খালেদার জিয়ার প্রার্থীতা নিয়ে রিট শুনানি দুপুরে

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া

সংগৃহীত ছবি

আইন-আদালত

খালেদার জিয়ার প্রার্থীতা নিয়ে রিট শুনানি দুপুরে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮

প্রার্থীতা ফেরত পাওয়া নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রিট নিস্পত্তির জন্য বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চে আজ দুপুরে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।  খালেদা জিয়ার পৃথক রিট শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য গতকাল বিকেলে প্রধান বিচারপতি এই বেঞ্চ ঠিক করে দিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী এ কে এম এহসানুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার রিট তিনটি শুনানির জন্য ১, ২ ও ৩ নম্বরে রাখা হয়েছে। দুপুর ২টায় এর ওপর শুনানি হতে পারে। 

গত মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের ডিভিশন বেঞ্চ খালেদা জিয়ার পৃথক তিন রিটের ওপর বিভক্ত আদেশ দেন। সিনিয়র বিচারপতি রুল দিয়ে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিতের আদেশ দেন। বেঞ্চের ওপর বিচারপতি মো. ইকবাল কবির এতে দ্বিমত পোষণ করেন। বিভক্ত এ আদেশের নিষ্পত্তির জন্য বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। গত মঙ্গলবার দুপুরে হাইকোর্টের আদেশসহ নথিপত্র প্রধান বিচারপতির দফতরে পৌঁছায়। গতকাল সকালে ওই নির্দেশ দিয়ে নথিপত্র হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে ফেরত পাঠানো হয়। সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ সংক্রান্ত হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশের কপি ফেরত পাঠিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

তৃতীয় বেঞ্চ গঠন সম্পর্কে খালেদা জিয়ার কৌঁসুলি ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বলেন, আমরা রিটের শুনানিতেই বলেছি, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৬ (২) (ঘ) রিট আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদালত বলতে বিচারিক আদালতের রায় হবে না। কারণ বিচারিক আদালতের রায়ই চূড়ান্ত নয়। আরো দুটি পর্যায় রয়েছে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির জন্য। সর্বোচ্চ আদালতে দণ্ডিত ও সাজা না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই। দুটি মামলায় বিচারিক আদালতে সাজা হয়েছে। একটিতে হাইকোর্টে সাজা হয়েছে। কিন্তু দণ্ড ও সাজা চূড়ান্ত হবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। যেহেতু রিট আবেদনকারী (খালেদা জিয়া) ইতোমধ্যে আপিল করেছেন এবং এ আপিল বিচারাধীন সেহেতু তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য। আমাদের এ যুক্তির শুনে হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ বিভক্ত রায় দেন। এতে বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়। মীমাংসার জন্য প্রধান বিচারপতি জেবিএম হাসানকে নিয়ে তৃতীয় বেঞ্চ গঠন করেন। আশা করছি এই বেঞ্চে  আমরা ন্যায়বিচার পাব। খালেদা জিয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৩ আসনের মনোনয়নপত্রই বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এর বিরুদ্ধে করা আপিল ৮ ডিসেম্বর নামঞ্জুর করে ইসি। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গত রোববার আলাদা তিনটি রিট করেন খালেদা জিয়া।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তৃতীয় বেঞ্চ গঠন সম্পর্কে বলেন, দ্বৈত বেঞ্চের কোনো আদেশ অমীমাংসিত থাকলে নিয়মানুযায়ী তৃতীয় বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি। আজ (বুধবার) হাইকোর্টের একজন বিচারপতিকে দিয়ে বেঞ্চ গঠন করেছেন। ওখানেই এটির নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রিট প্রসঙ্গে সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ)  অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ রিটটিই চলতে পারে না। দণ্ডিতরা আপিল করে স্থগিতাদেশ পেল আর নির্বাচনে অংশ নিল এটা সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) এর পরিপন্থি। এখন এ রিটেও যদি আবেদনকারীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয় তাহলে সেটা হবে সংবিধানের লঙ্ঘন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads