গবেষণাকর্মে সফল জাবির দুই অধ্যাপক

গবেষণাকর্মে সফল জাবির দুই অধ্যাপক

ছিবি : সংগৃহীত

জাতীয়

গবেষণাকর্মে সফল জাবির দুই অধ্যাপক

  • জাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে সুনামের সঙ্গে অধ্যাপনা করছেন অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। পাশাপাশি একজন দক্ষ গবেষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই খ্যাতনামা গবেষক ‘প্লাজমা ফিজিক্সে’ অসামান্য অবদানের জন্য ‘জার্মান চ্যান্সেলর পুরস্কার’, ‘বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স’ গোল্ড মেডেলসহ দেশে-বিদেশে নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ডাস্টি প্লাজমা ফিজিক্সের ওপর তার এবং পিএস শুক্লার যৌথভাবে লিখিত ‘ইন্ট্রোডাকশন টু ডাস্টি প্লাজমা’ বইটি ‘ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্স, লন্ডন’ কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে। সর্বশেষ খ্যাতির ধারাবাহিকতায় এক অনন্য উচ্চতার মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। বাংলাদেশে কর্মরত প্রথম বিজ্ঞানী হিসেবে গুগল স্কলারের ১২ হাজার ‘স্কলারস সাইটেশনের’ মাইলফলক অতিক্রম করেছেন অধ্যাপক এএ মামুন। একজন গবেষকের সব গবেষণাকর্মের ‘সাইটেশন’ সংখ্যার যোগফলকে ওই গবেষকের ‘সাইটেশন ইনডেক্স’ বলে। সাইটেশন হচ্ছে যেকোনো তথ্যের তথ্যসূত্র। কোনো গবেষকের একটি গবেষণাকর্ম অন্য  যত গবেষণাকর্মে উল্লেখ হয়েছে, তাকে ওই গবেষণাকর্মের ‘সাইটেশন’ সংখ্যা বলে।

২০১৫ সালের মে মাসে গুগলের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানী এবং গবেষকদের গবেষণার সাইটেশন গুগল স্কলারে (ড়েড়মষব ঝপযড়ষধৎ ঈরঃধঃরড়হং চঁনষরপ চৎড়ভরষব) এই বাংলাদেশি বিজ্ঞানী এবং গবেষকদের নাম প্রবেশ করানো হয়। গুগল স্কলারের সর্বশেষ (৯ ফেব্রুয়ারি ’১৯) তথ্যমতে, অধ্যাপক মামুনের সাইটেশন সংখ্যা ১২ হাজার ১২টি। গবেষণা পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পদার্থবিজ্ঞান তো বটেই, অন্যান্য ডিসিপ্লিনেও বাংলাদেশে কর্মরত বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কেউ ১২ হাজার সাইটেশন লাভ করেছেন বলে তাদের জানা নেই। বিজ্ঞান গবেষণায় অধ্যাপক মামুনের এই অর্জন বাংলাদেশকে সফলতার সঙ্গে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং গবেষকদের গবেষণায় লেগে থাকতে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে তারা মনে করেন।

জানা গেছে, অধ্যাপক এএ মামুন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদার্থবিজ্ঞানের একজন খ্যাতনামা শিক্ষক ও গবেষক। ২০০৯ সালে তার সব গবেষণাকর্ম ও শিক্ষকতার স্বীকৃতিস্বরূপ জার্মানির এভিএইচ বেসেল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড (নগদ ৪৫ হাজার ইউরো এবং আজীবন জার্মানিতে অ্যাডভান্স রিসার্চের সুযোগ) পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন। পদার্থবিজ্ঞানে তার বিশাল অবদানের জন্য ২০০৬ সালে ইতালির ত্রিয়েস্তে থার্ড ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্স (টিডব্লিউএএস) ইয়াং সায়েন্টিস্ট প্রাইজ, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স গোল্ড মেডেল ২০১১ (সিনিয়র গ্রুপ) ও ২০০৪ (জুনিয়র গ্রুপ), বেস্ট ইয়াং ফিজিস্টি অ্যাওয়ার্ড ২০০০ (ত্রিয়েস্তে, ইতালি) লাভ করেন। তিনি এ পর্যন্ত চারশ’র বেশি প্রবন্ধ বিভিন্ন বিদেশি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করেছেন। বিশ্বের অনেক স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষকতার প্রস্তাব এলেও তিনি সেগুলো ফিরিয়ে দিয়ে দেশেই ফিরে আসেন। একনিষ্ঠভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন তার অধ্যাপনা ও গবেষণাকর্ম।

তরুণ বিজ্ঞানী ও গবেষকদের উদ্দেশে অধ্যাপক এএ মামুন বলেন, ‘আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের গবেষণা করতে বা করাতে হলে নিজ নিজ ক্ষেত্রের জার্নালগুলোর মান এবং পৃথিবীর অন্য গবেষকদের তুলনায় নিজের গবেষণাকর্মের মান জানাটা অতি জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বমানের গবেষণার পরিবেশ গড়ে তুলতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নামতে হবে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads