তিতাস চক্রবর্তী, খুলনা প্রতিনিধি :
খুলনা নগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে খুলনা নগরী থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরীর খুলনা অঞ্চলের প্রধানসহ সক্রিয় ৪ (চার) জন সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে ৪টি ল্যাপটপ, ৬টি মোবাইল ফোন, ২টি পেনড্রাইভ, ১টি এটিএম কার্ড এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন 'হিজবুত তাহরীর' সংশ্লিষ্ট উগ্রবাদী বই, লিফলেট ও জঙ্গি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস।
গ্রেপ্তারকৃতরা হল-কুষ্টিয়া জেলা সদরের মোঃ আতিয়ার রহমানের পুত্র মোঃ আনিসুর রহমান ওরফে রুহুল আমিন রকি(৩৬), নড়াইল জেলার পাশা উপজেলার শেখ মহিউদ্দিনের পুত্র মোঃ শাকিল আহম্মেদ(২৬), পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মোঃ আজম খানের পুত্র মোঃ রিজভী আজিম খান (২৭) ও ঝিনাইদহ জেলার সদরের মৃত মতিয়ার রহমানের পুত্র মেহেদী হোসেন সালিত(২৪)।
রবিবার দুপুরে নগর পুলিশের কমিশনার মোঃ মোজাম্মেল হক, বিপিএম (বার), পিপিএম-সেবা প্রেস ব্রিফিংকালে এসব কথা জানান।
পুলিশ কমিশনার জানান, আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে এবং উদ্ধারকৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ডকুমেন্ট পর্যালোচনায় জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ খুলনা অঞ্চলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিজবুত তহারীর এর নীতি আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছিল, মূলত তারা প্রচলিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও সংবিধান মানে না। এ লক্ষ্যে তারা সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবি পর্যায়ে এবং বিশেষত স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষর্থী, কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং সমাজের মেধাবী মানুষদের উগ্রবাদী আদর্শে প্রভাবিত করে জঙ্গি কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রচলিত রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দিয়ে শতাভাগ ধর্ম ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়।
এদের মধ্যে ০১) মোঃ আনিসুর রহমান রুহুল আমিন রকি(৩৬), মূলত খুলনা অঞ্চলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিজবুত তাহরীরের কার্যক্রম প্রচার প্রসারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার বাবা ধান-চাল ব্যবসায়ী। সে ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ঢাকা এর ফার্মেসী বিভাগ হতে অর্নাস সম্পন্ন করেন। এরপর জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে যায়। ইতোপূর্বেও ২০১১ ও ২০১৩ সালে গুলশান থানা এবং ২০১৫ সালে ভাটারা থানা কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে যথাক্রমে ০৩, ০৭ ও ১৩ মাস কারাভোগ করে মোঃ আনিসুর রহমান। তার সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে নির্দেশনা গ্রহণপূর্বক জুম মিটিং ও গোপন বৈঠকের মাধ্যমে কর্মী সংগ্রহ এবং রাষ্ট্র বিরোধী তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। অপর আসামি মোঃ শাকিল আহম্মেদ(২৬)। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরাকারি কর্মচারী। বিগত ০৬/০৭ মাস যাবৎ তিনি হিজবুত তাহরীর সঙ্গে জড়িত আছেন বলে জানা যায়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ হতে অর্নাস ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন।
আসামি মোঃ রিজভী আজিম খান(২৭)। বাবা প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরী করেন এবং মা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। বিগত ০৬/০৭ মাস যাবৎ তিনি হিজবুত তাহরীর সঙ্গে জড়িত আছেন বলে জানা যায়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ হতে অনার্স সম্পন্ন করেছেন রিজভী আজিম খান। বর্তমানে তিনি সরকারি শিক্ষক হিসেবে প্যারেন্টন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সোনাডাঙ্গায় কর্মরত আছেন।
আসামি মেহেদী হোসেন সালিত(২৪। মাতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষিকা। বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে অধ্যয়নরত আছেন।
উল্লেখ্য যে, মোঃ আনিসুর রহমান রুহুল আমিন রকি(৩৬) এর সাথে ০৬/০৭ মাস আগে মোঃ শাকিল আহম্মেদ(২৬), মোঃ রিজভী আজিম খান(২৭) ও মেহেদী হোসেন সালিত(২৪) গণের পরিচয় ঘটে। এরপর থেকেই তার নির্দেশনায় উল্লেখিত আটক ব্যক্তিগণ জুমসহ বিভিন্ন অ্যাপস্ এবং প্রটেকটিভ টেক্সটের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিজবুত তাহরীর এর জন্য সদস্য সংগ্রহ ও জঙ্গিবাদের প্রশিক্ষন চালিয়ে যাচ্ছিলো। এদের বিরুদ্ধে হরিণটানা থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।





