প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) আতঙ্কে সারা পৃথিবী যখন কাঁপছে, তখন বৈপ্লবিক এক আবিষ্কারের কথা জানালো বাংলাদেশের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। তারা সহজ ও সুলভ এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে, যার মাধ্যমে মাত্র ১৫ মিনিটেই করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করা যাবে। ভাইরাসটি শনাক্ত করার কিট উৎপাদনের অনুমোদনও পেয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। গতকাল বৃহস্পতিবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে আমরা সরকারের অনুমোদন পেয়েছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাজ্য থেকে কাঁচামাল দেশে পৌঁছাবে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আমরা কিট উৎপাদনে যাব।’ তিনি আরো বলেন, ‘কিট উৎপাদনের কাঁচামাল চীনের কাছেও আছে। তবে চীন বাণিজ্যিকভাবে কিট উৎপাদনের জন্যে কাঁচামাল বিক্রি করবে না বলে জানিয়েছে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উৎপাদন শুরু করলে দেশে কিট নিয়ে কোনো সংকট থাকবে না।’
এর আগে বুধবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এ কিট তৈরির ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে দাবি করা হয়, স্বল্পমূল্যের ওই কিট দিয়ে মাত্র ১৫ মিনিটে করোনা শনাক্ত করা সম্ভব। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ওই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন ড. বিজন কুমার শীল। ২০১৯ সালের নভেম্বরে চীনের উহানে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। এ ভাইরাসের টেস্ট কিট উৎপাদনের জন্য এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কাজ শুরু করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
পৃথিবীর অন্যান্য দেশ তাদের প্রয়োজনে করোনা ভাইরাসের কিট তৈরি করলেও বাংলাদেশে এমন কাজ অন্য কেউ এখনো করেনি। গণস্বাস্থ্যের সুদক্ষ টিম এই কিটের ডিজাইন এবং উৎপাদন করার কাজ করছে। এর আগে ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের ডায়াগনোসিস কিট (ঝঅজঝচঙঈ শরঃ) তৈরির সময় সিঙ্গাপুরে কাজ করেছেন ড. বিজন কুমার শীল। তিনিই গণস্বাস্থ্যের এই টিমের অধিনায়কত্ব করছেন।
আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে নতুন কিটে ভাইরাস শনাক্ত করা যাবে। এর জন্য স্পুটাম নেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রথমে সন্দেহজনক ব্যক্তির রক্তের নমুনা নেওয়া হবে। সেই রক্ত থেকে ‘সিরাম’ আলাদা করতে হবে। কিটে সেই সিরাম রেখে তার ওপর এন্টিজেনের বিক্রিয়া ঘটানো হবে। যদি বিক্রিয়া হয় তাহলে সন্দেহজনক ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসের প্রাথমিক উপস্থিতি রয়েছে বলে প্রমাণ হবে। বিক্রিয়া না করলে তিনি আক্রান্ত নন বলে বিবেচিত হবে।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘কিটটি দিয়ে রোগী নিজেই নিজের পরীক্ষা করতে পারে। এখানে ছোট যন্ত্র থাকে যাতে রক্তের নমুনা মিশিয়ে পরীক্ষা করা হয়, ওটা হলো কিট। করোনার যে কিটটি আছে, এটি ছোট যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করা যায় না। এর জন্য পিসিআর লাগে। এই পিসিআরের দাম ৫০ লাখ টাকা। এর জন্য বিশেষজ্ঞ লোকজনও লাগে। এই পরীক্ষা করতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। দুই থেকে পাঁচদিন সময় লাগে।’ উল্লেখ্য, বর্তমানে সরকারিভাবে একটি পরীক্ষা করতে ব্যয় হয় প্রায় ৫ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এই পদ্ধতির বৈপ্লবিক দিক হলো, আমরা ১৫ মিনিটের মধ্যে বলে দিতে পারব কারো করোনা হয়েছে কিনা। রোগটি নির্ণয় করে দিতে পারব। এজন্যই সারা পৃথিবীর আগ্রহের কেন্দ্রে চলে এসেছে গণস্বাস্থ্যের এই আবিষ্কার। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এখন গণস্বাস্থ্যের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’





