কক্সবাজারের উখিয়া থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে সদর বিটের আওতাধীন রাজাপালং ইউনিয়নের জারাইলতলি এলাকায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী দল প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নির্বিচারে পাহাড় কেটে বালু উত্তোলন করছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ছাব্বির আহমদ, নুর মোহাম্মদ বলি, আলমগীর, হেডম্যান ইব্রাহিম, বাবুল, বার্মাইয়া কাশেম, ফজর রহমানের ছেলে কাশেম, ইসমাঈল, হাসান আলী, চেংখোলা গ্রামের ডাম্পার মালিক আলমগীরসহ প্রায় ১৮-২০ জনের একটি প্রভাবশালী দল এই অবৈধ বালি উত্তোলনের সাথে যুক্ত।
প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসী জানে আলম, দুদু মিয়া ও শফি আলম সহ একাধিক লোকজন জানান, প্রভাবশালী দলটি এসব অবৈধ পাহাড় কাটা বালি সরবরাহের জন্য স্থানীয় লোকজনের জমিজমা, বসতভিটা ও পাহাড় কেটে গাড়ী যাওয়ার রাস্তা করছে। তাদের এই বালি উত্তোলনের টার্গেট ছোট খাল ও বড় খাল পর্যন্ত বলে জানা গেছে।
প্রতি নিয়ত শত শত গাড়ি বালি উত্তোলনের ফলে মারাত্মক পরিবেশ দূষনের ফলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে উপনীত হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
এনজিও সংস্থা টিকার এক কর্মকর্তার জানান, উখিয়া সদর থেকে প্রায় ৮কিলোমিটার দক্ষিণে যেখানে জীববৈচিত্র্য থাকার কথা সেখানে বালু উত্তোলনের মহোৎসব দেখে এলাকাবাসী হতবাক হয়ে গেছে। তারা বলছে পাহাড় কাটা, বনভূমি দখল, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও ধুলোবালির কারণে এলাকার পরিবেশ দূষণের ব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নাজেহাল হতে হয়।
উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা তারিকুর রহমানের কাছে অবৈধ বালি উত্তোলনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লোকবল সংকটের কারণে প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও উখিয়ার বনবাগান সৃজন ও উন্নয়নের লক্ষ্যস্থলে পৌছানো যাচ্ছে না। এলাকার কিছু দুর্বৃত্ত পাহাড় কেটে মাটি ও বালি পাচার করছে। এ ব্যাপারে বেশ কয়েকটি মামলাও করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, গত সপ্তাহে উখিয়া সহকারি কমিশনার ভূমি আমিমুল এহসান খানের নেতৃত্বে সহকারি বন সংরক্ষক, পুলিশ, আনসার ব্যাটালিয়ান ও বনকর্মীসহ অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী কোর্টবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫টি স মিল উদ্ধার করেছে।
একই ভাবে বালি উত্তোলনের ব্যাপারে যতদ্রুত সম্ভব মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।





