কেরানীগঞ্জে হাসনাবাদ এলাকার স্যোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক লিঃ থেকে নকল রেমিটেন্স পেমেন্ট স্লিপের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতি চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। গাজীপুর ও ডিএমপি ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৩৮ হাজার টাকা, ৮টি রিয়া স্লিপ, ১২ টি ইসলামি ব্যাংকের ক্যাশ মেমো ও ৭ টি এনআইডি কার্ডের ফটোকপি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, রিপন মিয়া ওরফে হোন্ডা রিপন (৩৮), রহিম মুন্সি (২৮), মোঃ জুয়েল (৩১), আসাদুজ্জামান স্বপন (৫৫) ও কুলসুম বেগম (৪০)। রবিবার দুপুরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন কবীরসহ আরো অনেকে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, গত ৩ মে ২০২৩ তারিখে বেলা ১১ টা থেকে ১২ টার মধ্যে মহিলাসহ ৭/৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজন করে ইসলামি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বোকা বানিয়ে ৫টি জাল রিয়া রেমিটেন্স স্লিপের মাধ্যমে সর্বমোট ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৭ শত ৭০ টাকা প্রতারনামূলক ভাবে উত্তোলন করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১২ মে ২০২৩ তারিখে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানায় সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত ব্যাংকের সিসি টিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে ২ জন মহিলা ও ৩ জন পুরুষকে সনাক্ত করা হয়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামীদের গতিবিধি ও অবস্থান সনাক্ত করে ধারাবাহিক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা জানায় তারা দীর্ঘ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা হতে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে আসছিল।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, এ পর্যন্ত ৫ টি ব্যাংকের ১১ টি শাখার প্রায় ৭০ লাখ টাকা নকল রেমিটেন্স পেমেন্টে স্লিপের মাধ্যমে জাল জালিয়াতি করে টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। তাই এই ধরনের জাল জালিয়াতি রুখতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের আরো সচেতন হওয়ারও আহবান জানান পুলিশ সুপার।





