তার মামার বাড়ী থেকে রাতের খাবার নিয়ে এসে এক সাথে খাবে বলে যান। বৃষ্টির পর এসে দেখতে পায় তার বাড়ীর গেট খোলা। ঘরের ভিতরে মেয়েকে না পেয়ে বারান্দায় মেয়ের রক্ত মাখা কাপড় পড়ে থাকতে দেখে মেয়ের কল্লা কেটে নিয়ে গেছে ধারনা করে চিৎকার দিতে থাকেন। তার মেয়ে হত্যাকারীরে খুঁজে বেড় করে শাস্তির দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশের শরীরে কোন কাপড় ছিলনা। এতে ধারনা করা হচ্ছে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, মঞ্জু শিক্ষক হিসাবে খুবই ভাল ছিল। কাজে কখনও ফাঁকি দিতো না। তাকে মেরে ফেলার মতো কোন কারন তিনি জানেন না।
গুরুদাসপুর থানার র্ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মোজাহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক সুরত হালে দেখা গেছে তার মাথায় উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত, চোখে ও পেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার লাশটি বিবস্ত্র থাকায় ধারনা করা হচ্ছে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
এঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার সাবেক স্বামী মমিনুলকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকারী সনাক্তের চেষ্টা চলছে।





