সরকার থেকে দলকে আলাদা করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ৯ মন্ত্রীর নাম। বাদ যাওয়া মন্ত্রীরা হলেন- গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম (সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক), বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি (সাবেক অর্থবিষয়ক সম্পাদক), নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক), পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম (সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক), শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী (সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক), ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ (সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক) এবং নারী ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা (সাবেক নারীবিষয়ক সম্পাদক)।
এ ছাড়া, শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান বিগত কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য থাকলেও বর্তমান কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন। এরপরও চারজন মন্ত্রী কমিটিতে রয়ে গেছেন। তারা হলেন- ওবায়দুল কাদের, হাসান মাহমুদ, আবদুর রাজ্জাক ও ডা. দীপু মনি।
এ ছাড়া বাদ পড়েছেন- বিগত কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য রাজশাহী সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে সিমিন হোসেন রিমি; র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক ভিপি আখতারুজ্জামান, অধ্যাপক রাফিকুল ইসলাম ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান।
১১ উপদেষ্টা পদ ঘোষণা করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। কার্যনির্বাহী সংসদের ফাঁকা ৩৯ পদের মধ্যে ছিল- সম্পাদকীয় ৫, সাংগঠনিক ৩, কোষাধ্যক্ষ, উপদপ্তর, উপপ্রচার ও কার্যনির্বাহী সদস্যের ২৮টি পদ। বৃহস্পতিবার যে ৩২ পদে নাম ঘোষণা করা হয়েছে, তারা হলেন- অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসেকা আয়েশা খান (নতুন মুখ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ (নতুন), শ্রমবিষয়ক সম্পাদক পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন হাবিবুর রহমান সিরাজ।
সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন ও কুলাউড়ার সফিউল আলম চৌধুরী নাদেল (নতুন)। আফজাল বিদায়ী কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন। উপদপ্তর সম্পাদক- ছাত্রলীগের গত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সায়েম খান (নতুন), উপপ্রচারে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন আমিনুল ইসলাম আমিন।
কার্যনির্বাহী সদস্য- আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন (নতুন), খ ম জাহাঙ্গীর (নতুন), নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, বদর উদ্দীন আহমদ কামরান, দীপঙ্কর তালুকদার, অ্যাডভোকেট মো. আমিরুল আলম মিলন, রাজশাহীর আখতার জাহান (নতুন), হবিগঞ্জের ডা. মুশফিক (নতুন), অ্যাডভোকেট এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছার, মেরিনা জাহান কবিতা, পারভীন জামান কল্পনা, রংপুরের হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া (নতুন), লালমনিরহাটের অ্যাডভোকেট সফুরা খাতুন (নতুন), ঢাকার অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম (নতুন), আনোয়ার হোসেন, আনিসুর রহমান (নতুন), সাহাব উদ্দিন ফরাজী (নতুন), ইকবাল হোসেন অপু, মো. গোলাম কবীর রাব্বানী চিনু, মারুফা আক্তার পপি, উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং ও গেণ্ডারিয়া সরকার ঝর্ণা (নতুন)।
সূত্র জানায়, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তাদের সম্পর্কে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সে সময় মন্ত্রীপরিষদে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। উল্লেখ্য, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন। ৮১ সদস্যের কমিটিতে এখনো সাতটি পদে কারো নাম ঘোষণা করা হয়নি। সেই পদগুলো হলো- সাংগঠনিক সম্পাদক, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক, শিল্প-বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ এবং তিনজন নির্বাহী সদস্য। গত ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটির ৪২ জনকে নির্বাচিত করা হয়।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নবমবারের মতো দলের সভাপতি এবং ওবায়দুল কাদেরকে দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করা হয়।





