আব্দুল মান্নান পল্টন,ময়মনসিংহ ব্যুরো:
ঘড়ির কাটায় রবিবার রাত পৌনে ৮টা। নিকশ কালো অন্ধকার আকাশ। কুয়াশার চাদরে মুড়েগেছে জনপথ। শরীর কাপাঁনো শীত। ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত। থানার সামনের একটি চা’ষ্টলে প্রচন্ড ভীড়, দোকানের ভিতরে গফরগাঁও থানার ওসি ফারুক আহম্মেদের কর্মগুনের প্রশংসায় মগ্ন সবাই। এসময় সবার আলাপ চারিতা থেকে জানা য়ায় গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মানিক মিয়া (৫৫) নামের এক দিন মজুরকে সন্দেহ মুলক আটক করে গফরগাঁও থানা পলিশ। দীর্ঘ ১২ঘন্টা তদন্ত শেষে পরের দিন রবিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে গফরগাঁও থানার ওসি ফারুক আহম্মেদ মানিক মিয়ার হাতে এক হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে থানা লকাপ থেকে তাকে ছেড়ে দেয়। মানিক পাশ^বর্তী কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানা এলাকার বাসিন্ধা। তিনি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গফরগাঁও উপজেলা সদরের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃষিসহ বিভিন্ন কাজ করেন। দিন শেষে রেলওয়ে ষ্টেশনের টিনশেটের নিচে রাত্রী যাপন করেন।
জানা যায় দিনমজুর মানিক মিয়া শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে গফরগাঁও রেলওয়ে ষ্টেশনে ঘুমাতে গিয়ে ২০ বছর বয়েসী এক পোশাক শ্রমীক নারীকে কাঁদতে দেখেন। এসময় মানিকসহ স্থানীয় কয়েকজন তার কাছে গিয়ে কেন কাদছেন জানতে চাইলে মেয়েটি জানান ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার কারি লম্পট প্রেমীক তাকে ২ ঘন্টা আগে রেলওয়ে ষ্টেশনে বসিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে। মানিক ওই নারীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের সন্দেহ হলে তারা মানিককে আটক করে গফরগাঁও থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরের দিন সকালে ওই পোশাক শ্রমীক নারী ও তার বাবা মা ভাইসহ উভয় পরিবারের লোকজন থানায় এসে দিন মজুর মানিককে নিরপরাধ বলে নিশ্চিত করিলে মানিককে থানা লকাপ থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। রবিবার রাতে রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন একটি চা’ষ্টলেবসে কথা হয় দিন মজুর মানিক মিয়ার সাথে। এসময় মানিক জানান ভেবেছিলাম টাকা পয়সা ছাড়া পুলিশ আমাকে ছাড়বেনা। মিথ্যা অভিযোগে জেল হাজত খাঁটতে হবে। কিন্তু গফরগাঁও থানার ওসি ফারুক স্যার অসম্ভব সৎ ও মানবিক মানুষ। ওসি স্যার আমার কাছে একটি টাকাও দাবী করেনি। উল্টো আমার হাতে এক হাজার টাকা দিয়ে বলেছেন আজকে তুমি কাজ করতে পারনি তাই তোমার সংসারের খরচ বাবদ এক হাজার টাকা দিলাম। কাদঁতে কদঁতে কথাগুলো বলার সময় চায়ের দোকানে বসে থাকা ১০/১৫ জনতারা সবাই ওসি ফারুক আহম্মেদের বিভিন্ন কাজের উদাহারন সহ প্রশংসা করে জানালেন বেতনের অধিকাংশ টাকা অসহায় মানুষদের সেবা সহায়তা বাবদ খরচ করেন ওসি ফারুক। পৌর শহর সহ উপজেলার ক্রাইম জোন হিসেবে চিহৃিত স্পটগুলোতে প্রতিরাতে ওসি ফারুক সাহেবকে পুলিশের গাড়ি নিয়ে টহল দিতে দেখা যায়।
এসময় পাশে বসে থাকা গফরগাঁও উপজেলার চরমছলন্দ পূর্ব পাড়া মড়ল বাড়ির বাসীন্দা আলতাফ হোসেন ও কাঞ্চন এ প্রতিবেদককে জানান থানায় মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে ময়মনসিংহ কোটে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী। টাকার অভাবে কোর্টে হাজিরা দিতে না পেরে ঘটনাটি ওসি ফারুক স্যারকে জানালে তিনি আমাদেরকে মামলার হাজিরা দেয়ার জন্য দুই হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেছেন।
চায়ের দোকানদার কামরুল ইসলাম বলেন থানার সামনে গত ১৫ বছর ধরে চায়ের দোকান চালিয়ে আসছি। জীবনে এমন ওসি আর দেখিনি। প্রতিদিন আমার দোকানে চা পান খেতে আসা লোকজনের মুখে ওসি স্যারের প্রশংসা শুনি। এখন পর্যন্ত একটি মানুষের মুখেও ওসি ফারুক স্যারের বদনাম শুনা যায়নি।
তিনি যোগদানের পর থানা পুলিশের ঘুষ বানিজ্য, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই পুলিশ কর্তক মানুষ হয়রানি অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। এসময় কয়েকজন বলে উঠলেন ওসি ফারুক স্যারের অনেক রুপ। সেবা নিতে আসা প্রতিটি মানুষকে চাঁ বিস্কুট দিয়ে আপ্যায়ন করেন। আবার ক্ষেত্র বিশেষ কখনো কখনো তিনি কঠিনের চেয়েও কঠিন রুপ ধারন করেন। জানা গেছে গফরগাঁও পৌর শহর সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাট, বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়েও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে নাগরিকদের দায়িত্ববোধ ও করনিয় প্রসঙ্গে বিফিং করে থাকেন তিনি। নিয়মিত কমিনিউটি পুলিশের কার্যক্রম মনিটরিং করে। মসজিদে নামাজ আদায় শেষে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে পরামর্শমুলক কথা বলেও অনেক সুনাম কুড়িয়েছেন ওসি ফারুক।
সালটিয়া ইউনয়নের রৌহা গ্রামের বাসীন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দিদারুল ইসলাম ও শামছুল ইসলাম বলেনা এমন সৎ, ও মানবিক ওসি জম্মের পর দেখিনি । একটি কাজে ওসি ফারুক সাহেবেরে সাথে দেখা করতে থানায় গিয়েছিলাম, দেখা করে আসার পর থেকে পুলিশের প্রতি শ্রদ্ধা ভালবাসা ও বিশ^াস বেড়েগেছে ।
উপজেলার রৌহা গ্রামের বাসিন্দা মীর হোসেন বলেন গত মাসে ৩০ হাজার টাকাও অফার করেছিলাম ওসি সাহেবকে তিনি নেননি। কিন্তু সারা রাত তদন্তশেষে নিরপরাধ প্রমাণ হওয়ায় ভাতিজাকে টাকা ছাড়া ছেড়ে দেয়। গফরগাঁওয়ের যেখানেই যাই মানুষের মুখে ওসি ফারুক সাহেবের কর্মগুনের প্রশংসা শুনি । এত ভালো মানুষ থানার ওসি হয় আগে জানতামনা।
সময়ের ক্রাইমজোন হিসেবে আলোচিত জনপথ গফরগাঁও। থানার ওসি হিসেবে যোগদানের পর গফরগাঁও বাসীর সাথে ঘটিয়েছেন বিচক্ষণতার অপূর্ব সমন্বয়। বাজিমাত করেছেন একের পর এক সফলতা। যোগদানের এক সপ্তাহের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী ও দুস্কৃতকারিসহ মাঝারি থেকে গুরুতর অপরাধীদের গ্রেফতারে সাফল্যের নতুন রেকর্ড করেন তিনি।
জনগনের সাথে সৃষ্ট মেলবন্ধন গফরগাঁওয়ের লক্ষ লক্ষ মানুষের চোখে ছড়িয়ে দিয়েছেন আইন শৃঙ্খলা উন্নয়নের অমিত সম্ভাবনা। চাকুরির প্রথম বছরেই গফরগাঁওয়ের সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ের মানুষ হয়ে উঠেন তিনি। গফরগাঁও থানায় কর্মরত প্রতিটি পুলিশের মাঝে বুনে দিয়েছেন পেশাদারিত্বসহ দেশ প্রেমে বীজ।
চলমান বিএনপি জোটের আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ফারুক আহমে্দ বলেন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে জেলা পুলিশ সুপার এসপি মাসুম আহমেদ ভুঞা স্যার কঠোর দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েই তিনি জানান যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মত প্রস্তুতি সার্বক্ষনিক আমাদের আছে। গফরগাঁওয়ে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার মত কোন সুযোগ নেই। সকল প্রকার অপরাধ নিমুর্লের পাশাপাশি অন্যায়—অবিচারের ব্যাপারে সর্বোচ্চ কঠোরতার বার্তাও দিয়েছেন এসপি মাছুম আহম্মেদ স্যার।





