খুলনা বিভাগের আট আসন ঝুঁকিতে

সংগৃহীত ছবি

নির্বাচন

খুলনা বিভাগের আট আসন ঝুঁকিতে

  • খুলনা ব্যুরো
  • প্রকাশিত ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮

খুলনা বিভাগের সংসদীয় আটটি আসনকে সাম্প্রদায়িক ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই আটটি আসনে জামায়াত-শিবিরের অবস্থান অত্যন্ত শক্ত থাকায় কেন্দ্রগুলোতে সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। খুলনা বিভাগের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মোট ১৬টি আসনে সহিংসতা রোধে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। পাশাপাশি এসব আসনে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনে ৭৮৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫২৫টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে ২০-দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী মোট ৮ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে খুলনা-৫ আসনে প্রার্থী হয়েছেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-৬ আসনে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (বর্তমানে কারাগারে), বাগেরহাট-৩ আসনে অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ আসনে অধ্যক্ষ আবদুল আলীম, সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাদ্দিস আবদুস খালেক (বর্তমানে কারাগারে), সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, ঝিনাইদহ-৩ আসনে মতিয়ার রহমান এবং যশোর-২ আসনে আবু সাঈদ মোহান্মাদ শাহাদত হোসাইন। এসব আসনে প্রতিদিনই পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং পুড়িয়ে দেওয়া, মাইক ভাঙচুর, মারামারি ও বোমা হামলার মতো ঘটনা ঘটছে। ফলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এই ৮টি আসনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অপরদিকে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিভাগের ১৬টি আসনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে বলা হয়েছে। এই আসনগুলো হচ্ছে ঝিনাইদহ-১, ঝিনাইদহ-৩, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-২, যশোর-৪, যশোর-৫, যশোর-৬, মাগুরা-২, বাগেরহাট-১, বাগেরহাট-২, বাগেরহাট-৩, খুলনা-৫, খুলনা-৬, সাতক্ষীরা-২, সাতক্ষীরা-৩ ও সাতক্ষীরা-৪।

এ ব্যাপারে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত খুলনা বিভাগের ১৪টি সংসদীয় আসনকে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। সহিংসতার শিকার মানুষের নিরাপত্তা ও ত্বরিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি বসানোর দাবি করেছি।

খুলনার ৬ আসনের ৭৮৬ কেন্দ্রের মধ্যে ৫২৫টিই ঝুঁকিপূর্ণ : এদিকে খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনের ৭৮৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫২৫টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ, যা মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় ৬৭ শতাংশ। তবে পুলিশ বলেছে, এসব ভোটকেন্দ্রে সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় ‘ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র’ হিসেবে থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ৭৮৬টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় থাকবে মোট সাড়ে ১২ হাজার পুলিশ ও আনসার।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) সোনালী সেন বলেন, প্রাথমিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন করে পুলিশ এবং সাধারণ প্রতিটি কেন্দ্রে ৩ জন করে পুলিশ মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী পুলিশের সংখ্যা চূড়ান্ত করা হবে। তিনি জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশদ্বারগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads