এবার এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার

এবার এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৭ মার্চ, ২০২১

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দেয় সরকার। এটাকে একসময় স্বপ্ন মনে করা হলেও বর্তমানে তা অনেকটাই বাস্তব। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ গ্রহণে কাজ করছে সরকারের সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ব সভ্যতাকে নতুন মাত্রা দিতে যাচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে দেশে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার এবং একই সঙ্গে উৎপাদন ও সেবা প্রদানের স্তর বিলুপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদি তাই হয়, তাহলে ক্ষেত্রবিশেষে কর্মহীনতার আশঙ্কা  রয়েছে। এসবকেই চ্যালেঞ্জ মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে সব পর্যায়ে দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টির জন্য যুগোপযোগী দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি উদ্ভাবন, কারিকুলাম প্রণয়ন, প্রশিক্ষণের মান পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় সাধন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারের চাহিদা বিবেচনায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক পেশাগত প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের মাধ্যমে শ্রমশক্তির দক্ষতা বাড়ানোর জন্য কাজ করছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)।

তারা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে কর্মকৌশল নির্ধারণে কাজ করছে। এ জন্য দফায় দফায় বৈঠক করে কর্মপদ্ধতিও ঠিক করা হয়েছে। এনএসডিএ মনে করে, তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের শেষ পর্যায়ে বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে তৈরি পোশাকশিল্পের প্রসার এবং প্রবাসে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অদক্ষ এবং স্বল্প দক্ষ শ্রমশক্তির কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে শিল্পে অটোমেশন বা রোবাট ব্যবহূত হচ্ছে- যা কর্মীকে প্রতিস্থাপন করবে। এতে শিল্পপণ্য ও সেবা উৎপাদন ব্যয় কমবে। ব্যাপক সংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়তে পারে। তবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উদ্ভবে ব্যবসা করার জন্য বুদ্ধিমত্তা এবং সমন্বিতভাবে কাজ করা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ অবস্থায় ইনোভেশন নিয়ে পৃথিবীব্যাপী ব্যবসা করার সুযোগ গ্রহণেরও সময় এসেছে। তবে এর সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ দুটোই রয়েছে।

সরকার তথা এনএসডিএ মনে করে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে বাংলাদেশ পাঁচটি সুবিধা পাবে। প্রথমত এটি বুদ্ধিবৃত্তিক হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক স্থানে আবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। দ্বিতীয়ত, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ক্রস কাটিং হওয়ায় সবাইকে  প্রভাবিত করবে। তৃতীয়ত, পণ্য ও সেবা উৎপাদনের টুলস ব্যবহার করে কাঁচামাল, মানব সম্পদ, সময় ইত্যাদির সর্বোত্তম ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, পরিবেশ সুরক্ষাসহ সর্বোপরি সবার জন্য মানসম্মত জীবনযাপনের ব্যবস্থা নিশ্চিতসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করবে। চতুর্থত, অনগ্রসর, প্রান্তিক, বিশেষভাবে সক্ষম ও নারীদের ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন টেকনোলজিতে দক্ষ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। পঞ্চমত, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব সহজাত প্রবৃত্তি সম্পন্ন কাজকে প্রতিস্থাপন করবে না বলে  সেখানে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

এনএসডিএর মতে, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় চ্যালেঞ্জ দুটি। একটি হচ্ছে দেশের সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। অপরটি হচ্ছে, শিল্পবিপ্লবের কারণে উৎপাদন ও সেবা প্রদানের স্তর বিলুপ্ত হতে পারে। ফলে ক্ষেত্রবিশেষে কর্মহীনতার সম্ভাবনা রয়েছে। এ দুটিকেই চ্যালেঞ্জ মনে করে সরকার সংশ্লিষ্টরা।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনএসডিএ৬টি অভিমত দিয়েছে। এগুলো হলো প্রথমত, শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের আপ-স্কিলিং এবং রি স্কিলিংয়ের প্রয়োজন পড়বে। বিকল্প পেশায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে কার্যকর প্রশিক্ষণ এবং সনদায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ। দ্বিতীয়ত, আগামী পাঁচ বছরে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে অন্তর্ভুক্ত করে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা। তৃতীয়ত, অগ্রাধিকার পেশা চিহ্নিত করে শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী অকুপেশন নির্বাচন কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড কোর্স এক্রিডিটেশন ডকুমেন্ট, কারিকুলাম, সিবিএলএম, অ্যাসেসমেন্ট টুলস ও কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ম্যানুয়েল প্রণয়ন, প্রশিক্ষক তৈরি, অ্যাসেসর তৈরি, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনকরণ- ইত্যাদি সম্পৃক্তসহ সব ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ধারণা অন্তর্ভুক্ত করা।

চতুথর্ত, মাস্টার ট্রেইনার পুল তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে প্রশিক্ষকদের বিদেশে যেমন ভারত, চীন, তাইওয়ানে পাঠাতে হবে। অথবা এসব দেশ থেকে প্রশিক্ষক এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। পঞ্চমত, শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য আইএসসি শিক্ষাবিদ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, এফবিসিসিআই, এমসিসিআই, ডিসিসিআইসহ বেসরকারি খাতে ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সহায়তা গ্রহণ করা। ষষ্ঠত, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বা সংস্থায় চতুর্থ শিল্পবিপ্লববিষয়ক ফোকাল পয়েন্ট ও বিকল্প ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নির্ধারণ করা।

এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞানচর্চার কোনো বিকল্প নেই। পেছনের তিনটি শিল্পবিপ্লবে আমরা পিছিয়ে পড়লেও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে বাংলাদেশ বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে। বিজ্ঞানমনস্ক জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অভিলক্ষ্য ঘোষণা দেন ২০০৮ সালে। ভারত এমনকি ব্রিটেনে এ  ঘোষণাও এসেছে আরো পরে। আমাদের মেধাবী সন্তানেরা বিশ্বের বহুস্থানে স্থাপত্য-নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে সমানতালে চলার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই মেধা গঠন ও বিজ্ঞানচর্চার উত্তরোত্তর প্রসার একান্ত প্রয়োজন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads